ভাবির ছুরিকাঘাতে দেবর খুন, ভাই-ভাবি আটক

0
6

সিবিকে ডেস্কঃ

লোহাগাড়ায় পারিবারিক কলহের জের ধরে ভাবির ছুরিকাঘাত ও লাথিতে অণ্ডকোষ ছিড়ে মো. ইউনুস নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ও ভাবিকে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকের হোসাইন মাহমুদ।

বুধবার (২৩ জুন) রাতে বড়হাতিয়া কুমিরাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই লোহাগাড়া থানার ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ, চুনতি পুলিস ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম জামান ও বড়াহাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এমডি জোনাঈদ চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আটককৃতরা হলেন- মো. ইউছুফ (৫০) ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী রোহিঙ্গা নারী নাছিমা আক্তার (৩০)। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত নাছিমা আক্তার কক্সবাজারের উখিয়া মরিচ্যা রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে স্বীকার করেন।

জানা যায়, নিহতের বড় ভাই মো. ইউছুফের প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী হালিশহর আপগারী মসজিদের পাশে বসবাস করে আসছেন। বিদেশ থেকে এসে বিগত ৪ বছর আগে রোহিঙ্গা নারী নাছিমা আক্তারকে দ্বিতীয় বিয়ে করে গ্রামের বাড়িতে মা-ভাইদের সাথে রাখেন। বিষয়টি বাড়ির কেউ মেনে নিতে পারেননি। ঘটনার আগের দিন ২২ জুন নাছিমা আক্তারের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে নিহত ইউনুস। এ ঘটনায় বড়ভাই বাদী হয়ে লোহাগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ অভিযোগে চুনতি পুলিশে ফাঁড়ির এসআই শিশির বিন্দু ধর ঘটনার তদন্তে নিহতের বাড়িতে যান। পুলিশ আসার খবর পেয়ে ইউনুছ পালিয়ে যায়। পুলিশ চলে গেলে বাড়ি ফিরলে গেটে প্রবেশের সাথে সাথে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা ঘাতক নাছিমা তাকে ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দেবর ইউনুছ। নিহতের স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরই বড়ভাই ইউছুফ পালিয়ে যেতে চাইলেও এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে দেয় এবং ঘাতক রোহিঙ্গা নারী ইউছুফের স্ত্রী নাছিমাকে বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ।

তাদের ছোট ভাই মো. ইলিয়াছ বলেন, তুচ্ছ ঘটনার অভিযোগে মেজ ভাই খুন হওয়া আমরা খুবই মর্মাহত। জানতামই না ওই নারী রোহিঙ্গা।

নিহতের মা নুরুন্নাহার বলেন, ছেলে হত্যার বিচার ছাড়া কিছুই চাই না। হয় আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিন, না হয় ছেলের হত্যার বিচার দ্রুত কার্যকর চাই।

বড়হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জোনাঈদ চৌধুরী জানান, ঘটনার পরেই ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক ওই নারীকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করি। ওই নারী প্রথমে বাপের বাড়ি বললেও রাউজান পুলিশের কাছে নিজেকে রোহিঙ্গা শরনার্থী বলে স্বীকার করেছেন।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকের হোসাইন মাহমুদ জানান, ঘটনার পরেই ২ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ছুরিকাঘাতে খুনের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহতের লাশের সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

আগেআড়াই মাস পর আজ খুলছে হোটেল মোটেল
পরেশেষের রোমাঞ্চে জয় তুলে নিল ব্রাজিল