আজ ২১ অক্টোবর সোমবার সকালে নিজের ফেসবুকে ভোলার ঘটনা নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল। পাঠকদের জন্য হুবহ তুলে ধরা হল-ভোলা-র ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধেও তদন্ত করতে হবে। কোন অধিকারে, কি পরিস্থিতিতে তারা এমন নির্বিচার গুলি করলো? কোন সাহসে এতো মানুষকে আহত করলো, এমনকি চারজন মুসুল্লীর জীবন কেড়ে নিল? এসবের বিচার করতে হবে।
পুলিশকে বুঝতে হবে কোন মানুষের জীবন এতো সস্তা না।এর আগে গতকাল রবিবার সকালে ভোলার বোরহানউদ্দিনে হিন্দু ধর্মালম্বী এক ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসুল (স:) কে নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে সাধারণ মুসুল্লিদের ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রবিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া সমাবেশে হঠাৎ পুলিশের সঙ্গে সাধারণ জনতার এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ ব্যাপারে ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার গণমাধ্যমকে তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চারজন নিহত হয়েছে। এদিকে নিহতরা হলেন, শাহিন, মাহবুব, মাহফুজ ও মিজান। এদের মধ্যে একজন কলেজছাত্র এবং একজন মাদ্রাসাছাত্র বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগ এনে রবিবার সকালে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সময়ের আগে সমাবেশ শেষ করতে বলায় মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে জনতা। পরে পুলিশ গুলি চালায়। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার বিকালে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে আল্লাহ ও রাসুল সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ কিছু কথাবার্তা কয়েকজন ফেসবুক বন্ধুর কাছে ম্যাসেজ করা হয়। এক পর্যায় কয়েকটি আইডি থেকে ম্যাসেজগুলোর স্ক্রিনশর্ট নিয়ে ফেসবুকে কয়েকজন প্রতিবাদ জানালে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।
এই অবস্থায় সন্ধ্যার পর বিপ্লব চন্দ্র বোরহানউদ্দিন থানায় আইডি হ্যাক হয়েছে মর্মে জিডি করতে আসেন। এ সময় পুলিশ বিষয়টি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিপ্লব চন্দ্রকে তাদের হেফাজতে রাখে। এ ঘটনায় রবিবার ডাকা সমাবেশেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সূত্র: জাগো রিপোর্ট ২৪ ডটকম