পরকীয়ার পরিণতি ১১ টুকরো লাশ

0
149

কক্সবাজার খবর ডেস্কঃ

বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অপরাধে ১১ টুকরো করা হয়েছে হাবিবুর রহমান ওরফে সবুজকে (২৬)। গত ৭ মার্চ খুলনা নগরীর সদর থানাধীন ফারাজীপাড়া এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে হাবিবের লাশের টুকরোগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত চার খুনিকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে। তবে এখনো একজন পলাতক রয়েছে। হাবিব ইটভাটায় শ্রমিক সরবরাহের ঠিকাদারি করতেন। তার বাড়ি সাতক্ষীরা সদরের উমরাপাড়া গ্রামে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক শেখ আবু বকর জানান, পাঁচ খুনির সঙ্গে হাবিবের পরিচয় জেলখানায়। হাবিব আগে কারামুক্ত হলে তার সঙ্গে কথা ছিল সে অন্যদের জামিন করাতে তদবির করবে। কিন্তু জামিনে বের হয়ে হাবিব বন্ধু মোস্তফা চৌধুরী মামুনের স্ত্রী রিক্তার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। রিক্তাকে নিয়ে সে কুয়াকাটা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরেও বেড়িয়েছে। কারাগারে থাকাবস্থায় এসব তথ্য পেয়ে মামুন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে হাবিবের ওপর। পরে হাবিবকে হত্যার জন্য আসাদের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে চুক্তি করে মামুন। গত ৫ মার্চ বিকালে কারামুক্ত হয়ে মামুন ও আসাদ আদালত

চত্বরে বসেই ফোন করে হাবিবকে সাতক্ষীরা থেকে খুলনা আসতে বলে। পরে নগরীর ফারাজীপাড়া লেনের একটি ভাড়া বাড়িতে গত ৬ মার্চ রাতে বা পর দিন সকালের কোনো একসময় মামুন, আসাদ, তাদের সহযোগী অনুপম মহলদার, খলিলুর রহমান খলিল ও আবদুল হালিম গাজী মিলে হাবিবকে খুন করে তার লাশ টুকরো টুকরো করে। পরে সকালে তারা খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন জুয়েলের শেরেবাংলা রোডের বাড়ির সামনে হাবিবের ধড়, নগরীর ফারাজীপাড়া লেনের এনজিও রূপান্তরের সামনে হাত-পা এবং একই এলাকায় অবস্থিত সাবেক স্পিকার মরহুম অ্যাডভোকেট রাজ্জাক আলীর বাড়ির সামনে মস্তক ফেলে আসে। এ ছাড়া লাশের কিছু অংশ রাখা হয় ওই ভাড়া বাড়ির খাটের নিচে। পর দিন সকালে এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে লাশের টুকরোগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় খুলনা সদর থানায় হত্যা মামলা হওয়ার পর ১০ মার্চ নথিপত্র বুঝে নেয় পিবিআই। একে একে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় নিহতের মোটরসাইকেল, হেলমেট, চাবি, কেডস ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও দা।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তার আসাদ চারটি হত্যা মামলার আসামি এবং তার কাজই হচ্ছে ছলেবলে কোনো এক নারীকে বিয়ের পর তাকে খুন করে লাশ গুম করা। অপর আসামি অনুপম নিষিদ্ধ ঘোষিত এক দলের সদস্য। সে অজ্ঞান পার্টির সদস্য হিসেবেও কাজ করত। তৃতীয় আসামি খলিল বিভিন্ন নারীকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি করাতেন। চতুর্থ আসামি হালিম গাজী সুন্দরবনের ডাকাত এবং পঞ্চম আসামি মামুন মাদক ও নারী নির্যাতনসহ তিনটি মামলার আসামি। প্রথম চার আসামি বর্তমানে খুলনা জেলা কারাগারে বন্দি আছে। তবে মোস্তফা চৌধুরী মামুন ভারতে অবস্থান করছে বলে পিবিআইয়ের কাছে তথ্য রয়েছে। সে মাঝে মাঝেই ভারত থেকে তার প্রথম স্ত্রী খাদিজা ওরফে রূপার কাছে ফোন করে দুই সন্তানের সঙ্গে কথা বলে এমন প্রমাণ রয়েছে। চলতি মাসেই এ মামলার চার্জশিট দাখিল করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এ পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা।

আগেমেডিকেল ভিসা ছাড়াই চিকিৎসা নেয়া যাবে ভারতে
পরেনৌকায় আগুন, নিহত ৮ নিখোঁজ ২৬