
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রেখে বর্ষার শুরুতেই যখন মুষলধারায় বৃষ্টি নেমেছে ঠিক তখনই কাজে হাত দিয়েছে সওজ-এর টিকাদার রানা বিল্ডার্স লিমিটেড (আর.বি.এল)। এভাবে অপরিকল্পিত ভাবে সড়ক নির্মাণ কাজে হাত দেওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন স্থানীয় ভবন মালিক, ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা।
পাশাপাশি পথচারীদেরও দুর্ভোগ বেড়েছে। শুধু তাই নয়- টিকাদারের এমন উশৃঙ্খল কাজের কারণে ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে মাঝারি ছোটো আকারের বহুতল মার্কেট ও ভবনগুলো। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে অনুরোধ করা হলে- টিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সাথে স্থানীয় দোকানপাট ব্যবসায়ীদের সাথে রীতিমতো হাতাহাতি মারামারি পর্যায়ের ঘটনাও ঘটেছে। আজ বুধবার ১৭জুন সকালে এসব ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত আরিফ মার্কেটের মালিক আলী আহমেদ অভিযোগ করে জানান- শুষ্ক মৌসুমে যখন কাজের জো ছিলো তখন কাজ বন্ধ রেখেছিলো এই টিকাদার। আর এখন বর্ষার শুরুতে এসে কাজে হাত দেওয়ায় নানামুখী অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। টিকাদার অনভিজ্ঞ লোকজন দিয়ে কাজ করানোর ফলে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি দ্বিগুণ বেড়েছে। তারা স্কেভেটার দিয়ে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে মাটি কেটেছে। অহেতুক যত্রতত্র গর্ত করে ফেলেছে। ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমির উপর হস্তক্ষেপ করেছে। যা সম্পূর্ণরূপে বেআইনী।
তিনি জানান- যেখানে সওজের লোকজন রাস্তা নির্মাণের কাজ করছে এটি তার নিজস্ব ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমি। যার খতিয়ান নং- ৩৮৮ (ঝিলংজা মৌজা)। কিন্তু এতদসত্বেও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের লোকজন গায়ের জোরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে কাজ করার কারণে দুর্ভাগ্যবশত বৃষ্টির পানি এবং কাদা মাটিতে তলিয়ে যাচ্ছে আশেপাশের এলাকা। এছাড়াও ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে আরিফ মার্কেটসহ আরও বিভিন্ন পাকা দালান।
এদিকে ভবন ধ্বসে পড়ার মতো দুর্ঘটনা আসন্ন দেখতে পেয়ে তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থলে কিছু কাদা মাটি এনে ভরাট করে দেয়ার চেষ্টা করছেন নির্মাণ কাজের লোকজন। এসময় দায়িত্বরত টিকাদার মামুন অবস্থা বেগতিক দেখে পালিয়ে যায়। এবিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নাম্বার বন্ধ থাকায় মামুনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিন দেখা গেছে- লিংকরোডে সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনে চার লেইন প্রস্তাবিত সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে কাজ করছে টিকাদারি প্রতিষ্টান রানা বিল্ডার্স। এমন মুষলধারে বৃষ্টিতে অপরিকল্পিত ভাবে কাজ শুরু করায় ভয়াবহ রকমের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ব্রীজ নির্মাণের জন্য মাটিকাটার ফলে পার্শ্ববর্তী ভবনগুলো ব্যপকভাবে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে। সেখানে ভবন রক্ষায় নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হয়নি। যার ফলে মাটি ধ্বসে ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।
এবিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগরে নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তিনি জানান- এমনিতেই লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিলো। কিন্তু বিশেষ ব্যবস্থায় চার লেনের সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করি। আকস্মিক বৃষ্টির কারণে একটু অসুবিধা হচ্ছে। এছাড়াও সেখানে টিকাদার কর্তৃক অনিয়মের অভিযোগটিও খতিয়ে দেখে যথাযত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ উল্লাহ মারুফ বলেন, কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।













