
নিজস্ব প্রতিবেদক, রামু
রামুতে অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে রক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ৬২ হাজার ৫০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৬ মাস থেকে ১ বছরের কম বয়সের ৭ হাজার ৫০০ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের এবং ১ বছর থেকে ৫ বছর বয়সের ৫৫ হাজার শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৫ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত রামু উপজেলার এগার ইউনিয়নের ২৬৫ কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। বুধবার (২ জুন) সকাল ১১ টায় রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে ও স্বাগত বক্তৃতা প্রদানে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, রামু উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফসানা জেসমিন পপি, রামু থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী।
সভায় শিশুর মা-বাবাকে সচেতন ভাবে শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে এবং মুখে মাক্স পরিধান করে, শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর অনুরোধ জানান অতিথিরা।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. আলী আকবরের সঞ্চালনায় এ সভায় বক্তৃতা করেন, উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার আবু নাসের মোহাম্মদ হাসান, রামু প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেদ শহীদ ও নুরুল ইসলাম সেলিম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন রামু উপজেলা কেয়ারটেকার মো. আবুবক্কর ছিদ্দিক সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন।
জাতীয় পুষ্টিসেবা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়নে ও রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
রামু স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি স্থায়ী কেন্দ্র সহ উপজেলার এগার ইউনিয়নের ২৬৫ টি কেন্দ্রে ৬২ হাজার ৫০০ শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। কোন সময়ে কোন কেন্দ্রে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে, বিষয়টি মাইকিং এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রচারণা চালাবে রামু স্বাস্থ্য বিভাগ।
৫ জুন থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত রামু স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদযাপন করা হবে। উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ২৪ টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ৮৬০ জন শিশুকে, রশিদনগর ইউনিয়নের ২৪ টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ২০০ জন শিশুকে, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ২৪ টি কেন্দ্রে ৮ হাজার ৭৩৮ জন শিশুকে, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ২৪ টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ৫৯৫ জন শিশুকে, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ২৪ টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৮০ জন শিশুকে, গর্জনিয়া ইউনিয়নের ২৪ টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৬৫৫ জন শিশুকে, ঈদগড় ইউনিয়নের ২৪ টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৫০ জন শিশুকে, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ২৪ টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ৩৫ জন শিশুকে, রাজারকুল ইউনিয়নের ২৪ টি কেন্দ্রে দুইজন প্রতিবন্ধী শিশু সহ ৪ হাজার ৬৫০ জন শিশুকে, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ২৪ টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ৩৮০ জন শিশুকে, চাকমারকুল ইউনিয়নের ২৪ টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৬৪০ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া বলেন, রামু উপজেলার প্রত্যেক মা-বাবাকে সচেতনভাবে নির্ধারিত বয়সের প্রতিটি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। ভিটামিন ‘এ’ শুধুমাত্র অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে তাই নয়, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল ও জটিলতা কমায় এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। রাতকানা, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়ার, হাম ও মারাত্মক অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
তিনি বলেন, ৬ মাস থেকে ১ বছরের কম বয়সের ৭ হাজার ৫০০ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের এবং ১ বছর থেকে ৫ বছর বয়সের ৫৫ হাজার শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, রামু স্বাস্থ্য বিভাগ পরিকল্পিত ছকে কাজ করছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে। কোন শিশুকেই এই ক্যাম্পেইনের বাইরে রাখা যাবে না। প্রত্যেক দিনেই গ্রামের ইপিআই কেন্দ্রে গিয়ে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন কর্মসূচী তদারকি করা হবে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা বলেন, করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছি আমরা। আমরা চাইনা, আমাদের কোন আপন জনকে হারাতে। তাই আমাদেরকেই সচেতন ভাবে নিজেকে সুরক্ষা করতে হবে। আমরা যদি সুরক্ষার মাধ্যমে নিজের জীবনকে সাজিয়ে নিতে পারি, তাহলে আমরা সুস্থভাবে অনেক দিন বাঁচবো।
ইউএনও বলেন, আমাদের প্রজন্ম শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুদের ভবিষ্যৎকে সুস্থধারায় নিতে হলে, প্রত্যক শিশুকে সুস্থ থাকা অপরিহার্য্য। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুর দেহে স্বাভাবিকতা বৃদ্ধি করে। রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা ও শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আমাদের প্রজন্মকে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ প্রদানে, আমাদের প্রত্যককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রত্যেককে এক সাথে কাজ করতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, পুরোহিত, শিক্ষক, সাংবাদিকদেরও দ্বায়িত্ববান হয়ে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল আয়োজনে কাজ করতে হবে।













