এবার বিএনপি ছাড়লেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খান

0
4

কক্সবাজার খবর ডেস্কঃ

গত কয়েকদিনে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন নেতা বিএনপি ছাড়ার পর এবার বিএনপি ছাড়লেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান।

দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত চট্টগ্রামের এই জনপ্রিয় নেতা বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। তিনি শুধু ভাইস চেয়ারম্যান থেকেই নয়, বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও তার নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।

মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব বরাবর লোক মারফত মোরশেদ খান পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে বিএনপির একাধিক সূত্র।

পদত্যাগপত্রে ‘নেহাত ব্যক্তিগত’ কারণ উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

তবে তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন  দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে অবজ্ঞা, মনোনয়ন না দেওয়া এবং চট্টগ্রাম ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে কোণঠাসা করে রাখার কারণেই দল ছাড়তে তিনি বাধ্য হয়েছেন ।

এ ব্যাপারে  মোরশেদ খান গণমাধ্যমকে  বলেন, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করে তার উপলব্ধি হয়েছে,সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।

মহাসচিবের মাধ্যমে দলের চেয়ারপারসনের কাছে পদত্যাগের চিঠি লিখেছেন মোরশেদ খান। পদত্যাগ পত্রে মোরশেদ খান বিএনপি নেত্রীকে লিখেছেন, ‘আজ অনেকটা দুঃখ ও বেদনাক্লান্ত হৃদয়ে আমার এই পত্রের অবতারণা। মানুষের জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হয়, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আমার বিবেচনায়, সে ক্ষণটি বর্তমানে উপস্থিত এবং উপযুক্তও বটে। তিনি রাজনীতির অঙ্গনে তার দীর্ঘকালের পদচারণা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম এবং দেশের মানুষের কল্যাণে অবদান রাখার কথা উল্লেখ করেন।’

পদত্যাগ পত্রে আরো বলেন, বিএনপি এবং আপনার যোগ্য নেতৃত্বের কাছে কৃতজ্ঞ। তবে বর্তমানে দৃঢ় বিশ্বাস দেশের রাজনীতি এবং দলের অগ্রগতিতে নতুন কিছু সংযোজনের সঙ্গতি নেই। আমার উপলব্ধি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। বহু বিচার-বিশ্লেষণে বিএনপির রাজনীতি থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রাথমিক সদস্যসহ ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করছি। অব্যাহতি দিয়ে বাধিত করবেন।

মোরশেদ খান ১৯৮৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। এর পর চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সাল, এর পর জুন ’৯৬ এবং ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিশেষ দূত ছিলেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্পেশাল কমিটি অন ফরেন অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যানও ছিলেন। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত জোট সরকারের আমলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মোরশেদ খানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। চট্টগ্রামের এক নেতা যিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তার কারনেই  মোরশেদ খান মনোনয়ন পাননি বলে চট্টগ্রামের নেতা কর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে।এসব নেতাকর্মীরা বলছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও মোরশেদ খানকে অবজ্ঞা করেছেন।  তাই  ক্ষোভ থেকে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

আগেধেয়ে আসছে বুলবুল, বন্দরে সতর্কতা
পরেজেএসসি,জেডিসি পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে রামুতে যানজট নিরসন করতে সড়কে ইউএনও