রামুতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তার তালিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন! জনসম্মুখে তালিকা প্রকাশের দাবী

0
4

হাসান তারেক মুকিম,রামুঃ

দেশে চলমান করোনা মহামারির  সংকট কালীন এই সময়ে সরকার ঘোষিত অসহায় মানুষদের জন্য প্রধান মন্ত্রীর উপহারের স্বচ্ছ তালিকা তৈরি নিয়ে নানা অনিয়ম দৃশ্যমান হলেও রামুতে এর ভিন্নতার প্রমান দিয়েছে খুনিয়া পালং ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ। তিনি তার নিজস্ব পেইজবুক ওয়ালে প্রধানমন্ত্রীর ২৫০০ টাকা অনুদানের ১০৫০ জনের নামের তালিকা ১শত স্পটে টাঙ্গিয়ে দিয়ে অনিয়ম হলে জবাবদিহীতার ঘোষনা দিয়ে দুর্ণীতি ভাবাপন্ন অনেককে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছেন।

প্রায় ২ মাসের অধিক সময় ধরে করোনা মহামারিতে আটকে পড়া কর্মহীন গরীব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের জীবন জীবিকার বিষয় বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  ক্রমাগতভাবে ত্রানসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছেন।

পাশাপাশি সরকারী বরাদ্ধ আত্মসাৎ কিংবা দুর্ণীতি ঠেকাতে সরকার নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসলেও তা ঠেকাতে চরমভাবে হিমশিমে পড়তে হয়।  যার ফলে সারা দেশে তথা কক্সবাজার জেলায়ও ত্রাণ আত্মসাৎ এর দায়ে অনেক চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত হওয়াসহ অনেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহন করা হয়েছে।

 

এমতাবস্থায় রমজানের ঈদকে সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০ লক্ষ দুঃস্হ মানুষের জন্য জন প্রতি ২৫০০ হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা ঘোষনা করেন। সম্প্রতি সেই তালিকায়ও দেশের বিভিন্ন স্থানে চেয়ারম্যান, মেম্বারদের যোগসাজসে তালিকা প্রনয়নে প্রচুর অনিয়ম ও  নানা জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করার পরিকল্পনা দৃশ্যমান হয়।ইতিমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের প্রদত্ত উপকারভোগীর তালিকা থেকে তদন্ত পুর্বক  ৮ লাখ মোবাইল নাম্বার স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগে   সরকার বাতিল ঘোষনাও করা হয়।

ফলে বর্তমান সময়ে চেয়ারম্যান, মেম্বারের প্রতি অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট হয়েছে।  এমতাবস্থায় সরকারের নির্দেশনা না থাকলেও কিছু কিছু চেয়ারম্যান নিজেদের দুর্ণীতিমুক্ত ও স্বচ্ছতার পরিচয় দেওয়ার জন্য নিজ উদ্যোগে প্রণয়ন করা তালিকা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্পটে টাঙ্গিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। কয়েক জন চেয়ারম্যান কর্তৃক এরকম ঘোষনায় জনগণের কাছ থেকে বাহবা পেয়ে আসলেও বেকায়দায় পড়েছে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের অন্যান্য দুর্ণীতি ভাবাপন্ন চেয়ারম্যান ও  মেম্বারবৃন্দ। বর্তমানে রামু উপজেলায় ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে সরকারের দেওয়া উপহার সামগ্রীর তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়মও অসচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে তালিকা তৈরীর বিষয় নিয়ে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের প্রকাশ্যে নানা তর্ক বিতর্ক ও বাক বিতন্ডার ঘটনাও ঘটেছে। কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের এমদাদুল হক নামের একজন প্রবাসী তার পেইজবুক ওয়ালে চেয়ারম্যান মোস্তাক আহাম্মদ কে এধরনের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।একই ভাবে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী দেলোয়ার হোসেন নামের এক জনের পেইজবুক ওয়ালে চেয়ারম্যান ইউনুছ ভুট্টোকে তালিকা প্রকাশের অনুরোধ জানান।

 

এদিকে ১১ইউনিয়নের মধ্যে খুনিয়াপালং ইউপি  চেয়ারম্যান তালিকা টাঙ্গানোর ঘোষনা দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ায় বাকী ইউনিয়ন ফতেখাঁরকুল, রশিদ নগর, চাকমারকুল, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, রাজারকুল, কাউয়ারখোপ, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, ঈদগড়, জোয়ারিয়ানালাসহ ১০ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দকেও তাদের স্ব স্ব  তালিকা বিভিন্ন স্পটে টাঙ্গিয়ে দেওয়ার দাবী জানিয়েছে স্থানীয় জনগণ। এসব ইউনিয়নের তালিকা তৈরী করণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে বর্তমানে নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ফলে রামু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনসাধারণের দাবী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার সামগ্রী সঠিক বন্টনের তালিকা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে জনগণের হাতে তাদের জবাবদিহি করতে হবে। সচেতন মহল এই তালিকা প্রণয়নে সঠিক ব্যবহার হয়েছে কিনা তা সুষ্ঠু তদন্ত করে উপহার সামগ্রী যথাযথ গরীব অসহায়দের হাতে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।

এদিকে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদ  খুনিয়াপালং ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ১০৫০জনের তালিকা গুরুত্বপুর্ন১শ স্পটে টাঙানো হবে কাল,  অনিয়ম হলে জবাবদিহিতে প্রস্তুত আছেন উল্লেখ করে তার ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া পোস্ট ইতিমধ্যে সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তার এধরনের উদ্যোগ কে সচেতন মহল সাধুবাদ জানিয়েছেন। এটি তার সৎ ও সাহসী  দৃষ্টান্তের  পাশাপাশি  অন্যান্য জনপ্রতিনিধির জন্য একটি শিক্ষনীয় ও অনুকরণীয় বলেও উল্লেখ করেন।

 

 

 

 

 

 

আগেম্যাজিস্ট্রেট দেখে দোকান খোলা রেখে পালিয়ে গেল দোকানদারেরা
পরেজনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জরুরি ইমার্জেন্সী সাইরেন বাজিয়ে রামু ইউএনও’র সতর্কতা