
এর আগে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে রাখাইনের বেশ কয়েকটি সামরিক চৌকিতে বিচ্ছিন্ন হামলার প্রেক্ষিতে রাজ্যটিতে সন্ত্রাসী দমনের নামে অভিযান শুরু করে সেনা সদস্যরা। এতে সে সময় হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন নির্যাতন থেকে বাঁচতে একই বছরের ২০ আগস্ট পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে প্রায় ৭ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী।
জাতিগত নিধনের ফলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরাট একটি অংশ পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে সক্ষম হলেও; জাতিসংঘের তথ্য মতে, এখনো প্রায় ৪ লাখের বেশি লোক প্রদেশটিতে রয়ে গেছেন।
সংস্থাটির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলাগুলোতে দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং মিয়ানমারে মানবাধিকার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
যার অংশ হিসেবে দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ইয়াংঘি লি এরই মধ্যে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। যেখানে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং কর্মকর্তাদের ওপর অবশ্যই বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।’
এ দিকে বুধবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছিলেন, ‘এখনো যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরোধিতা করে যাচ্ছেন সেসব আন্দোলনকারী, অ্যাক্টিভিস্ট এবং সাংবাদিকদের একে একে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিচারের আওতায় এনেছে। আর এতে আমাদের গণতন্ত্র পুরোপুরি বিনষ্ট হয়।
ইয়াংঘি লি বলেছেন, ‘এমন সংকটময় পরিস্থিতির অবসান প্রয়োজন। অবিলম্বে তাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। যে কারণে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন সম্পূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনার মাধ্যমে মিয়ানমারকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তোলতে হবে।’
অপর দিকে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসম্যান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এরই মধ্যে গণহত্যার শক্ত আলামাত পাওয়া গেছে। যে কারণে মিয়ানমার খুব শিগগিরই জেনোসাইড কনভেনশনের আওতায় পড়তে যাচ্ছে। তাই সম্পূর্ণ তদন্তের মাধ্যমে গণহত্যার বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
গত মাসে সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, রাখাইন ছেড়ে পালানোর কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে দেশটির আদালতে বিভিন্ন অপরাধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তাছাড়া অন্তত আটজন শিশুকে এখন পর্যন্ত আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের বয়স মাত্র পাঁচ বছরেরও কম।
জাতিসংঘ মিশনের দাবি, রাখাইনে বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইয়াংঘি লির মতে, ‘বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা কখনোই রাখাইনে নিরাপদভাবে ফিরে আসতে পারবে না। কেননা এখনো সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।’













