যুবলীগের নতুন নেতৃত্বের সন্ধান

0
3

কক্সবাজার খবর ডেস্কঃ

সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযানে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে যুবলীগ। এখন পর্যন্ত যারা আটক হয়েছেন তাদের সকলের সঙ্গে যুবলীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযােগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, আওয়ামী যুবলীগের কিছু মনষ্টার (দানব) তৈরী হয়েছে। যারা ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ।
এই বাস্তবতায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে যুবলীগের নেতৃত্বের পরিবর্তন হবে। যদিও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে যুবলীগ চেয়ারম্যানের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। তবে এই বৈঠকে যুবলীগের কাউন্সিল বা নেতৃত্ব পরিবর্তন করার বিষয়ে কোন কথা বলেননি। ধারণা করা হচ্ছে,প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক থেকে ফিরে এসে যুবলীগের দিনক্ষণ চুড়ান্ত করবেন।অসমর্থিত সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে একাধিক প্রাক্তন
যুবলীগ নেতা এবং আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে যুবলীগের ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলেছেন। এসব আলাপচারিতায় যুবলীগের নতুন সম্মেলনের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেছেন, ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন যে, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সহযোগি সকল সংগঠনের যেসব মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি রয়েছে সেসব কমিটির সম্মেলন শেষ করতে হবে।সে হিসেবে যুবলীগের কমিটিও মেয়াদ উত্তীর্ণ।তাই ধরে নেওয়া হচ্ছে, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে অন্যান্য অঙ্গ সহযােগি সংগঠনের মত যুবলীগের সম্মেলন করতে।
তবে যুবলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। যুবলীগের বিরুদ্ধে যে ক্যাসিনো টেন্তারবাজি, চাঁদাবাজির অভিযােগ উঠেছে তা একটা নতুন সম্মেলন বা নতুন নেতৃত্বেও মাধ্যমে পাল্টে ফেলাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য কাউন্সিলের মাধ্যমে যুবলীগের বর্তমান নেতৃত্বকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। এমনিতেই আওয়ামী যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ১০ বছর ধরে যুবলীগের নেতৃত্বে রয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদক।
হারুনুর রশীদও দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশিত না হলেও যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতো। ফারুক চৌধুরি নিজেই বলেছিলেন যে, সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি যুবলীগের নেতৃত্ব কারো হাতে তুলে দিতে চান। কিন্তু প্রশ্ন হলো কে হবেন যুবলীগের নেতা?
জানা গেছে, এখন যখন যুবলীগের নানা কেলেঙ্কারি ঘটনা আলোচিত হচ্ছে। আশপাশি যুবলীগের নতুন নেতৃত্বের বিষয়টিও সামনে চলে আসাই । একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছোট ভাই যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ মারুফের নাম আলােচনায় রয়েছে।
নিজেও যুবলীগের চেয়ারম্যান হতে আগ্রহী বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজমের নামও চেয়ারম্যান হিসেবে আলােচনায় এসেছে।
যদিও তিনি তার ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন, তিনি যুবলীগের চেয়ারম্যান হতে আগ্রহী নন। কিন্তু শুদ্ধি অভিযান ঝড়ে ল-ভ- হয়ে যাওয়া যুবলীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে এর কোন বিকল্প নেই বলেও অনেকে মনে করছে।
আওয়ামী লীগের একাধিক নীতি নির্ধারক বলছেন যে, একজন ভালো সংগঠক হওয়ার চেয়ে একজন ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিত্ব যুবলীগের ভাবমূর্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজার নামও এক্ষেত্রে আলােচনায় আসছে। আওয়ামী লীগ এমন একটি দল যেখানে সংগঠন তৈরী করা কঠিন নয়। দল শক্তিশালী এবং শতভাগ সংগঠিত। কাজেই সংগঠন এমনিতেই শক্তিশালী হবে কিন্তু যিনি নেতৃত্বে থাকবেন তার ইমেজ এবং আকর্ষণ সন্দেহাতীতভাবে
বিতর্কও হতে হবে। সেই বিবেচনায় মাশরাফির নামও জোরেশোরে আলােচনায় আসছে। তবে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেষ পর্যন্ত কে হবেন তা সিদ্ধান্ত নিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের সফরের পরপরই তার ভারত সফর রয়েছে। ভারত সফরের আগে তিনি সাংগঠনিক কাজে মরোনিবেশ করতে পারবেন না বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আগেকক্সবাজারে হবে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন , থাকবে ক্যাসিনো : পর্যটন সচিব
পরেপাবর্ত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মীনা দিবস পালিত