[post_category_links]

রামুতে সেপটিক ট্যাংক নাটকের মূল হোতা রনতোষ ও রুবেল গ্রেপ্তার

[post_sub_title]
[post_reporter_with_date]

 

রামু প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের রামুতে চাঁদাবাজি মামলায় আটক হয়েছেন আলোচিত রনতোষ বড়ুয়া ও রুবেল বড়ুয়া।

তারা রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের  শ্রীকূল গ্রামের বাসিন্দা। একই এলাকায় একটি বাড়ির নির্মাণ কাজ চলাকালে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে কথা বাড়াবাড়ির সময় সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যান রনতোষ বড়ুয়া। এ নিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসম্পূর্ণ ও এডিট করা ভিডিও প্রচার করে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়ার নাটক সাজান রনতোষ বড়ুয়া।

পরে ওই ঘটনায় চাঁদাবাজির অভিযোগে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেন- ভুক্তভোগী সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা সন্তোষ বড়ুয়া।

এ মামলায় মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১ টায় রামুর উত্তর শ্রীকুলস্থ বাড়ি থেকে রনতোষ ও রুবেলকে আটক করে রামু থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আটক দুইজনই চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে,

উত্তর শ্রীকূল গ্রামের সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা  সন্তোষ বড়ুয়ার সঙ্গে তাঁর সৎভাই রনতোষ বড়ুয়া ও রুবেল বড়ুয়ার দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিষয় নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্যদের মাধ্যমে শালিস বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও  রনতোষ–রুবেলপক্ষ কোনো শালিস মানেননি।

এজাহারে আরো জানা যায়, সন্তোষ বড়ুয়া নিজ বসতবাড়ির নির্মাণকাজ চালিয়ে আসছিলেন।  এ অবস্থায় চলতি বছরের গত ৮ মার্চ  শ্রমিকেরা কাজ  করতে গেলে রনতোষ বড়ুয়া ও রুবেল বড়ুয়া তাদের কয়েকজন সহযোগী সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেআইনিভাবে সন্তোষ বড়ুয়ার বসতভিটায়  প্রবেশ করে এবং কর্মরত শ্রমিকদের কাজে বাধা প্রদান করে।  কাজ চালিয়ে যেতে চাইলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা সন্তোষ বড়ুয়ার উপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার মাঝে সন্তোষ বড়ুয়া গত ২৪ মার্চ বিজ্ঞ আদালতে মামলা (নং সিআর ২০২/২০২৫) দায়ের করেন। এ মামলায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার বাদী সন্তোষ বড়ুয়া জানান,

ঘটনার দিন আমি ঘরের কাজ তদারকি করছিলাম। এ সময় হঠাৎ রনতোষ, রুবেল ও  তাদের সহযোগিরা এসে আমার  মিস্ত্রিকে কাজ বন্ধ করতে বলেন এবং আমার কাছ থেকে কাজ চালাতে হলে  ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এক পর্যায়ে তারা আমার উপর হামলা করলে, আমাকে বাঁচাতে দৌড়ে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে আসে। এ সময় আমার ছেলে তাদের বাঁধা দিতে গেলে তাদের সাথে ধস্থাধস্থি হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে রনতোষ পাশের সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যায়। এবং মিনিট দুয়েকের মধ্যে সেখান থেকে উঠে পুনরায় আমি ও আমার ছেলের উপর হামলা করে এবং  বাড়ির সীমানা পিলার ভাংচুরসহ  বাড়িঘরে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

কিন্তু এঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজের আগে ও পরের অংশ বাদ দিয়ে এডিট করে মাত্র তিন সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে উল্টো আমাদের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে।

রামু থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ জানিয়েছেন-  বিজ্ঞ আদালতে দায়েরকৃত একটি চাঁদাবাজি মামলায় রণতোষ  বড়ুয়া ও রুবেল বড়ুয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ছিলো। পুলিশী অভিযানে তাদের আটক করা হয়োছে। বুধবার দুপুরে আটককৃত দুইজনকে কক্সবাজার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, সেপটিক ট্যাংক কেলেংকারী ছাড়াও আটক রনতোষ বড়ুয়া ও রুবেল বড়ুয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের মাথা নিজেরা ফাটিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মিথ্যা নাটক সাজানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, তাদের ভাই সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা সন্তোষ বড়ুয়ার সঙ্গে তাঁর সৎ ভাই রনতোষ বড়ুয়াদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাদের উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার হামলা মামলার ঘটনাও ঘটে। দুই পক্ষের বিরোধ চরমে পৌঁছালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের কিছু বিশিষ্টজন বিরোধ মিমাংসার উদ্যােগ নেন। দুই পক্ষের সম্মতিতে উভয়পক্ষ সালিশকারীদের বিচার মানার সম্মতিও প্রদান করে। সম্প্রতি সেই সালিশের রায় ঘোষনার জন্য চৌমুহনী স্টেশনের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উভয় পক্ষের বৈঠক ডাকেন শালিসকারীরা ।

বৈঠকে বিচারকেরা সিদ্বান্তগুলো উভয়পক্ষকে পড়ে শোনানো শুরু করলে রুবেল বড়ুয়া এসব সিদ্ধান্ত মানতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ফলে শালিসকারীদের সঙ্গে রুবেল বড়ুয়ার পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে অমিমাংসিতভাবে বৈঠক শেষ হলে উভয় পক্ষ চলে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিপক্ষ ও তাদের সৎভাই সন্তোষ বড়ুয়াকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে চৌমুহনী স্টেশন থেকে গ্রামের রাস্তায় ঢুকেই বড় ভাই রনতোষ বড়ুয়া ছোট ভাই রুবেল বড়ুয়াকে মাথায় আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত করে গ্রামে প্রতিপক্ষের লোকজন ইটদিয়ে মাথায় আঘাত করেছে বলে প্রচার করে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা সনদ নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। তবে ওইসময় আসল ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তাদের এ অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

[category_title title="সর্বশেষ" slug="সর্বশেষ"]

[category_title title="এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়" slug="#"]