
নিজস্ব প্রতিবেদক
শহরের টেকপাড়া মরহুম হাজী ফজল আহমদের বিল্ডিংটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটিতে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন একাধিক পরিবারের লোকজন। সম্প্রতি ওই বিল্ডিংয়ের প্লাস্টার খসে পড়ে এলাকাবাসীসহ পরিবারের লোকজন আহত হয়েছে। বড় ধরণের দুর্ঘটনা এড়াতে মেয়াদোত্তীর্ণ বিল্ডিং ভেঙে ফেলার পরামর্শ দেন সচেতন মহল। তাই সচেতন মহলের পরামর্শক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ বিল্ডিং ভেঙে নতুন করে তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছেন পরিবারের লোকজন। এই প্রশংসনীয় উদ্যোগে জনমনে স্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এ জন্য পরিবারের লোকজনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
মরহুম ফজল হাজীর স্ত্রী সানজিদা বেগম বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর ৪ পুত্র, ৪ কন্যা ও পুত্রদের স্ত্রী সন্তান নিয়ে ওই বিল্ডিংয়ে বসবাস করে আসছি। বর্তমানে ওই বিল্ডিংয়ের মেয়াদ ৫০ বছরের বেশি হয়েছে। অধিক পুরাতন হওয়ায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে বিল্ডিং। ইতোমধ্যে বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশ ভেঙে আমার ছেলের স্ত্রী সীমা আফ্রিন ও নাতি মোহাম্মদ সাফওয়ানসহ একাধিক পথচারী আহত হয়েছে। এই অবস্থায় বিল্ডিং ভেঙ্গে নতুন করে তৈরির জন্য কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও কক্সবাজার পৌরসভায় আবেদন করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে ভাঙার অনুমতি মিলে। অতি শিগগিরই আমার বড় ছেলে মৃত মোস্তফা কামালের স্ত্রী হাজেরা বেগমের অংশ ছাড়া বিল্ডিংয়ে আমাদের অর্ধেক অংশ ভেঙে ফেলা হবে। আমার অংশ ভাঙাকালীন কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে এ জন্য তিনি জেলা প্রশাসক, কউক চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রের সহযোগিতা কামনা করেন।
টেকপাড়ার এলাকার বাসিন্দা মহসিন জানান, মরহুম ফজল হাজী সাহেবের ভবন অনেক পুরোনো হয়ে গেছে। ভবন থেকে খসে পড়ছে সিমেন্টের প্লাস্টার ও লোহার মরিচীকা। এতে অনেক পথচারী আহত হয়েছে। দ্রæত ভবনটি ভাঙা না হলে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এ ব্যাপারে ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিদারুল ইসলাম রুবেল বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে ভবনটি ভেঙে ফেলা আবশ্যক। নতুবা বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বিল্ডিং ভেঙে নতুন করে তৈরি করার উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, শহরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বেড়ে গেছে। তাই আবেদনের প্রেক্ষিতে সব জরাজীর্ণ ভবন ভাঙার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। টেকপাড়ার মরহুম ফজল আহমদের ঝুঁকিপূর্ণ বিল্ডিংও ভাঙতে পৌর কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করবে।













