
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুরুশকুল সাম্পান ঘাটে কলেজ ছাত্রী ও বৃদ্ধসহ ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় রানা দে নামের এক আসামীকে আটক করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (০১ এপ্রিল) রাত ৮টায় শহরের জেনারেল হাসপাতাল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক রানা দে ওই এলাকার বাবুল দের পুত্র। এদিকে আসামীরা বাদী মনি কাঞ্চন দেসহ পরিবারকে নানা হুমকী ধমকী দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মনি কাঞ্চন দেসহ তার পরিবার।
মামলার বাদী মনি কাঞ্চন দে জানান, খুরুশকুল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সাম্পান ঘাট এলাকায় আমার পিতা মৃত সাধন চন্দ্র দে’র নামীয় বসতভিটা ও নাল জমিসহ জায়গা দখল করতে পাঁয়তারা চালায় একই এলাকার একটি ভূমিদস্যু চক্র। যার অংশ হিসেবে চক্রটি সদর ভূমি অফিসে ভুল তথ্য দিয়ে নিজেদের নামে ১০৩৪৫নং ভূয়া খতিয়ান সৃজন করেন। যা মিচ মামলা নং ৪৭/২০ সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ১৩/০১/২১ ইং তারিখের আদেশের আলোকে বি,এস ১০৩৪৫ নং খতিয়ান বাতিল করে জমির মূল বি,এস ১৪৮৫ নং খতিয়ানে ফেরত প্রদান করেন। জমি দখলের পায়তারার ঘটনায় গতবছরের ১ জানুয়ারী কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন সাধন চন্দ্র দে গং। যার পি.আর মামলা নং—১৩৬৭/১৯। পরে আদালত কতৃর্ক উক্ত জায়গায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২০২০ সালের ০৩ জুলাই সকাল ৮টায় সাম্পান ঘাট এলাকার মনিন্দ্র দের পুত্র পরিধন দে, পরিক্ষিত দে, বাবুল দে, একই এলাকার কার্তিক দের পুত্র অক্ষয় দে ডালিম, কাঞ্চন দে, বাবুল দের পুত্র রানা দে, রনি দে, মৃত যৌগেন্দ্র দের পুত্র মনোরঞ্জন দে, সতীষ চন্দ্র দে, নন্দ কুমার দে, তরুণী দে ও এলাকার পার্থ দে এবং ঈদগাঁও সমির দের পুত্র মিটন কান্তি দের নেতৃত্বে ২০—২৫ জন একদল সন্ত্রাসী ওই জায়গা দখলের জন্য মৃত সাধন চন্দ্র দে’র বসতভিটায় স্বশস্ত্র হামলা চালায়।
এসময় সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন মৃত সাধন চন্দ্র দে’র পুত্র অরুপ দে, পেলারামের পুত্র গুরুধন দে, গুরাধনের কন্যা সিটি কলেজের ছাত্রী মুন্নী দে ও পুত্র বাপন দে। এসময় হামলাকারীরা জমির ধান নষ্ট, বাড়ি ভাংচুর করে নগদ ৬০ টাকাসহ ২ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় মনি কাঞ্চন দে বাদি হয়ে হামলার মূল কারিগর পরিধন দে কে প্রধান আসামী করে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার জিআর মামলা নং—৫০৪/২০। এই মামলার অন্যতম আসামী বাবুল দে’র পুত্র রানা দেকে গত বৃহস্পতিবার (০১ এপ্রিল) আটক করে পুলিশ। এর আগে প্রধান আরেক আসামী কাঞ্চন দেকে আটক করা হয়। পরে সে জামিনে মুক্ত হয়।
অভিযোগে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর সমিরণ সাহা ও তার স্ত্রী কনিকা দে এই মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আসামীদের গ্রেফতার না করতেও বিভিন্নভাবে পুলিশের উপর চাপ প্রয়োগ করছে বলে জানা গেছে। তাদের ইন্ধনে আসামীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত মামলার বাদি মনি কাঞ্চন দেসহ তার পরিবারকে হামলাসহ প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে যাচ্ছে প্রধান আসামী পরিধন দেসহ অন্যান্য আসামীরা। এতে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অসহায় মামলার বাদি মনি কাঞ্চন দে ও তার পরিবার।













