ঘর পাচ্ছেন চকরিয়াতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছয় ভাইয়ের পরিবার

0
4
চকরিয়া প্রতিনিধি:
এবার ঘর পাচ্ছেন পিকআপ চাপায় নিহত ছয় ভাইয়ের পরিবার। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রত্যেককে একটি করে মোট ৮টি ঘর উপহার দিচ্ছেন সরকার। ইতোমধ্যে সবধরণের সহযোগিতাও পেয়েছেন তারা। ঘর নির্মাণের জন্য জমি চুডান্ত করা হয়েছে। সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে সেমিপাঁকা ৮টি ঘর।
মঙ্গলবার (২২মার্চ) দুপুরের দিকে ঘর নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান।
এসময় চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো.রাহাত-উজ জ্জামান, ডুলাহাজারা ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর, নিহতদের পরিবারের পক্ষে দূর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র ভাই প্লাবন সুশীলও উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দক্ষিণ পাশে ১৬ শতক সরকারি জমিতে ঘর নির্মাণ করা হবে। এই ১৬ শতক জমিতে আট পরিবারের জন্য আটটি সেমিপাঁকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘরে দুটি বেডরুম, বারান্দা, একটি বাথরুম ও একটি রান্না ঘর থাকবে। প্রত্যেক ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে  ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
দূর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ছোট ভাই প্লাবন সুশীল বলেন, আমাদের বেশ কয়েকটি জমি দেখানো হয়। এসব জমি থেকে পরিবারের সকলের সাথে আলাপ করে এই জায়গাটি পছন্দ করেছি।
এসময় তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, সরকার থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের এই ঋণ কখনও শোধ করতে পারবোনা। তারপরও আমার ছয় ভাইকে ফিরে পাবো না। আমরা ভাইদের হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করছি।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান বলেন, একই পরিবারের ছয়টি লোক সড়কে প্রাণ হারানোর ঘটনা নজিরবিহীন। এদের এই ক্ষতি পুষিয়ে দেয়া সম্ভব না। তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তারা বর্তমানে যে জায়গায় রয়েছে তা বনবিভাগের। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাদের স্থায়ী জায়গায় পূর্ণবাসন করার জন্য নির্দেশ দেনআশা করছি শীঘ্রই ঘর নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে।
চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে প্রয়াত বাবা সুরেশ চন্দ্র সুশীলের শ্রাদ্ধনুষ্টান পূর্ব ক্ষুদান্ন দান করতে যান অনুপম সুশীল, নিরুপম সুশীল, দিপক সুশীল, চম্পক সুশীল, রক্তিম সুশীল, স্মরণ সুশীল বোন মুন্নি সুশীল ও হীরা সুশীল। পরে ক্ষুদান্ন দান শেষে বাড়ি ফেরার জন্য মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট হাসিনাপাড়ার পূর্ব পাশে নার্সারি এলাকায় সড়কে পাশে অবস্থান নেন তারা।
দ্রুতগতির একটি সবজি বোঝাই পিকআপ তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় পাঁচ ভাই। গুরুতর আহত হন রক্তিম সুশীল, প্লাবন সুশীল ও হীরা সুশীল। ভাগ্যক্রমে কোন আঘাত ছাড়া বেঁচে যান মুন্নি সুশীল।
আহতদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রক্তিম সুশীল। বেশকিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হয়ে উঠেন বেঁচে যাওয়া একমাত্র সন্তান প্লাবন সুশীল ও হীরা সুশীল।
আগেউখিয়ায় ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ৪ জন নিহত
পরে‘সানি লিওন’ সেন্টমার্টিনে!