যে স্ট্যাটাসের কারণে মামলা

0
6

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও পৌরসভা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জমির উদ্দিন। স্থানীয় সূত্রে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও পটিয়ার একসময়ে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন জমির উদ্দিন। বেশ কয়েকবার জেলও খেটেছেন। বিগত পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য দৌড়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে সরে যান। নানা কারণে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর সাথে দূরত্বও রয়েছে জমির উদ্দিনের। তবে স্থানীয়রা বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। যে কারণে চাইলেও এমপির কাছে ভিড়তে পারেনি জমির উদ্দিন। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, হুইপের ছেলে ও ভাইদের বিরুদ্ধে নানান বিষয়ে স্ট্যাটাস দিতে থাকেন জমির। সর্বশেষ দুটি স্ট্যাটাস লেখেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে। এনিয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা আবু সাঈদ তানভীর বাদী হয়ে ১০ অক্টোবর পটিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে।

 

 

সর্বশেষ ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৯টা ০৬মিনিটে নিজের ফেসবুক (ডিএম জমির উদ্দিন) ওয়ালে জমির লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও আমার প্রিয় পটিয়াবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, বিচ্ছু এবং বিচ্ছুর পরিবার নিয়ে আমি যা কিছু লিখেছি সবিতো … সত্যি। এই ব্যাপারে আপনারাও অবগত আছেন! আমার কথাগুলো যদি সত্যি হয় তাহলে তারা কেন ভাল হচ্ছেনা? … তারা উল্টো একজন ছাত্র শিবিরের সাথীকে পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি করেছে এবং তাকে দিয়ে গতকাল আমার জন্য একটি অহেতুক ষড়যন্ত্র মামলা করেছে। আমি সমালোচনা করেছি পটিয়ার ঘাতক, বাটপার এবং খুক্ষাত পরিবারকে নিয়ে, কিন্তু এই মামলার ব্যাপারে আমি যখন নিশ্চিত হলাম পরে জানতে পারলাম তার নাম নাকি কোরবান আলী। ওরফে বিচ্ছুর ইয়াবা সম্রাট, সে পটিয়া থানায় গিয়ে কিভাবে আমার জন্য মামলা করতে সাহস পেল??? আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেসিনো, মদ জুয়া,সহ মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, চল যায় যুদ্ধে, মাদক, সুদ, জুয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে,,,, সে জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর অধীনে একজন হুইপ হয়ে উল্টো তিনি কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গিয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন? তিনি বলেছেন ক্লাব চালানোর জন্য সরকার কি কোন টাকা দেয়? আজকের এই দিনে সরকার বলতে কাকে বোঝায়? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোঝায়! আওয়ামীলীগ ও জাতির কাছে আমার প্রশ্ন? তাহলে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে চেলেঞ্জ করেছে নিশ্চয়ই??? তার এতো শক্তি, এতো সাহস কোথা থেকে পেল??? সে নাকি আমাকে (বিচ্ছু) বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে ধরে নিয়ে জোর করে বিষপান করিয়ে হত্যা করবে! আর এটা আত্মহত্যা বলে পদ্ধাসেতুর মতো মাথা লাগবে বলে অপপ্রচার চালিয়ে যাবে! প্রিয় দেশবাসী আমি এই কুফুরি কাজ কখনো করবো না, প্রয়োজনে আমি জ্বিহাদ করবো, তবুও এভাবে মরবো না! আপনারা আবরার হত্যার মতো তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যাবেন! … জমির হত্যাকারী কেউ ছাড় পাবেনা। আর মামলার প্রধান আসামি হবে সামশুল হক চৌধুরী (এমপি) ওরফে বিচ্ছু, মাহাবুব চৌধুরী, মহব্বত চৌধুরী, নবাব চৌধুরী!’
একইভাবে গত ৯ অক্টোবর রাত ৮টা ৩২মিনিটে আরেক স্ট্যাটাসে লেখেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ ও উত্তর, দক্ষিণ মহানগর সহ পটিয়া উপজেলা ও পৌরসভার নেতাকর্মীদের কাছে আমার বিবেকের প্রশ্ন??? আমার এই একমাত্র সন্তান যাকে আমি হারিয়ে ফেলেছি,, এই বিচ্ছুর পুলিশ বাহিনীর অত্যাচারে। আমি নাকি জাবেদ সরোয়ারের মামলার আসামি? আসলে ঐ মামলায় আমার কোন সম্পৃক্ততা ছিলোনা, এবং আমার নামও ছিলোনা। কিন্তু ঐটা প্রচার করে পুলিশ দিয়ে আমাকে অনেক হয়রানি করেছে! পুলিশের জন্য আমার এই সন্তানকে মেডিকেলেও নিতে পারিনাই, বিচ্ছু বাহিনীর হয়রানি এবং পুলিশের ঘর ভাংচুরের কারণে আমার ছেলের গলায় দুধ আটকে যাওয়ার পরেও আমি পুলিশের হয়রানির কারণে মেডেকেলে নিতে পারিনাই, এক সপ্তাহ পর্যন্ত আমার বাড়িতে এ্যাম্বুলেন্স ও কোন গাড়িও ঢুকতেও পারে নাই, পরবর্তীতে আমার ছেলেটা মারা যায়! এই বিচ্ছুর অত্যাচারে আমার মা এবং বড় ভাইকেও হারিয়েছি। তাকে কখনো ক্ষমা করবো না।

সুত্রঃদৈনিক আজাদী

 

আগেটেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গাসহ ২ মাদক কারবারী নিহত
পরেকক্সবাজার সৈকতের ঝাউবন খেকে টমটম চালকের লাশ উদ্ধার