পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ হলে পুরো বিশ্বকে ভুগতে হবে

0
1

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে তার ফল পুরো বিশ্বকে ভুগতে হবে বলে সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে শুক্রবার দেওয়া ইমরানের ভাষণে বারবারই ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের চলমান সংকটের বিষয় উঠে এসেছে। এদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের কিছুক্ষণ পরই ভাষণ দেন ইমরান। তিনি বলেন, ‘এটা (কাশ্মীর সংকট সামাধান) জাতিসংঘের জন্য একটি পরীক্ষা।’ ভারত যখন কাশ্মীর থেকে কারফিউ তুলে নেবে তখন সেখানে ‘রক্তক্ষয়’ ঘটবে বলেও বিশ্বকে সতর্ক করে দেন ইমরান খান। খবর বিডিনিউজের।
গত ৫ আগস্ট ভারত সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে রাজ্যটিকে কেন্দ্রশাসিত দুইটি আলাদা অঞ্চলে ভাগ করার ঘোষণা দেয়। বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ঘোষণার একদিন আগেই পুরো রাজ্য নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে ফেলে মোদী সরকার। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া আটকাকে কারফিউ জারিসহ বেশির ভাগ কাশ্মীরি নেতাকে গৃহবন্দি বা কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর প্রতিবেশী পাকিস্তান এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা ভারতের সঙ্গে সব ধরণের বাণিজ্য সম্পর্কও ছিন্ন করেছে।
জাতিসংঘে ইমরান বলেন, ‘যদি যুদ্ধ শুরু হয়েই যায় তবে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। কিন্তু ভাবুন, একটি দেশকে যখন তার চেয়ে সাত গুণ বড় প্রতিবেশীর সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে বাছতে হয়- আত্মসমর্পণ কর অথবা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজের স্বাধীনতার জন্য লড়াই কর। আমরা কী করবো? আমি নিজেকেও একই প্রশ্ন করেছি। আমার বিশ্বাস আমরা লড়াই করবো। সেক্ষেত্রে যখন একটি পরমাণু অস্ত্র শক্তিধর দেশ শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে, তখন যুদ্ধের ফলাফল সীমান্ত ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বকেই ভুগতে হবে।’ পাকিস্তানে কোনো জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্ব নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বের সামনে তুলে ধরা এবং এ ইস্যুতে কিছু করার জন্য আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে তাগাদা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দেন ইমরান। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, ৮০ লাখ কাশ্মীরিকে পাহারা দিয়ে রেখেছে ৯ লাখ ভারতীয় সেনার বাহিনী। কারফিউ উঠে গেলে কি হবে? কাশ্মীরিরা কি চুপচাপ তাদের মর্যাদার এই পরিবর্তন মেনে নেবে? কারফিউ উঠে গেলে যা হবে তা হচ্ছে, রক্তবন্যা বয়ে যাবে। মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। আর সেনারা কি করবে? তারা তাদের দিকে গুলি ছুড়বে.. আরো মৌলবাদের দিকে ঝুঁকবে কাশ্মীরিরা। ইমরান বলেন, ‘আমার একথা ভুল হলে সর্বোত্তম কিছু ঘটার আশা করা যায়। কিন্তু সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্যও তৈরি থাকতে হবে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে… যে কোনো কিছু ঘটতে পারে। আর পারমাণবিক অস্ত্রধর কোনো দেশ শেষ পর্যন্ত লড়ে গেলে এর পরিণতি সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে যাবে। বিশ্বও এর ফল ভুগবে।’

এদিকে আনন্দবাজার পত্রিকা জানায় : ইমরান খানের এ বক্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট সেক্রেটারি বিদিশা মৈত্র ইমরানের ভাষণ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যে ভাষায় ভারতকে আক্রমণ করলেন, তা এক জন রাষ্ট্রনেতার পক্ষে কোনও ভাবেই শোভন নয়। এ ধরনের মন্তব্য তাঁকে ধ্বংসের মুখে টেনে নিয়ে যেতে পারে।’ বিদিশা মৈত্র বলেন, ‘এটা সত্যিই দুর্ভগ্যজনক যে, পাক প্রধানমন্ত্রী গোটা বিশ্বকে আড়াআড়ি ভাবে ভাগ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর এই ভাষণ প্ররোচনামূলক। ঘৃণায় ভরা। জাতিসংঘের মঞ্চকে অন্যায় ভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন ইমরান। যে ধরনের শব্দ ইমরান প্রয়োগ করেছেন, তার মধ্য দিয়েই তাঁর মধ্যযুগীয় মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে। যা একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে একেবারেই অনভিপ্রেত।’

আগেদুর্নীতি না হলে দেশ আরও বেশি উন্নত হতো : যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী
পরেপ্লেনে যান্ত্রিক ত্রুটি অল্পের জন্য রক্ষা ইমরান খানের