
রামু প্রতিনিধি:
রামু উপজেলার রাজারকুল মনছুর আলী সিকদার আইডিয়াল স্কুলে সহকারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ। অনিয়মের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের বিতর্কিত এক শিক্ষককে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দিতে এ অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং রামু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে নিয়োগে অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে দুটি পৃথক অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটিতে খোদ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককেও বাদ দেয়া হয়েছে। অখ্যাত সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হয়েছে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনকারি ৮ জনের মধ্যে ৫জনকে অসম্পূর্ণ আবেদন উল্লেখ করে বাদ দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বাদ পড়া একজন প্রার্থী আবেদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ উল্লেখ করে এবং নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে রামু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া তড়িঘড়ি করে নিয়োগ পরীক্ষা আহবান, আবেদনকারিদের পরীক্ষার আগমূহুর্তেও প্রবেশপত্র সরবরাহ করা হয়নি। পছন্দের ও আজ্ঞাবাহী একজন বিতর্কিত সহকারি শিক্ষককে এভাবে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে সহকারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের অপচেষ্টায় চালাচ্ছেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন ফরহাদসহ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য। এনিয়ে এলাকায় সচেতন জনমনে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
এ ঘটনায় বুধবার, ১৮ মে রামু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনা পারভীনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন- সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনকারি (পরীক্ষার্থী) ফরিদুল আলম। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেছেন- গত ১৯ ফেব্রæয়ারি পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেয়ে তিনি বিধি মোতাবেক আবেদনপত্র জমা দেন। যার রিসিভ কপিও রয়েছে। আবেদন দেয়ার পর তিনি সম্প্রতি জানতে পারেন- বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সরকারি কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন ফরহাদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন ও আবেদনকারিদের নথিপত্র গোপন করে তাঁর পছন্দের প্রার্থী বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোহাম্মদ হোছাইন নূরীকে নিয়োগের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। অথচ সহকারি শিক্ষক মোহাম্মদ হোছাইন নূরীর বিরুদ্ধে প্রতারনা, জালিয়াতির অনেক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও গত ১৮ মে আবেদনকারি ফরিদুল আলম স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন- পছন্দের ওই শিক্ষককে নিয়োগ দেয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে আগামী শনিবার, ২১ মে নিয়োগ পরীক্ষার দিন ধার্য্য করে। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে- নিয়োগ পরীক্ষার ১০ দিন পূর্বে প্রবেশ পত্র প্রদানের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ২ দিন আগেও তিনি প্রবেশ পত্র পাননি।
অভিযোগে ভুক্তভোগী ফরিদুল আলম বিধি বহির্ভূতভাবে অধিকার বঞ্চিত করে দূর্ণীতিযুক্ত নিয়োগ বন্ধ এবং তাকে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ প্রদানের দাবি জানান। অন্যতায় তিনি আইনের আশ্রয় নিয়ে অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ ও দূর্নীতি চিত্র আরো জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে বলে জানান।
বাংলাদেশ দূর্ণীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার ও রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এ অভিযোগের অনুলিপি দিয়েছেন বলেও জানান অভিযোগকারি ফরিদুল আলম।
এদিকে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির এমন অনিয়মে ক্ষুব্দ এলাকাবাসীও কক্সবাজার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ক্ষুব্দ এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের এ নিয়োগ কার্যক্রম শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার এ অপচেষ্টা রুখে দিতে প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন-কর্মসূচি দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজারকুল মনছুর আলী সিকদার আইডিয়াল স্কুলে প্রধান শিক্ষক আবদুল হাশেম জানান- ‘আমাকে নিয়োগের আবেদন যাছাই-বাছাই কমিটিতে রাখা হয়নি। এ কারণে আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা’।
জানা গেছে- আগামী ২১ মে শনিবার বিকালে কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় ডিজি প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন- কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুদা মোর্শেদা আইভী। তিনি জানান- নিয়োগ পরীক্ষা রামুতে করার জন্য একটি মহল চাপাচাপি করছে। আমরা বলেছি- পরীক্ষা কক্সবাজারে হবে এবং নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিবেশেই হবে। তাছাড়া আবেদনকারি ৮জনের মধ্যে ৫ জনকে বাদ দেয়াটা দূঃখজনক। আশা করি জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। তিনি আরো জানান- নিয়োগ কার্যক্রমে কোন অনিয়ম হলে পরীক্ষা স্থগিত হতে পারে।
এব্যাপারে জানার জন্য বৃহষ্পতিবার রাতে কক্সবাজার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন ও রামু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনা পারভীনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু তাঁরা কেউ ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এছাড়াও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন যাছাই-বাছাই কমিটির সদস্য বেদারুল আলমকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনিও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রামু শাখার সভাপতি মাস্টার মোহাম্মদ আলম জানিয়েছেন- আদর্শ মানুষ গড়ার ঠিকানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে মেধাবিদের পরিবর্তে দূর্ণীতিবাজরা ঠাঁই পেলে সমাজ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। তাই প্রভাবশালীর কালো থাবা আর অর্থের প্রভাবমুক্ত থেকে প্রকৃত মেধাবি ও যোগ্যদের মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। যা সর্বস্তুরের মানুষের প্রাণের দাবি। উর্দ্ধতনরা যেন এ আশার প্রতিফলন নিশ্চিত করে।
### সোয়েব সাঈদ, রামু, ১৯ মে ২০২২













