প্রচ্ছদ জাতীয় নেতাকর্মীদের রাজপথ দখলের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

নেতাকর্মীদের রাজপথ দখলের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

0
6

দেশরূপান্তর:

দলের নেতাকর্মীদের রাজপথ দখলের আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের রাজপথ দখল করতে হবে। রাজপথে দখলের মধ্য দিয়ে এ সরকারকে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব’।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারকে বলতে চাই, অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। আপনাদের এ মুহূর্তে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে।

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। নতুন নির্বাচন দিয়ে সংসদ ও সরকার গঠন করতে হবে

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, লোডশেডিং এবং সব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব বলেন।

সমাবেশে অংশ নিতে দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দুপুরের আগেই জড়ো হতে থাকেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশ বড় গতে থাকে। ফকিরাপুল বাজার থেকে শুরু করে কাকরাইল নাইটিঙ্গেল মোড়সহ আশেপাশের এলাকায় ছিল বিএনপি নেতাকর্মীদের ভীড়। বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জলকামান, প্রিজন ভ্যানসহ আশেপাশে অবস্থান নেন।

বিএনপির সমাবেশের কারণে সকাল থেকেই কাকরাইল, বিজয়নগর, ফকিরাপুলসহ আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে এসব রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা সাধারণ মানুষদের কষ্ট করতে হয়।

 

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে সর্বশেষ ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর নয়াপল্টনে জনসভা করেছিল বিএনপি। এর নয় মাস পর কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে ফকিরাপুল মোড় থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত সড়কের দুপাশে শতাধিক মাইক লাগানো হয়। কার্যালয়ের সামনে পাঁচটি ট্রাক পাশাপাশি রেখে উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরি  হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যখন যুবক ছিলাম তখন স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলাম। আমান উল্লাহ আমানরা যখন যুবক ছিলেন তারা স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজকে যারা ছাত্র ও যুবক তাদের জেগে উঠতে হবে। দেশকে স্বাধীন করতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। ’

ভোলায় পুলিশের গুলিতে নিহত আব্দুর রহিম ও নূরে আলমের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জন দাবি আদায়ে রাজপথে নেমে পুলিশের গুলিতে তারা নিহত হয়েছেন। তাদের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেব না। ’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘লড়াই শুরু হয়ে গেছে। এ লড়াই বেঁচে থাকার লড়াই। এ লড়াই শুধু বিএনপির নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অংশ নিয়ে হারানো সব অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। সবাইকে অংশ নিতে হবে। রাজপথে লড়াই করতে হবে। দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, সাংবিধানিক সব অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। ’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা স্বাধীনভাবে লিখতে পারেন না। লেখার স্বাধীনতা আদায় করতে হবে। এ জন্য রাজপথের লড়াইয়ে অংশ নিতে হবে। ’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু চাকরি দেননি। শুধু দলীয় লোকদের চাকরি দিয়েছেন।   বাকি বেকার যুবকদের অনেকে এখন পাঠাও, উবারে মোটরসাইকেল চালায়। দলীয় ছেলেরা অনেকে রিকশা চালায়। বিনামূল্যে সার দেওয়ার কথা বললেও তা দেননি বরং দাম বাড়িয়েছে। সর্বশেষ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কৃষকরা বেকায়দায় পড়েছেন। ’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যেদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে, সেদিন থেকেই রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে গেছে। দেশকে অস্থিতিশীল করা হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। সাংবিধানিক সব প্রতিষ্ঠান সরকার ধ্বংস করেছে পরিকল্পিতভাবে। ’

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা কোনো দলীয় লোক নন। আপনারা কোনো দলের পক্ষে কাজ না করে রাষ্ট্রের জন্য কাজ করেন। নিরপেক্ষভাবে কাজ করেন। ’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, ‘সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশে গ্যাস উত্তোলনের ব্যবস্থা করেনি। নিজস্ব ব্যবসায়ীদের লাভবান করার জন্য বিদেশ থেকে এলএনজি গ্যাস আমদানি করছে। কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট করে সরকার তাদের নিজস্ব লোকদের দুর্নীতি ও লুটপাটের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সমাবেশে নেতাকর্মীদের আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর, উত্তরা থেকে আসার পথে বেশকিছু নেতাকর্মীকে বিমানবন্দর থানা পুলিশ আটক করেছে। জনগণের অংশগ্রহণে সভা-সমাবেশ হলে সরকার ভয় পায়। সভা-সমাবেশে বাধা দেয়। কারণ তারা নির্বাচিত হয়ে আসতে পারেননি। ’

এ সময় বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগামীকাল (শুক্রবার) উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ আছে। আগামী ২২ তারিখ থেকে আমরা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ব। প্রত্যেকটি উপজেলায় শন্তিপূর্ণ সমাবেশে করে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এ সরকারকে পরাজিত করতে বাধ্য করব। ’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা ইসলাম, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, ড. আব্দুল মঈন খানসহ বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।

আগেঈদগাঁওর সাংবাদিক শেফাইল উদ্দিনকে হ*ত্যার হুমকি, থানায় জিডি
পরেচকরিয়ায় বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে সাবেক এমপির চিংড়ি ঘেরে ডাকাতির অভিযোগ