‘স্যার-ম্যাডামের’ বিকল্প কী?

0
6

বাংলাট্রিবিউন:

সরকারি অফিসে ‘স্যার’ বা  ‘ম্যাডাম’ একেবারেই বলা যাবে না তা নয়, তবে সম্বোধন এমন হবে যেন উভয়েই স্বস্তি বোধ করেন। সেটা নির্ধারিত হবে পারস্পরিক সম্পর্ক ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে। তবে ‘স্যার’ বা  ‘ম্যাডাম’ ডাকতে না চাইলে কী ডাকতে হবে, সেটা সুনির্দিষ্ট করে বলছেন না কেউ। আর যে সম্বোধনে দুই পক্ষের কেউই স্বস্তি বোধ করেন না, সেটা পরিহার করাই শ্রেয় মনে করছেন সাবেক-বর্তমান সচিব, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

গত (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) এক অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের স্যার বা ম্যাডাম বলে সম্বোধনের রীতি নেই। স্যার মানে মহোদয়, ম্যাডাম মানে মহোদয়া। রুলস অব বিজনেসে দুটোর কোনোটিই নেই।’

এমন সম্বোধন (স্যার বা ম্যাডাম) কেউ না করতে চাইলে বিকল্পটাও বলে দিতে হবে উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের অধ্যাপক মারুফুল ইসলাম বলেন, ‘স্যার বা ম্যাডাম ডাকার রীতি এই দেশে বহুদিনের। তবে ডাকতেই হবে এমন আইন নেই। তো কী বলে ডাকবো? এটা প্রজ্ঞাপন দিয়ে ঠিক করে দেওয়ার ব্যাপার না হলেও বিকল্প তো বলতে হবে। একদিনে এটা হবে না। আমার বিবেচনায় যে কেউ যে কাউকে স্যার ডাকতে পারেন।’

সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং এসআইপিজির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো (এনএসইউ) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “স্যার মানে ‘আই রেসপেক্ট ইউ’- মানে মহাশয়। আমরা যখন পশ্চিমে যাই, সেখানে খুব স্বাভাবিকভাবেই একজন আরেকজনকে স্যার বলে। আমাদের এখানে এই সম্বোধনকে অন্যরকম করে ফেলা হয়েছে। কিন্তু কথা হলো, পরিবর্তন আনতে হলে আগে নিজেদের দিয়ে শুরু করতে হবে। বিষয়টি উপর থেকে নিচে গেলে সহজ হবে। একজন মন্ত্রীকে স্যারই বলতে হয়। জনাব বা মিস্টার বলার সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন সচিবের সঙ্গে দেখা করতে আসা ব্যক্তি তাকে স্যার না ডেকে কী বলবেন সেই সম্মানজনক শব্দ খুঁজে বের করতে হবে। তাকে কি ভাই বলবে? যদি কেউ ভাইও বলতে না চান? হতে পারে মিস্টার সেক্রেটারি। আবার এটা কি আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যায়? কারও সামনে গেলে তাকে সম্মানতো দেখাতে হবে।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বড় যে কাউকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে আমাদের কিছু প্রথা আছে। স্যার বা ম্যাডাম বলতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু সম্বোধন হতে হবে ভদ্রোচিত, পরস্পরের কাছে স্বস্তিদায়ক। কেউ স্যার না ডাকলে তার ওপর ক্ষিপ্ত হওয়া যাবে না। প্রথা মেনে স্যার বললে ক্ষতি বা লাভও নেই। কিন্তু সম্বোধনের ক্ষেত্রে সেটা শ্রুতিকটূ কিনা সেটা বিবেচনা করতে হবে।’

স্যার বা ম্যাডাম-এর বিকল্প কী, এমন প্রশ্নে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘পারস্পরিক স্বস্তিদায়ক সম্বোধনই কাম্য। কিন্তু স্যার বা ম্যাডাম ডাকা যাবে না, সেটাও বলছি না।’

আগেলাখো মুসল্লির অশ্রুতে চিরনিদ্রায় শায়িত আব্দুস সালাম চাটগাঁমী
পরেজহিরুল ইসলাম সহ শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন-প্রতিবাদ সভা