গরু পাচার কাজে ব্যবহার হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র, সক্রিয় অর্ধ শতাধিক সন্ত্রাসী

0
8

 

শাহিদ মোস্তফা শাহিদ, ঈদগাঁও

মায়ানমার থেকে চোরাই পথে আনা গরু পাচার কাজে ব্যবহার হচ্ছে দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র। আর এ কাজে শক্তি প্রদর্শনে ব্যবহার করা হচ্ছে অর্ধ শতাধিক চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে। যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে ভূরি ভূরি মামলা,অভিযোগ। ভাড়াটিয়া হিসেবে এসব সন্ত্রাসীদের উত্থান ঘটাচ্ছেন গরু পাচার সিন্ডিকেটের মুলহোতারা।

পাহাড়ি জনপদের এসব সন্ত্রাসীদের আস্তানা গহীন পাহাড়ে হওয়ায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও তাদের আটকে অভিযান চালায় না বলে জানান সচেতন নাগরিক সমাজ। যার কারণে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে গরু পাচার, মাদক, খুন, ডাকাতি,ছিনতাই, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়ের মতো ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বান্দরবানের বাইশারী ইউনিয়নের আলিক্ষ্যং ১নং মৌজা এলাকার সাথে সীমান্ত দেশ মায়ানমারের যোগাযোগ সহজ।গহীন ভিতরে হওয়ায় মায়ানমার থেকে গরু, মাদক, অস্ত্র সহজেই দেশে প্রবেশ করছে। সেখানে রয়েছে একটি সুড়ঙ্গের মতো কাটা পাহাড় , মুলত সেই সুড়ঙ্গ কাটা পাহাড় দিয়েই প্রবেশ করে গরু, মাদক, অস্ত্র।

সীমান্ত বাহিনীর নিয়মিত টহল না থাকায় মায়ানমার থেকে সে দেশের বাসিন্দা আনোয়ার সাদেক ও রবি নামের দুই চোরাকারবারী দলের সদস্য প্রতিনিয়ত গরু পাচার সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এদেশে গরু পাচার করে আসছে। তাদের হয়ে এ দেশে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সারাদেশে গরু পাচার করে আসছে।
বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্যংছড়ি, কক্সবাজারের রামু, চকরিয়া, ঈদগাঁও উপজেলার কয়েকজন জড়িত রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এসব প্রভাবশালীরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আনা গরু গুলো তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে কাজে লাগিয়েছে বাইশারী, ঈদগড়, ঈদগাঁও, রশিদ নগর ,গর্জনিয়ার অর্ধ শতাধিক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের। এসব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের রয়েছে আলাদা আলাদা বাহিনী।
তারা স্থান বেদে গরু পৌঁছে দেয় প্রতি গরু ৫শ ১ হাজার, দুই হাজার টাকার চুক্তির মাধ্যমে।

সড়কে বিজিবির টহল জোরদার থাকায় পাহাড়ি জনপদকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে এসব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা।

সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আনা এসব গরু পাচার সিন্ডিকেটের সদস্য ও অস্ত্রধারীরা এতই শক্তিশালী কেউ তাদের বাধা দেওয়ার সাহস করে না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে যেসব সড়ক দিয়ে গরু পাচার হয় সেগুলো হলো রশিদ নগর ইউনিয়নের হামির পাড়া, নাদেরুজ্জামান হাই স্কলের পাশের সড়ক, কালির ছড়া ভুতিয়া পাড়া সড়ক, কালির ছড়া শিয়া পাড়া সড়ক, চান্দের ঘোনা কাটা পাহাড়, ভাদিতলা শিয়া পাড়, দরগাহ পাড়, ঈদগাঁও ঈদগড় সড়ক, ইসলামাবাদ গজালিয়া সড়ক, ইসলামপুর ভিলেজার পাড়া সড়ক, জুম নগর সড়ক, খুটাখালী কালা পাড়া উল্লেখযোগ্য।

এসব সড়ক দিয়ে পাহাড়ি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি কাজে লাগানো হয়েছে স্থানীয় ছিঁচকে সন্ত্রাসীদের। সিন্ডিকেটের সদস্যের নির্দেশ মতে তারা এসব গরু টাকার বিনিময়ে পৌঁছে দিচ্ছে তাদের গন্তব্যেস্থলে।

বিভিন্ন হাট বাজার থেকে অধিক টাকায় রশিদ সংগ্রহ করে গরু গুলো বৈধ প্রমাণ করতে তৎপর সিন্ডিকেট সদস্যরা। এতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে থাকে হাট বাজারের অসাধু ইজারাদাররা। যার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা গরু জব্দ করলেও আইনী ম্যারপ্যাচে আটকে যেতে হয় তাদের।পুলিশ, বিজিবি মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে গরু জব্দ করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় পাচারকারীরা।

স্থানীয়রা জানান, প্রথমে গরু গুলো বাইশারী এবং ঈদগড়ে নিয়ে আসে পাচারকারীরা।সেখান থেকে ঈদগড়ের পাহাড় দিয়ে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে পৌঁছে দেয় বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী। তাদের মধ্যে ঈদগড়ের শীর্ষ অস্ত্র কারিগর মোহাম্মদ কালু প্রকাশ বন্দুক কালু, তার ভাই মোস্তাক আহমেদ বাবুল, কলিম উল্লাহ, মিজান,হাসান, ঈদগাঁও কালির ছড়ার বাদশা, জামাল, ভুতিয়া পাড়ার তোফায়েল আহমেদ টুলু, রশিদ নগরের সাদ্দাম ডাকাত, মোস্তাক ডাকাত, রমজান ডাকাত, বদি আলম ডাকাতসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অহরহ মামলা রয়েছে। তারা একাধিক বার জেলে গিয়ে জামিনে মুক্ত হয়ে বেপরোয়া হয়ে গেছে ।
ঈদগাঁও ঈদগড় সড়কে ডাকাতি, অপহরণ পূর্বক মুক্তিপণের পাশাপাশি গরু পাচার কাজেও সমানভাবে কাজ করে আসছে তারা।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে পাহাড় বেয়ে স্কট দিয়ে গরু গুলো ঈদগাঁও এবং রামু, চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেয়। এসব গরু পাচার করতে গিয়ে প্রায় সময় ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। গরু লুট, লেনদেনে বাড়ছে বিভক্তি। যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে খুনের মতো ঘটনা।

সচেতন মহলের দাবি ট্রাস্কফোর্স গঠন করে এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান চালিয়ে আইনের আওতায় আনা। নয় তো দেশ এবং সমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তারা আরও বলেন, যে সব সন্ত্রাসীদের কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে সেগুলো উদ্ধার করা না গেলে দেশের জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়াবে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সদর, রামু-ঈদগাঁও সার্কেলের (সহকারী পুলিশ সুপার) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন,এ রকম খবর আমাদের কাছে আছে, কিন্তু কারা কারা এ কাজে জড়িত তা কেউ সঠিক তথ্য দিয়ে অবগত করে না।আপনারা সঠিকভাবে তথ্য দেন কারা কারা এসবের পিছনে জড়িত পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।

আগেউখিয়ায় আসছেন মুফতি সাঈদ আহমদ কলরব
পরেসৌদিতে ছাদ থেকে পড়ে রামুর যুবকের মৃ*ত্যু