রামুতে অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

0
7

সিবিকেঃ

অনুমোদন ছাড়াই কক্সবাজারের রামু চৌমুহনী স্টেশনে ‘রায়হান কমপ্লেক্স’ নামে একটি বাণিজ্যিক ভবনের ছয়তলার নির্মাণ কাজ চলছে। উপজেলা প্রশাসনের বাধার মুখে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও আবারও কাজ শুরু করেছেন ভবনটির মালিক ফেরদৌস। ফলে নির্মাণাধীন এ ভবনের ভাড়াটিয়াসহ এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী জানায়, জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই করোনা মহামারির সময়ে ভবনটি ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলা উদ্দিন খান বাংলানিউজকে বলেন, ইউএনওসহ আমরা ভবনটি পরিদর্শন করেছি। ভবন মালিক পাঁচতলা পর্যন্ত অনুমোদনের কাগজপত্র আমাদের দেখিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি পাঁচতলার কাজ শেষ করে ছয়তলার কাজ শুরু করেছেন। ছয়তলায় শুধুমাত্র ছাদ ঢালাইয়ের কাজ বাকি। কিন্তু আমরা ভবন মালিক ফেরদৌসকে ভবনটির অনুমোদনহীন অংশ ভেঙে ফেলার জন্য বলেছি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যাায়, কক্সবাজারের রামু চৌমুনী স্টেশনের উত্তর পাশেই রায়হান কমপ্লেক্স নামে এই ভবনটির অবস্থান। এতদিন ভবনটি চারতলা পর্যন্ত থাকলেও সম্প্রতি ভবনটিকে বর্ধিত করে ছয়তলা করা হচ্ছে। ভবনটির নিচতলায় বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং দোতলায় রামু হেলথ ডায়াগনস্টিক নামে একটি চিকিৎসা কেন্দ্রও রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটি নিয়ে আগে থেকেই লোকমুখে নানা কথাবার্তা রয়েছে। অনেকেই বলছেন, রাতারাতি ডোবা ভরাট করে পাইলিং বিহীন এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে এ ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল। সম্প্রতি ভবনটির ছয়তলা বর্ধিত করার কাজ শুরু করা হলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রামু চৌমুহনীর এক ব্যবসায়ী বাংলানিউজকে বলেন, প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রামু উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই রকম একটি ভবন তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। হয়তো আমরা সবাই রানাপ্লাজার মতো আরেকটি ঘটনার জন্য অপেক্ষা করছি।

এ বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমা বাংলানিউজকে বলেন, অনেকেই ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে আমরা সেই ভবনে যাই। যেকোনো সময় ভবনটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ভবন মালিককে ছয়তলার কাজ না করার জন্য নিষেধ করেছি।

ইউএনও বলেন, পাঁচতলা পর্যন্ত যদি অনুমোদন থাকে তিনি তো সেখানে ছয়তলা করতে পারেন না। এটা বড় ধরনের ঝুঁকি। যেসব উপজেলায় পৌরসভা নেই সেখানে এসব বিষয় দেখার এখতিয়ার উপজেলা পরিষদের। এ সংক্রান্ত একটি কমিটিও আছে। যে কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান আর সদস্য সচিব উপজেলা প্রকৌশলী। আমি কমিটির একজন সদস্য মাত্র।

রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিল্ডিং ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল বাংলানিউজকে বলেন, এ ধরনের বিষয় জনস্বার্থের জন্য বিরাট হুমকি। এভাবে অনুমোদনহীন বেআইনিভাবে যদি ভবন নির্মাণ করা হয় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এটি বন্ধ করা জরুরি।

আগেনাইক্ষ্যংছড়িতে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ৩ পাচারকারী আটক
পরেনিয়ন্ত্রণরেখায় সেনা সমাবেশ করছে পাকিস্তান, সতর্ক ভারত