
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শহরের টেকপাড়ায় গভীর নলকূপের জায়গা দখলে হামলা, ভাংচুর ও প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়ার ঘটনায় ২জনকে আটক করা হয়েছে। আটকৃতরা হলেন—কথিত ছাত্রলীগ নেতা সায়েদ হোসাইন কাদেরী ও আবদুস সাত্তার। সোমবার (২৩ মে) বিকালে তাদের আটক করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, টেকপাড়া মসজিদে রোডে শতবছরের পুরোনো একটি পাতকুয়া বর্তমানে গভীর নলকূপ রয়েছে। এটি এলাকাবাসীর সুপেয় পানির অন্যতম উৎস। কক্সবাজার পৌরসভার তত্বাবধানে গভীর নলকূপটি স্থানীয়রা রক্ষণাবেক্ষণ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আবদু সাত্তার, আবদুল গাফফার, সায়েদ হোসাইন কাদের গং গভীর নলকূপের জায়গা দখলে মরিয়া হয়ে উঠে। এ নিয়ে কয়েকবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী দখলবাজ চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে। বিগত ২০২১ সালের ০৯ আগষ্ট (সোমবার) পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি সন্তোষজনক সমাধান করে দিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, এই জায়গা কাউকে লিজ দেওয়া হয়নি। ব্যক্তিগত স্বার্থে এটি কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। এলাকার মানুষের পানি সংকট লাঘবে এখানে গভীর নলকূপ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মেয়রের নির্দেশ উপেক্ষা করে ওই দখলবাজ চক্র সম্প্রতি ফের বেপরোয়া হয়ে উঠে। যার অংশ হিসেবে তাঁরা গভীর নলকূপের পাইপ ছিদ্র করে দেয়। এলাকার মানুষ যাতে পানি নিতে না পারে সেজন্য ময়লা পানিতে সয়লাব করে দেয় পাইপে। এতে এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে। জনভোগান্তি নিয়ে গত রোববার হায়দার নেজাম নামে দৈনিক রূপালী সৈকতের স্টাফ রিপোর্টার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তার উপর বর্বর হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতা সায়েদ হোসাইন কাদেরীর নেতৃত্বে আবদুল গাফফার, সাত্তার, নঈমসহ ১২—১৫ জন সন্ত্রাসী। ওইসময় তারা প্রকাশ্যে দা, কিরিচ, হাতুড়ি, লাঠিসহ নানা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। একপর্যায়ে তারা গভীর নলকূপ ভাংচুর করে বিনষ্ট করে দেয়। ওইদিন রাতে গভীর নলকূপ স্থাপনের পৌর মেয়রের ফলক ও নাম কালো রং দিয়ে মুছে দেয়। এলাকার কেউ এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে জানে মারার হুমকী ধমকী দেয়। হামলা, ভাংচুর ও অস্ত্রের মহড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসলে অভিযুক্ত কথিত ছাত্রলী নেতা সায়েদ হোসাইন কাদেরী ও আবদুস সাত্তারকে আটক করা হয়। এই খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে স্বস্তি প্রকাশ করেন টেকপাড়ার সাধারণ মানুষ। ঘরে ঘরে চলে মিষ্টি বিতরণ হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হাত তুলে দোয়া করেন।
এলাকাবাসী জানায়, গভীর নলকূপ থেকে প্রতিদিন এলাকার নারীরা পানি সংগ্রহ করে। কিন্তু সেখানে তারা সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। তাদের বাড়ি থেকে নারীদের গতিবিধি নজরদারি করা হয়। তাই অবিলম্বে সেই সিসি ক্যামেরা সেখান থেকে সরিয়ে নিতে হবে।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সেলিম উদ্দিন জানান, ২ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনো কেউ এজাহার জমা দেয়নি। এজাহার পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।













