
আখতারুল আলম:
বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তির বাজারে দীর্ঘদিন ধরে আকাল চলছে ৷ মারাত্মক সমস্যার ব্যাপার হচ্ছে এ দেশে যারা দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতে পারেন না , তাদেরকে রাজাকার ট্যাগ দেয়া হয় ৷ ট্যাগ দেয়া হয় জামায়াত-শিবির হিসাবে ৷ বস্তুত অন্ধভাবে ভারতীয় আধিপত্যের ও তদনুরূপ মানসিকতায় আত্মসমর্পন না করলে এ দেশে বুদ্ধিজীবী বা প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা দুরূহ ব্যাপার ৷ আমাদের দেশে যারা সত্যিকার অর্থে দেশকে উঁচুতে তুলে ধরতে চান বা দেশের স্বকীয়তাকে ধারণ করেন তাদেরকে নানা ধরনের হয়রানি পোহাতে হয় ৷ ভাগ্যক্রমে সলিমুল্লাহ্ খানের বয়স কিছুটা বেশি নয় ৷ নইলে হয়ত বা এতোদিনে তিনিও রাজাকার হিসাবে আখ্যায়িত হতেন ৷ তাঁর অপরাধ তিনি অন্ধভাবে ভারতীয় দাদাদের বমি হজম করতে নারাজ ৷ অধিকন্তু অত্যন্ত সাহস , সততা ও নির্মোহভাবে এ বাংলার আপামর জনগণ বিশেষত মুসলিম জনগণের প্রতি ভারতীয় ও পশ্চিমবঙ্গীয় দাদা বাবুদের যুগ পরম্পরায় লালিত ঘৃণাগুলো অত্যন্ত সাবলীল ও নিঃসংকোচে টক শো ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরছেন দীর্ঘদিন ধরে ৷ যে টক শোতে তিনি উপস্থিত থাকেন সেখানে অন্য প্রতিপক্ষ যত বড় প্রতিথযশাই হোক না কেন তার সম্মুখে সবাই ম্রিয়মান হতে বাধ্য ৷ বর্তমান বাংলাদেশে তাঁর সম্মুখে সাবলীলভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন এ ধরনের বুদ্ধিজীবী দ্বিতীয় আরেকজন আছেন কিনা সন্দেহ হয় ৷ এমন কোনো বিষয় নেই যে বিষয়ে তিনি সুচারুরূপে বিশেষজ্ঞ মতামত দিতে সক্ষম নন ৷ বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে তিনি যেন একাই একশত ৷ এতদঅঞ্চলের শত বছরের বুদ্ধিবৃত্তিক অচলাতায়ন ভাঙতে যে কয়জন বুদ্ধিজীবী সফল হয়েছেন তাঁদের মধ্যে তাঁর নাম অগ্রগণ্য ৷ বস্তুত তিনি কোনো দল , ব্যক্তি বা মহলের প্রতিনিধিত্ব করেন না ৷ তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন গোটা বাংলাদেশের তথা এ দেশের আপামর জনসাধারণ ও প্রকৃত মানসের ৷ তিনি কোনো মহলের সেবাদাস নন ৷ অথবা তিনি কোনো ধরনের লোভের বশে তাঁর বক্তব্য প্রদান করেন না ৷ তাঁর মতো বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ও নিঃসংকোচে বক্তব্য উপস্থাপনকারী এ সময়ে আর কেউ আছেন বলে মনে হয় না ৷ তিনি যেমন প্রতিভাবান-মেধাবী তেমনি নিরপেক্ষ ও দায়বদ্ধ কেবল এ দেশের প্রতি ৷
তাঁর সব মতামতের ব্যাপারে তাঁর সাথে আমরা একমত হবো তা হয়ত নয় ৷ কিন্তু তাঁর বক্তব্যে তাঁর সততা নিয়ে— নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে না ৷
সলিমুল্লাহ্ খানের লেখার সাথে আমার পরিচয় ছাত্র থাকা অবস্থায় সেই ১৯৮০ ইংরেজিতে ৷ তাঁর সম্পাদিত ও লিখিত মাসিক মার্ক্সীয় ম্যাগাজিন ” প্রার্ক্সিস জর্নালের ” মাধ্যমে ৷ মার্ক্সীয় তত্ত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান না থাকলে যা বোঝা মুশকিল ৷ ওই ম্যাগাজিনের লেখা এতো জঠিল ছিল যে বেশ কিছুক্ষণ পড়লে মাথা ব্যথা করতো ৷ পাঠকেরা জানেন সে সময়টা ছিল বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের জয় জয়কার অবস্থা ৷ যা পরবর্তীতে ক্ষয়িষ্ণু হতে হতে এখন মৃতপ্রায় ৷ যা হোক সেই প্রাক্সিস জর্নালের মাধ্যমেই তাঁর যাত্রা বুদ্ধিবৃত্তির জগতে ৷ তখন ছিল তাঁর ছাত্র জীবন ৷ তাঁর লেখা না পড়লে তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে অনুমান করা দুষ্কর ৷ অবশ্য টিভি টক শো বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর আলোচনা শুনে আমরা কিছুটা তাঁর জ্ঞানের পরিধি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারি ৷ তাঁর আরেকটি বিশেষ গুণের কথা না বললে নয় , সেটা হচ্ছে মুসলিম জাতিসত্তার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং এ ব্যাপারে তাঁর কোনো ধরনের হীনমন্যতা নেই ; যা এ সময়ে আশা করা কিছুটা দূরূহ বৈকি ৷ যা হোক তিনি বাম ঘরনার বুদ্ধিজীবী হলেও বর্তমান বাস্তবতায় দেশের আপামর জনমানস তিনিই ধারণ করেন ৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় বামেরা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন ৷ সে ক্ষেত্রে সলিমুল্লাহ্ খান শুধু ব্যতিক্রম নন বরং বর্তমান বাংলাদেশের জনমানসের প্রকৃত প্রতিনিধি ৷ আমরা মনে করি বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনিই প্রকৃত অর্থে প্রগতিশীল ও দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবী হিসাবে বিবেচিত হতে পারেন ৷ আমরা তাঁর দীর্ঘায়ু ও আরো উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি ৷ জয়তু সলিমুল্লাহ্ খান ৷
আখতারুল আলম:
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি, কক্সবাজার ৷ লেখক,গবেষক, সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষক, কক্সবাজার ৷













