
ফারুক আহমদ , উখিয়া
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল হক আমীনকে আটকের বিষয় নিয়ে নানা মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। উখিয়া উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন নেছা বেবীর স্বামী হচ্ছে আটক আমিনুল হক আমীন। পরিবার দাবি করছে দু পক্ষের সালিশ করতে গিয়ে তাকে ষড়যন্ত্র মূলক ফাঁসানো হয়েছে।
RAB 15 এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছেন গত ১৬এপ্রিল (শনিবার)- ২০২২ইং কক্সবাজারের চকরিয়া হতে তরমুজ বোঝাই একটি ট্রাক উখিয়ার কুতুপালং বাজারে যায়। অতঃপর কুতুপালং বাজারে পণ্য খালাস করে চকরিয়ার উদ্দেশ্যে ফেরত আসার সময় আনুমানিক সন্ধ্যা ০৭.৩০ ঘটিকায় কতিপয় ছিনতাইকারী দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে উখিয়ার মরিচ্যা বাজার হতে ট্রাকটি (যার রেজি নং-ঢাকা-মেট্রো-ড-১৪-০৭৯০) ছিনতাই করে। এ সংক্রান্তে ট্রাকের মালিক চকরিয়া ফাঁসিয়াখালীর হাজিয়ান পাড়া এলাকার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে মোঃ নূরুল আবছার (৪০) বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-৯৭/৫১২, তারিখ-২০/০৪/২০২২। বাদীর উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর আভিযানিক দল ছিনতাইকৃত ট্রাক উদ্ধার অভিযানে নেমে জানতে পারে, ছিনতাইকৃত ট্রাকটি উখিয়ার মরিচ্যা এলাকায় রয়েছে। পরবর্তীতে আনুমানিক ভোর ০৫.৩০ ঘটিকায় উখিয়ার হলদিয়ার মরিচ্যা পাগলীর বিল নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে একই এলাকার মৃত সুলতান আহম্মেদ ছেলে আমিনুল হক আমিন (৫৭) এর বসতঘরের উঠান থেকে ছিনতাইকৃত ট্রাকটি উদ্ধারসহ আসামী আমিনুল হক আমিনকে গ্রেফতার করা হয়।
কক্সবাজার র্যাব-১৫ সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (ল’ এন্ড মিডিয়া) এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন গ্রেফতারকৃত আসামীকে বাদীর দায়ের করা মামলা মূলে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন নেছা বেবী গতকাল বুধবার রাত ৯ টার দিকে ফেসবুক লাইফে বলেন পাওনা টাকার বিচার করতে গিয়ে আজ আমার স্বামীকে কারাগারে যেতে হয়েছে। ট্রাক ছিনতাই হয়নি। বিচারকের বাড়িতে রাখা হয়েছে। মির আহমদ ও ট্রাক মালিক নুরুল আবছার একে অপরের জামাতা এবং মামা শ্বশুর। এদের সালিশ করতে গিয়ে ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে আইনের কাটগড়ায় আমিন।
ফেসবুক সাবেক উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাহমুদুল হক চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া হুবুহু তুলে ধরা হলো,,,
প্রায় প্রতিদিন সাধারণ মানুষের বিরোধ আপোষে নিষ্পত্তির চেষ্টা করি হেতু আজকের বিষয়টি আদৌও মনপুত হলনা। এভাবে চলতে থাকলে সমাজের তৃনমুল পয্যায়ে বিচার – শালিশ তথা বিরোধ নিষ্পত্তি করে শান্তি স্থাপন করার জন্য কেউই এগিয়ে আসবে না। ছোট বড় – সত্য মিথ্যা সব বিষয়- ই মামলা মোকদ্দমা মুখী হয়ে যাবে। মাননীয় বিচারকদের উপর চাপ পড়ে যাবে প্রচন্ড। – হলদিয়া পালং ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল হক আমিন স্থানীয় পয্যায়ে একজন দক্ষতা পূর্ণ বিরোধ মিমাংসাকারী। বিচার নিষ্পত্তি করতে গিয়ে তার জেল হাজতে যাওয়া একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা হিসাবে পরিগনিত হল। ( মামলা নথিভূক্ত করার আগে সঠিক তদন্ত ও যাচাই – বাছাই করলে হয়ত এমন হতনা – সুতরাং এক্ষেত্রে মাননীয় বিচারকের করার তেমন কিছুও থাকেনা কারন মাননীয় বিচারক মহোদয় আইনের বাইরে যেতে পারেননা) রাষ্ট্র কতৃক অনুমোদন বিহীন হলেও আমাদের সমাজের ছোট ছোট সালিশ – বিচার নিষ্পত্তি কারীদের স্ব প্রনোদিত কষ্টের ফলে স্থানীয় ভাবে হাজার হাজার বিরোধ নিষ্পত্তি হয়ে মামলার জট কমানোর বিষয়টি আমলে নিলে ( সম্মানিত আইনজীবী ও আইনপ্রণেতাদের মাধ্যমে) হাজারো মামলার জট ও কঠোর পরিশ্রম হতে মাননীয় বিচারক গন অনেক অনেক রেহাই এবং স্বস্থি পেতেন।
যুবলীগ নেতা শাহজাহান সাজু লিখেন,,
সালিসি সিদ্ধান্ত মোতাবেক গাড়ি বিচারকের নিকট জমা রাখা হয়। অপকৌশলের মামলায় উল্টো সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল হক আমিন চাচা জেলহাজতে!
তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
জোবাইদা আকতার নামক এক মহিলা লিখেন,, এখন দেখতেছি তারা কোন কিছু তদন্ত না করে লাফাতে থাকে, আমিনুল হক আমিন ছিলেন স্হানীয় বিচারক / শালিস কারক, ওনার কাছে বাদী-বিবাদী বিচার নিয়ে আসছিল, তিনি বিচার সমাধান করতে গিয়ে, আজ যড়যন্ত্রের সম্মুখীন হতে হয়েছে,
এসএম আব্বাস উদ্দিন লিখেন,, যে কোন প্রশাসনিক টিমের আগে সুষ্ঠু তদন্ত করা উচিৎজননেতা আমিনুল হক আমিন একজন সৎ ও আদর্শবান নেতা ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রের নজর পড়েছে তারপরও নীতি হারায়নি আমিনুল হক আমিন এইটাই প্রমাণিত হয়েছে যে সততার কোন মূল্য নেই নীতি এখন অপনীতিতে চলে তারপরও বলব যারা প্রকৃত দোষী তদন্ত সাপেক্ষে বিচার করা হোক।
চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী লিখেন,, হলদিয়া পালং এর ৭০ হাজার মানুষের প্রানের স্পন্দন, হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আমিনুল হক আমিনের মুক্তি চাই।












