
নিজস্ব প্রতিবেদক
রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নে শুশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মেয়ের স্বামী রায়হান (২৫) কে নির্যাতন করে বিষ খাইয়ে (মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে) হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৬ মার্চ বিকাল ৪ টায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর গা ঢাকা দিয়েছে শুশুর, শাশুড়ি ও স্ত্রী। নিজ সন্তানের হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ ন্যায় বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার।
রবিবার (০৪ এপ্রিল) বিকালে শহরের একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত রায়হানের মা হামিদা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, বিগত দুই বছর আগে ঈদগড় ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের করলিয়ামুরার এরশাদ উল্লাহ মেয়ে সাদিয়া সুলতানা জুসির সাথে রায়হানের বিয়ে হয়। আমার ছেলে রায়হান স্কুল ছাত্র ছিল। অপ্রাপ্ত বয়সেই পরিবারের অজান্তে তাকে ফুসলিয়ে এই বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের পর থেকে রায়হান শুশুর বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করে। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রায়হানের সাথে শ^শুর বাড়ির লোকজনের সাথে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। কারণ অকারণে আমার ছেলে রায়হানকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো শুশুর বাড়ির লোকজন।
রায়হানের মা হামিদা বেগম আরও জানান, গত ১৬ মার্চ বিকালে ব্যবসায়ীক টাকার হিসাব চাওয়ায় রায়হান কে বেধম মারধর করে শুশুর মৃত সমছু মিয়ার পুত্র এরশাদ উল্লাহ, শাশুড়ি রেহেনা আক্তার ও তার স্ত্রী সাদিয়া সুলতানা জুসি। মারধরের এক পর্যায়ে রায়হান অজ্ঞান হয়ে পড়লে জোরপূর্বক তার মুখে বিষ ঢেলে দেয় তারা। পরে তার অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে শুশুর-শাশুড়ি ঈদগড় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সদর হাসপাতালে রেফার করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মূমুর্ষ অবস্থায় রায়হানকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরদিন ১৭ মার্চ সকালে রায়হানের শুশুর আমাকে বিষয়টি মুঠোফোনে অবগত করে। খবর পেয়ে ওইদিন বিকালে হাসপাতালে গেলে রায়হান আমাকে জানায়, তাকে মারধর করে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে দিয়েছে শুশুর, শাশুড়ি ও স্ত্রী। সে নিজে ইচ্ছেকৃতভাবে বিষ খাইনি। এদিকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আমার ছেলে রায়হান। মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় রায়হানের শুশুর, শাশুড়ি ও স্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে রায়হানের মা হামিদা বেগম জানান, আমার ছেলে রায়হানকে তার শুশুর, শাশুড়ি ও স্ত্রী মিলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। কিন্তু এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে রামু থানা পুলিশ। আমরা হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ রহস্যজনক আচরণ করছে। এই অবস্থায় নিরূপায় হয়ে আমার ছেলে রায়হান হত্যার ন্যায় বিচারের আশায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আমি হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি। এ জন্য পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ ব্যাপারে রামু থানা অফিসার ইনচার্জ কে এম আজমিরুজ্জামান বলেন, সুরুতহাল রিপোর্ট আসার পর অবশ্যই মামলা করা যাবে। তবে এর আগে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হলে আগে আদালতে আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর আদালত রামু থানা পুলিশকে ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিবেন। এরপর আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।













