চট্টগ্রামে হিন্দু নারীর শেষকৃত্য হল ‘হুজুরদের’ কাঁধে চড়ে, কাছে আসেনি স্বজনরা

0
23

চট্টগ্রাম প্রতিদিন:

হিন্দু না ওরা মুসলিম এই জিজ্ঞাসে কোন জন হে, কাণ্ডারি বল ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা’র’— সাম্যবাদী কবি কাজী নজরুলের কবিতার এই দুটো লাইন যেন ঘুরে ফিরে আবারও সামনে আসছে করোনাকালে। আত্মীয়স্বজন, জাতপাতের প্রচলিত ধারা ভেঙ্গে বিপদে শুধুমাত্র মানুষ পরিচয়ে মানবিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর শত গল্প গত বছর জুড়ে দেখছে বাংলাদেশ। যার তালিকায় নতুন এক মাত্রা দিল চট্টগ্রামের টিম আল মানাহিল।

এক হিন্দু নারীর দাহ প্রক্রিয়ায় আল মানাহিলের সদস্যদের আন্তরিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে ওই নারীর ভাইপো নিরুপম দাশের দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস যেন আবারও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে নজরুলের কবিতার ওই দুই লাইনকে। নিরুপম দাশ পেশায় একজন চিকিৎসক। তিনি চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) প্রধান প্রশাসকও।

শুক্রবার (৭ মে) নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেয়া ওই পোস্টে নিরুপম দাশ নিজের অনুভূতি তুলে ধরেছেন ঠিক এইভাবে— ‘গতকাল আমার মাকে (পিসিকে তিনি মা সম্বোধন করেছেন) গোসল করাইছে, কাপড় পরাইছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জামে মসজিদের পাশের একটা রুমে খালারা। লাশ বহন করেছে, পুরো দাহ করার সময় উপস্থিত ছিলেন দুই জন হুজুর। সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত সঙ্গে ছিলেন তারা। যেখানে আমাদের আত্মীয়-স্বজন ছিলেন না, সেখানে তারা দুইজন অন্য ধর্মের হয়েও সাথে ছিলেন। আমার সহকারীসহ। আল মানাহিল ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’

অল্প সময়ের মধ্যেই ফেসবুকে ভাইরাল হয় সেই পোস্ট। যদিও আল মানাহিলের এমন কাজ এবারই প্রথম নয়। পরিবারের কাউকে ছাড়াই এমন অনেক লাশ তারা করোনাকালে দাফন করেছেন। লাশের পরিচয় বা ধর্ম জানলে তারা সেই অনুযায়ী দাফন করেছেন এমন উদাহরণও চট্টগ্রামে দেখিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আল মানাহিল।

স্বজন ছাড়াই অন্য ধর্মের লাশের শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছেন সংগঠনের সদস্য আসাদুল্লাহ, ইসমাইল ও আবদুল্লাহ। তারা তিনজনই মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছেন। মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় এখন আল মানাহিল টিমের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন তারা।

 

আগেদুনিয়ার পরিকল্পনা আসমানি ফয়সালায় সম্পূর্ণ উল্টে যায়
পরেভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে বাংলাদেশে