
হাসান তারেক মুকিম
রামুতে ২৪ মে রবিবার পর্যন্ত সর্বমোট ২৯৬ জনের করোনা স্যাম্পল টেষ্ট করা হয়েছে। তৎমধ্যে ৮ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। এ আট জনের মধ্যে মৃত্যু বরন করেছে ১জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ জন ও ৪ জন রোগী রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চত করেন।
জানা যায়, কক্সবাজার জেলায় রামুতেই সর্বপ্রথম করোনায় আক্রান্ত এক মহিলার মৃত্যু হয়।
৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮ টায় ছেনুআরা বেগম নামের ওই নরী কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ছেনুআরা বেগম (৬৫) রামু উপজেলার পুর্ব কাউয়ারখোপ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আলহাজ্ব আবদুল্লাহর স্ত্রী। ২৯ এপ্রিল অসুস্থ অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরের দিন (৩০ এপ্রিল) বৃহষ্পতিবার নমুনা পরীক্ষায় ছেনুআরা বেগমের করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসে। ঐদিন রাত আটটায় ছেনুআরা বেগমের মৃত্যু হয়।
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া ৩ জনের মধ্যে প্রথম জন রামু উপজেলার কাউয়াখোপ ইউনিয়নের গাছুয়া পাড়া ৭ নং ওয়ার্ডের মৃত ছুরুত আলমের পুত্র সালেহ আহমদ (৩৬)। তিনিই রামুর সর্বপ্রথম করোনা সনাক্ত রোগী । সে নারায়নগঞ্জ ফেরত ছিল। দ্বিতীয় জন জোয়ারিয়ানালা এলাকার মৃত আবদুল হাকিমের পুত্র ডাক্তার সাজ্জাদ হোছাইন । তিনি একজন পশু চিকিৎসক। ঐ পশু চিকিৎসকের বর্তমান কর্মস্থল টেকনাফ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসে। তিনি টেকনাফে কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হন। পরে নমুনা পরিক্ষায় তার করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। যদিওবা তিনি ঠিকানা উল্লেখ করেছিলেন রামু জোয়ারিয়ানালা তার নিজ এলাকার। তৃতীয় জন রামু চাকমারকুল ইউনিয়নের শ্রীমুরা এলাকার আবু শমার পুত্র শাহেদ ইমরান ।
এদিকে বর্তমানে রামু আ্ইসোলেশন হাসপাতালে সিকিৎসাধীন আছেন, জসিম উদ্দিন (৪২) তিনি র্যাবের সদস্য।গত ১৯মে তার দেহে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। আরেক জনের নামও জসিম উদ্দিন তিনি রামু ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য । ২১মে নমুনা পরিক্ষায় তার করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসে। বাকিরা হলেন,
রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের হাইটুপী ভূতপাড়া এলাকার মৃত হানিফের ছেলে আনোয়ার হোসেন ও রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন আবদুল লতিফের ছেলে নুরুল ইসলাম। ২৩মে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে তাদের করোনা রির্পোট পজেটিভ আসে।
রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া বলেন, আমরা করোনা ভাইরাস সচেতনতায় এবং প্রতিরোধে রামুর এগার ইউনিয়নে ঢিম করে দিয়েছি। প্রতিটি ইউনিয়নে একেক জন স্বাস্থ্য পরিদর্শকের নেতৃত্বে আমরা একেকটি টিম গঠন করে দিয়েছি। পাশাপাশি মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি এলাকায় সর্তকতামুলক প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছি। করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা পরিবারের সদস্য ও আশপাশের সন্দেহভাজন প্রতিবেশীদেরও আমরা নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষার জন্য পাঠিয়ে দিচ্ছি।
এদিকে রামুতে করোনা প্রতিরোধে রামু ইউএনও প্রণয় চাকমার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রামুর সচেতন মহল। তাদের অভিমত রামু উপজেলার ১১ ইউনিয়নে জনসাধারণকে করোনার বিস্তার ও সংক্রমন থেকে মুক্ত রাখতে সর্বদা তৎপর রয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রনয় চাকমা। তিনি করোনার শুরু থেকে, দিনরাত পরিশ্রম করে ১১ ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন । অসংখ্য প্রবাসী ও ভিন্ন জেলা থেকে আগত ব্যক্তিদের বাড়ি লকডাউন সহ তাদের হোম কোয়ারেইন্টাইন নিশ্চিত করেছেন। হাট বাজারসহ প্রতিটি জনবহুল এলাকায় প্রতিনিয়ত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জনসমাগম নিয়ন্ত্রন করেছেন এবং অদ্যাবধি করে যাচ্ছেন । প্রণয় চাকমার বিচক্ষনতা ও কর্মকদক্ষতায় এখন পর্যন্ত রামুতে উল্লেখযোগ্য ভাবে করোনা রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক রয়েছে বলেও তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ যে কক্সবাজার জেলার অন্যান্য উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই তুলনাই রামুতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক রয়েছে।













