
★ মাসিক মাসোহারা নিয়ে তামাক চাষে অনুমতি,প্রতি একর ১০-১৫ হাজার টাকা।
★ তামাক পোড়ানো কাজে বনবিভাগের বনায়নের কাট ব্যবহার
★ভিলেজারদের অভিযোগের তীর বিট কর্মকর্তা রবিউলের দিকে
কফিল উদ্দিন রামু :
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বাঘখালী রেঞ্জের বাঘখালী বিটে সামাজিক বনায়ন উজাড় করে তামাক চাষ করা হচ্ছে। তামাক পোড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বনেরই গাছ। এ কাজে খোদ বাঘখালী বিট কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।সম্প্রতি বাঘখালী বিটের অন্তর্ভুক্ত কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের কলারঝিরির শুকরেরতলী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় ১০ একর জায়গার হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বাঘখালী বিটের কলারঝিলির সংরক্ষিত বনভূমির পাহাড়ি নিচু জমিতে করা হয়েছে তামাক চাষ। অভিযোগ আছে, বাঘখালী বিট কর্মকর্তা প্রতি একরে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে স্থানীয় ভিলেজার ও বাসিন্দাদের তামাক চাষ করতে বর্গা দিয়েছেন বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত বনভূমি। পাশাপাশি সরকারি সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের আকাশমনি, মির্জা গাছসহ হাজার হাজার কাটা অবস্থায় গাছ দেখা গেছে। অনেক গাছ কাটার পর এখনো ফেলে রাখা হয়েছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়েন তামাক চাষি ও গাছ কাটায় জড়িতরা।
বাঘখালী রেঞ্জের হেডম্যান আব্দুস ছালাম বলেন,কিন্তু দুঃখের বিষয় খোদ বিট কর্মকর্তা রবিউল বন কিছু বনদস্যুকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় ১০ একর সংরক্ষিত বনভূমির গাছ কাটিয়েছেন। পাশাপাশি টাকার বিনিময়ে সংরক্ষিত বনভূমিতেই তামাক চাষ করার অনুমতি দিচ্ছেন তিনি। আমরা তিনজন হেডম্যান এসব বনভূমির দেখাশোনা করি। এখন আমরা হেডম্যান হয়েও নিরুপায়। বিট কর্মকর্তা রবিউলের বিরুদ্ধে কথা বললে তিনি আমাদের বন মামলার ভয় দেখান।’
এখানেই শেষ নয়। বাঘখালী বিট কর্মকর্তা রবিউলের বিরুদ্ধে আছে মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ। এই বিটের অধিকাংশ সংরক্ষিত বনভূমিতে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে বসতি। অভিযোগ আছে টাকা দিলে বনভূমিতে নিমেষেই করা যায় ঘর, আর টাকা না দিলে দেওয়া হয় বন মামলা।
এদিকে, ১০ একর জায়গার গাছ কেটে উজাড় ও সংরক্ষিত বনভূমিতে তামাক চাষে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বিট কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কেন বন বিভাগের গাছ কাটব, দুষ্কৃতিকারীরা হয়তো এই গাছগুলো কেটেছে।’ প্রায় ১০ একর বনভূমির হাজার হাজার গাছ কাটা হয়েছে। কিন্তু তিনি বলছেন, কারা কেটেছে তার কিছুই তিনি জানেন না। অভিযুক্ত বিট কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সংরক্ষিত বনভূমিতে যারা তামাক চাষ করে এদের হাত অনেক লম্বা। আমরা তাদের তামাক চাষ না করতে মানা করলেও শোনে না।’ তিনি আরও যুক্ত করেন, ‘আপনারা সাংবাদিকেরা শুধু কি আমাদের বিট দেখেন? তামাক চাষ শুধু আমাদের বিটের সংরক্ষিত বনভূমিতে নয় সারা বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনভূমিতে হচ্ছে।’
কাউয়ারখোপের স্থানীয় কৃষক মোস্তাক আহমদ জানান, কলারঝিরির সব সংরক্ষিত বনভূমি এখন তামাক চাষের দখলে। রাজারকুল রেঞ্জের বাঘখালী বিট কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম সরাসরি এসে এখানকার কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি একরে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বর্গার টাকা নেন। তা ছাড়া চাষা দিয়ে তিনি নিজেও অনেক তামাক চাষ করেছেন এখানে।
বন বিভাগের স্থানীয় ফরেস্ট ভিলেজার আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরেই কলারঝিরিতে বসবাস করেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, সংরক্ষিত বনভূমিতে তিনিও প্রায় দুই একর তামাক চাষ করেছেন। তামাক চাষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিট অফিসকে প্রতি একরে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা দিলেই হয়। আমরা যেহেতু ভিলেজার, আমাদের থেকে টাকা কম নেয় বিট অফিস।’
সূত্র বলছে, প্রায় ১০ একর সংরক্ষিত বনভূমির গাছ কেটে লাকড়ি বানিয়ে তামাক পোড়ানোর জন্য বিক্রি করেছেন বিট কর্মকর্তা রবিউল। নাম, পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কাউয়ারখোপের স্থানীয় এক পিকআপ ভ্যান চালক বলেন, ‘গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে আমরা প্রায় সাতটি পিকআপ কলারঝিরির মুখ থেকে কিছু গাছ বহন করেছি। বিট কর্মকর্তা রবিউল নিজের প্রয়োজনে শুকরেরতলী থেকে এসব গাছ কেটেছিলেন বলে জানতে পেরেছি। বিভিন্ন তামাক পোড়ানোর কারখানায় এসব গাছ নিয়ে যাই।’
এবিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার উত্তর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সরকার জানান,আসলে বিষয়টা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি এবং আমি তদন্তপুর্বক আমার অফিশিয়ালভাবে ব্যবস্থা নিব। তবে হাজার হাজার একর বনবিভাগের জায়গায় তামাক চাষ আজকে নতুন কিছু নয়।













