কক্সবাজার খবর ডেস্কঃ
অবৈধভাবে অর্জিত আর এফ প্রপার্টিজ ও আর এফ বিল্ডার্সের মালিক হাজি মো. দেলোয়ার হোসেনের নামে থাকা সকল স্থাবর/অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দুদুকের দায়ের করা একটি মামলায় গত বুধবার (১৮ সেপ্টম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত আকবর হোসেন মৃধার আদালত তার সম্পদ জব্দের এ আদেশ দেন।
এসব সম্পত্তির দালিলিক মূল্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।
শীঘ্রই এসব অবৈধ সম্পদ জব্দ করার কথা জানিয়েছেন, দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী।
তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে অর্জন করা সকল সম্পত্তি জব্দের বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। যে কোন মূহুর্তে এসব সম্পত্তি জব্দ করা হবে’।
জানা যায়, হাজি দেলোয়ার হোসেনের সম্পদ ছাড়াও তার নামে থাকা দু’টি ব্যাংক একাউন্টের হিসাব স্থগিত করার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। এ দুই একাউন্টে তার নামে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৪১৯ টাকা রয়েছে। অন্যদিকে, তার ব্যবহৃত চট্টমেট্টো-ঘ-১১-১৬২০ নম্বরের হার্ড জিপটিও জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এই জিপের মূল্য সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের পিপি কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু বলেন, ‘অবৈধভাবে অর্জন করা আর এফ প্রপার্টিজ ও আর এফ বিল্ডার্সের মালিক হাজি দেলোয়ার হোসেনের নামে থাকা সকল স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। পরে আদালত শুনানি শেষে তা নির্দেশের অনুমতি প্রদান করেন’।
এর আগে গত ১৬ মে তে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানায় আর এফ প্রপার্টিজ ও আর এফ বিল্ডার্সের মালিক হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন (৬১) ও তাঁর স্ত্রী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান চেমন আরা বেগমের (৫২) বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন। মামলায় স্বামী-স্ত্রী দু’জনের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৯৯ লাখ ৩৫ হাজার ৩৮৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জাফর সাদেক শিবলীকে।
তদন্তের বিষয়ে দুদক কর্মকর্তা জাফর সাদেক শিবলী বলেন, তদন্তকালে দেখা যায় হাজি দেলোয়ার হোসেন তার অর্জিত সম্পদের চেয়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের সম্পদক জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জনপূর্বক ভোগ দখলে রেখেছেন। কিন্তু যখন আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, তখন তিনি এসব সম্পত্তি বিক্রির জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই এসব অবৈধ সম্পদ জব্দের বিষয়ে আদালতে অনুমতি চাওয়া হলে আদালত তা জব্দের নির্দেশ দেন।
এদিকে, হাজি দোলোয়ার হোসেন ছাড়াও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান চেমন আরা বেগমের নামে থাকা সকল সম্পদ জব্দের জন্যও প্রস্তুতি গ্রহন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুদক সূত্র। তাছাড়া তাদের বড় ছেলে মো. ওমর ফারুক ও ছোট ছেলে ইমরান ফারুক ফয়সালের নামে আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে অনুসন্ধানের পর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন দুদক সূত্র।
সুত্র : দৈনিক পূর্বকোন।













