
সিবিকে ডেস্কঃ
প্রবল আপত্তির মুখেও বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষে মিয়ানমারের গোলাগুলি থামানো যাচ্ছে না। এখনও থেমে থেমে গোলাগুলি চলছে বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার অংশে। রবিবার সকাল ৭টা থেকে সীমান্ত ঘেঁষে মিয়ানমারের অংশে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।
তুমব্রু শূন্যরেখার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান দীল মোহাম্মদ জানিয়েছেন, রবিবার সকাল থেকে সীমান্তের অদূরেই ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়। মর্টার শেলসহ ভারি গোলার আওয়াজ ভেসে উঠে। গোলার প্রকট শব্দে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সীমান্তের বসতি তীব্রভাবে কেঁপে উঠছে। এতে এপারে বসবাসকারী লোকজন চরমভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তবে সীমান্তের খুব কাছের শূন্যরেখার ৪০টির বেশি বসতি আগেই সরিয়ে নেয়া হয়েছে। দিন দিন ওপারে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়া এপারের অনেকে প্রতিনিয়ত সরে যাচ্ছে।
এদিকে শুক্রবারের মর্টার শেলের আঘাতের পর থেকে এপারের সীমান্ত এলাকার লোকজন এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কায় রাত জেগে বসে থাকছেন বহু মানুষ।
শূন্যরেখায় বসবাসকারী রোহিঙ্গা নাগরিক হামিদুল হক বলেন, শুক্রবারের ঘটনার পর থেকে পরিবার নিয়ে খুব ভয়ে রয়েছি। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা রাত জেগে থাকছি। আমার মতো এলাকার সবাই একইভাবে দিন যাপন করছে।
তুমব্রু সীমান্ত এলাকার বাংলাদেশি দোকানদার নূরুল আবছার বলেন, শুক্রবারের ঘটনার পর থেকে মানুষের চলাচল কমে গেছে। সবাই বাইরে চলাচল কমিয়ে দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান নিয়ে ভয়ের মধ্যে সময় পার করছে। সবার মনে আতঙ্ক- কখন আবার অঘটন ঘটে।
বান্দরবানের ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, শুক্রবারে রাতে মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া মর্টার শেলের আঘাতে হতাহতের ঘটনায় রোহিঙ্গাসহ স্থানীয় সব লোকজনের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই নিয়ে কূটনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও মিয়ানমার তা আমলে নিচ্ছে না। যার দরুণ গোলাগুলি অব্যাহত রেখেছে। একটি বড় অঘটনের পরও এখনো তারা সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলি অব্যাহত রেখেছে।
উল্লেখ্য, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম তুমব্রু সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সে দেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছে। দু’পুক্ষের মধ্যে প্রতিনিয়ত গোলাগুলি চলছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবিস্ফোরিত মর্টারশেলও এসে পড়ে। সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরের দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এক বাংলাদেশি আহত হন। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাতে ভয়াবহ মর্টার সেল আঘাত হানে। বিচ্ছিন্নভাবে তিনটি মর্টার শেল বিস্ফোরণ হয়। এতে এক রোহিঙ্গা যুবকসহ ৫ জন আহত হয়।













