৫০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ঘাটতির বাজেট এবার

0
4

সিবিকে ডেস্কঃ

একাদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুন)। ‘জীবন ও জীবিকার প্রাধান্য, আগামীর বাংলাদেশ’ এই শিরোনামে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার সম্ভাব্য বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ঘাটতির এই বাজেটের প্রস্তাবনাজুড়েই থাকছে দেশীয় শিল্প আর ব্যবসায়ীদের জন্য নানা সুবিধা। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য বলছে, সবচেয়ে বড় এই নতুন বাজেটে ঘাটতি থাকতে পারে ২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

১ ঘণ্টা ১৬ মিনিটের অধিবেশনে অর্থমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের সঙ্গে থ্রিডি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হতে পারে করোনাকালীন বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার নানা মাইলফলকও। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে বিকেল ৫টা থেকে আ হ ম মোস্তফা কামাল ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সংসদের মন্ত্রিসভা কক্ষে বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের পর এটি উপস্থাপন করা হবে।

সংসদীয় সচিবালয়ের সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময়ের বাজেটের মতো এই অধিবেশন দু সপ্তাহের বেশি হবে না এবং খুব সংক্ষিপ্ত পরিসরে পুরো অধিবেশনটি সম্পন্ন হবে। করোনা মহামারির কারণে গত বছরও বাজেট অধিবেশন ৯ কর্মদিবসের পর স্থগিত করা হয়, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত বাজেট অধিবেশন।

করোনা পরিস্থিতির কারণে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবারও কোভিড টেস্টের নেগেটিভ সনদ নিয়ে সংসদ সচিবালয়ে প্রবেশ করবেন। এছাড়া বয়োজ্যেষ্ঠ ও অসুস্থ সাংসদদের অধিবেশেনে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে শুধুমাত্র বাজেট এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজের বিষয়ে আলোচনা হবে এবার।

দূরত্ব বজায় রাখতে প্রতিদিন ১০০ এরও কম সংসদ সদস্যদের নিয়ে এই অধিবেশন পরিচালনা করা হবে। সংবিধান অনুসারে ৩০ জুনের আগে বাজেট পেশ করার ব্যাপারে রয়েছে বিধিনিষেধ এবং বাজেট চলাকালীন অধিবেশনে সাংসদদের অংশগ্রহণের বিধান রয়েছে।

জুন এলেই দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকে রাষ্ট্রীয় আয় ব্যয়ের খতিয়ান-জাতীয় বাজেট। আগামী এক বছরে সরকার কোথা থেকে আয় করবে আর কোথায় খরচ করবে, তার সঙ্গে ভাণ্ডারে থাকবে কত টাকার সংকট- তা নিয়েই সরব থাকেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, এবারের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হতে পারে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে ব্যাংক থেকে সরকারের সম্ভাব্য ঋণ ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে আসতে পারে ৩২ হাজার কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে বরাদ্দ থাকতে পারে ২ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ মেটাতে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হতে পারে ৬৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা।

সুখবর আসতে পারে পুঁজিবাজারেও। বিনিয়োগে বহাল থাকতে পারে কালো টাকা সাদার সুযোগ। কমানো হতে পারে লেনদেনের ওপর বহাল থাকা অ্যাডভ্যান্স ইনকাম ট্যাক্সও।

আবার বহাল থাকতে পারে মোবাইল অপারেটর, বিড়ি সিগারেট, তামাক, তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানির ন্যূনতম করের হার। যদিও ভর্তুকি বাড়াতে নতুন বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ বাড়বে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে ১০০ জন হিজড়ার কর্মসংস্থান হবে, এমন সব কোম্পানির করপোরেট কর ৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার। বাড়তে পারে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতাও।

আগেএবারও হজে যেতে পারবেন না বাংলাদেশিরা
পরেযুগান্তর পত্রিকার কক্সবাজার প্রতিনিধি হলেন জসিম