যুদ্ধের জন্য পরমাণু অস্ত্র মজুত করছে পাকিস্তান

0
49

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই দুই দেশের মধ্যে দু এক মাসের মধ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক সমর বিশেষজ্ঞদের। আর পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী এই দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে এতে পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহারের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।

এদিকে মার্কিন গবেষকদের বরাত দিয়ে ভারতীয় এক সংবাদ মাধ্যম দাবি করেছে, পাকিস্তান নাকি ইতিমধ্যেই নয়টি স্থানে পরমাণু অস্ত্র মজুত করতে শুরু করেছে এবং সেখানে তারা নাকি ক্রমশ অস্ত্রের পরিমাণও বাড়াচ্ছে। আর পাকিস্তানের হাতে এখন ১৩০ থেকে ১৪০টি ওয়ারহেড রয়েছে বলে জানিয়েছে ওই মার্কিন গবেষক দলটি। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে তারা এসব অস্ত্র ব্যবহার করবে বলেও অভিযোগ করেছে ভারতের ওই সংবাদ মাধ্যমটি।

এই নয় স্থানের মধ্যে চারটি পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের কাছে, তিনটি সিন্ধ প্রদেশের কাছে ও একটি বালোচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখাওয়ার আশেপাশে। ‘ফেডারশন অফ আমেরিকান সায়েন্টস্ট’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ শুধু পরিমাণে বেশি অস্ত্রই মজুত করছে না, অস্ত্রের গুণগত মানও বাড়াচ্ছে। যদিও জায়গাগুলি একেবারে নিখুঁতভাবে খুঁজে বের করা সম্ভব হচ্ছে না গবেষকদের পক্ষে।

যেসব স্থানে পরমাণু অস্ত্র মজুদ করেছে পাকিস্তান

আকরো গ্যারিসন: (সিন্ধ প্রদেশ)- সম্ভবত এখানে মাটির তলায় আছে পরমাণু অস্ত্র

গুজরানওয়ালা গ্যারিস: (পঞ্জাব)- এক প্রত্যন্ত জায়গায় মজুত আছে অস্ত্র

খুজদার গ্যারিসন: (বালোচিস্তান)- সম্ভবত এখানে মাটির তলায় আছে পরমাণু অস্ত্র

মাসরুর ডিপো: (করাচি)- মিরজ বিমান থেকে নিক্ষেপ করার মত বোমা মজুত আছে বলে অনুমান

ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স: (পঞ্জাব)- লঞ্চার ও ওয়ারহেড থাকার সম্ভাবনা

পানো আকিল গ্যারিসন: (সিন্ধ)- এক প্রত্যন্ত জায়গায় মজুত আছে অস্ত্র

সরগোড়া ডিপো: (পঞ্জাব)- এ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করার অস্ত্র আছে এখানে

তারবালা ডিপো: (খাইবার পাখতুনখাওয়া)- মজুত আছে ওয়ারহেড

ওয়ার অর্ডিন্যান্স ফেসিলিটি (পঞ্জাব)- সম্ভবত এখান তৈরি হয় ওয়ারহেড
ভারতীয় স্যাটেলাইট ইমেজ, বিভিন্ন গবেষণার তথ্য ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের উপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করেছে আমেরিকার বিজ্ঞানীরা।

মাত্র কয়েকদিন আগেই পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছিলেন, ‘যদি কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে মনে রাখতে হবে দুই দেশের কাছেই পরমাণু অস্ত্র আছে। আর পরমাণু যুদ্ধে কেউ জয়ী হয় না।’

এ সময় নিজেকে ‘কাশ্মীরি দূত’উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন, কাশ্মীরের স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান চেষ্টা চালবে। তিনি বলেন, আরো বলেন, ‘কাশ্মীরি জনগণকেও আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, কাশ্মীর ইস্যুটি নিয়ে আমি সারা বিশ্বে কাজ করব। যতক্ষণ পর্যন্ত কাশ্মীর স্বাধীন না হবে, প্রতিটি ফোরামে আমি এই বিষয়ে সর্বোচ্চ আওয়াজ তুলব।’

প্রসঙ্গত. গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের ওপর থেকে বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন ৩৭০ ধারাটি তুলে নেয় মোদি সরকার। এরপর থেকে কার্যত বন্দি রয়েছে উপত্যকার মানুষ। তাদের ঘর থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে হাজার হাজার কাশ্মীরিকে। সেখানের রাস্তা-ঘাটগুলো দখল করে নিয়েছে লাখ লাখ ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মী।

এ অবস্থায় সেখানকার মানবাধিকার লঙ্ঘণ নিয়ে বেশ কয়েকবার বিবৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। কিন্তু কাশ্মীরের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী বা সাংবাদিক তো দূরের কথা, ভারতের বিরোধী দলীয় নেতাদের পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে গোটা কাশ্মীর উপত্যকাকে আজ একটা উন্মুক্ত কারাগারে রূপান্তরিত করেছেন মোদি।

সূত্র: কলকাতা টুয়েন্টি ফোর

আগেস্থানীয়দের খুন ও বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি রোহিঙ্গাদের
পরেদেশের সব আদালতে বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানোর নির্দেশ হাইকোর্টের