চট্টগ্রামে ৮০% গাড়ির সিলিন্ডারই ঝুঁকিপূর্ণ

0
8

কক্সবাজার খবর ডেস্কঃ

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম নগরীতে চলাচল করছে নিবন্ধিত প্রায় ১৩ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সবমিলে গ্যাসচালিত পরিবহন ৫০ হাজারের বেশি। এসব পরিবহনের ৮০ শতাংশ তাদের গ্যাস সিলিন্ডার পুনঃপরীক্ষা করেনি।

এতে যাত্রীদের মধ্যে বিস্ফোরণ আতঙ্ক কাজ করছে। তারা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে সড়ক ও বাসাবাড়িতে ৪০টি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অনেক প্রাণহানি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দুর্বল মনিটরিং ও অবহেলার কারণে মালিক ও চালকরা নির্দিষ্ট সময় পার হলেও, গাড়ির সিলিন্ডার পুনঃপরীক্ষা না করায় দুর্ঘটনা ঘটছে।

অবশ্য গত জুলাইতে মালিক-চালকদের নিয়মের আওতায় আনতে বিস্ফোরক অধিদপ্তর কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা জারি করে। এতে সিলিন্ডার পুনঃপরীক্ষার সনদ দেখানো ছাড়া গ্যাস না দিতে দেশের প্রায় ৬০০ সিএনজি ফিলিং স্টেশনকে চিঠি দেওয়া হয়।

কিন্তু চট্টগ্রামে এ নির্দেশনা কেউই মানছে না। সনদ ছাড়াই স্টেশনগুলো গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করছে।

চালকদের অভিযোগ, মালিকরা উদাসীন। তারা দৈনিক ভাড়া আদায়ে ব্যস্ত। যাত্রীদের জীবন তাদের কাছে কিছু না।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. ফখরুদ্দীন কবির জানান, সাত বছর তিনি এক মালিকের অটোরিকশা চালিয়েছেন। বারবার বলার পরও মালিক সিলিন্ডার পুনঃপরীক্ষা করাননি।

পরে বাধ্য হয়ে আরেক মালিকের অটো চালাচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্সচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মালিকরা টাকা ছাড়া কিছু চেনে না। মবিল পর্যন্ত পাল্টাতে হয় আমাদের। মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুলেন্স বানিয়েছেন। ফলে এগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক।

তেলচালিত গাড়িকে সিএনজিতে রূপান্তর করলে, প্রতি পাঁচ বছর পরপর পুনঃপরীক্ষা করাতে হয়। আড়াই থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে এটি করা যায়। পরে বিস্ফোরক অধিদপ্তরে এ পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দিতে হয়।

কিন্তু চট্টগ্রামে বেশিরভাগ মালিক ও চালকরা পুনঃপরীক্ষা করাতে গড়িমসি করেন। সাদার্ন সিএনজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, ম্যানুফ্যাকচার ও প্রেসারের শতাংশের ওপর ভিত্তি করে সিলিন্ডারের মেয়াদ দুই থেকে পাঁচ বছর দেওয়া হয়।

ভাড়ায়চালিত পরিবহন মালিকরা টাকা বাঁচাতে নিমœমানের সিলিন্ডারে সিএনজি রূপান্তর করে। এতে যাত্রী ঝুঁকি বাড়ছে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, ‘ব্যবহারের ফলে গ্যাস সিলিন্ডারের ক্ষয় হয়, মরিচা ধরে। এ ধরনের সিলিন্ডারে বাড়তি প্রেসার দেওয়া হলে বিস্ফোরণ হয়।’

তিনি বলেন, ‘রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামে সিএনজি গ্যাসে রূপান্তিত ৮০ শতাংশ পরিবহন পুনঃপরীক্ষা করেনি। এতে যাত্রীরা মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।’

এ বিষয়ে বিস্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন জানান, বেশিরভাগ সিলিন্ডারে মানহীন ফাইবার ব্যবহার করায় দুর্ঘটনা ঘটছে। সবশেষ আনোয়ারায় বিস্ফোরিত অ্যাম্বুলেন্সের সিলিন্ডারটি ছিল প্লাস্টিকে মোড়ানো ফাইবার সিলিন্ডার।

এ ধরনের সিলিন্ডার সিএনজি রূপান্তরের কোনো কাজই করে না। তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা জনসচেতনতায় লিফলেট, পোস্টার বিতরণ করছি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা এলে সেভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’-  দেশ রূপান্তর

আগেচকরিয়ায় তৃতীয় শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ
পরেআ’ লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ব্যাপক রদবদলের আভাস