নির্বাচনে নৌকার পক্ষে করায় নাগরিক সেবা দিচ্ছেন না ঈদগড় ইউপি চেয়ারম্যান!

0
11

 

হাসান তারেক মুকিম:
কক্সবাজারের রামুতে ইউপি নির্বাচনে পক্ষ অবলম্বন না করায় প্রতিপক্ষের লোকজনকে পরিষদীয় সেবা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে ঈদগড় ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টোর বিরুদ্ধে। এমনকি বাবা মায়েরা নৌকায় ভোট দেয়ার কারনে ইউনিয়নের শতাধিক শিশুদের স্কুলে ভর্তির জন্য জন্ম নিবন্ধন দেননি তিনি। অন্যদিকে নিবন্ধন ছাড়াও শিশুদের যেন স্কুলে ভর্তি করা না হয় সে জন্য বিভিন্ন স্কুলের গিয়ে নিষেধও করার অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান ভূট্টোর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ গত ইউপি নির্বাচনে আনারসে ভোট না দিয়ে নৌকা প্রতিকে ভোট দেয়ায় প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনকে নানা অজুহাতে হয়রানী ও হেনস্থা করে যাচ্ছেন তিনি। যতই দিন যাচ্ছে চেয়ারম্যানের অন্যায়, অনিয়ম-দূর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা বেড়েই চলছে। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

জাতীয়তা সনদ, জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও প্রত্যয়ন পত্র না পেয়ে অতিষ্ট এলাকার সচেতন জনসাধারন ও অসংখ ভূক্তভোগী পৃথক পৃথকভাবে চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টোর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক, সহকারী কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, বিগত ইউপি নির্বাচনে রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী ছিলেন হাজ্বী নুরুল আলম, অপরদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে তার প্রতিদ্বন্ধিতা করেন বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো। নির্বাচনে যে সমস্ত ভোটার নৌকার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন এবং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের উপর ক্ষিপ্ত ও ক্ষুব্দ ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তার বিরোধীয় মতের লোকজনকে পরিষদীয় সেবা থেকে বঞ্চিত করে প্রতিহিংসা ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ প্রকাশ্য করছেন। নাগরিক সেবার উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে নৌকার সমর্থকদের নানা অজুহাতে হয়রানী, দূূর্ব্যবহার ও আপত্তিমূলক কথাবার্তা বলে সম্মানহানি করা হচ্ছে।

ঈদগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকার মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজ্বী নুরুল আলম অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতা ও কালো টাকার প্রভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ফিরোজ আহমদ ভূট্টোর দাম্ভিকতা ও আওয়ামী বিরোধী কর্মকান্ড জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকজনকে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত করে নানাভাবে হয়রানী করে যাচ্ছে। তার অন্যায়, অনিয়ম-দূর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা দিন দিন জনসম্মুখে স্পষ্ট হচ্ছে । টাকার মোহে উদ্মাদ হয়ে উঠেছে। বানিজ্যিক কেন্দ্রে পরিনত করেছে ইউনিয়ন পরিষদকে। নানা বাহানায় অনেকটা জিম্মি করে একেকটা ট্রেড লাইসেন্সে লক্ষ লক্ষ আদায় করছে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। মোটা অংকের টাকা নিয়ে ভোটার করিয়েছেন অসংখ্য রোহিঙ্গাকে। ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারী বরাদ্ধের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে এলাকার উন্নয়ন কাজে ব্যাপক দূর্ণীতি চালাচ্ছে। ঈদগড়ের পাহাড়ে অস্ত্র প্রস্তুতকারীদের তার দলে ভিড়িয়ে পুরো ঈদগড় ইউনিয়নের সচেতন মানুষদের জিম্মি করে রেখেছেন। ইতিপূর্বে সুনিদিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান ফিরোজের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে ফৌজদারী মামলা করা হলে সেটি বর্তমানে দুদকে তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান।

ঈদগড় পূর্ব রাজঘাট পাড়া এলাকার ভুক্তভোগী আবুল কাশেম জানান, গত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রচার- প্রচারণায় অংশ নেয়াই কাল হল তার। দীর্ঘদিন যাবৎ চেয়ারম্যানের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিয়েও অধ্যবদী পাচ্ছেন না তিনি তার তিন সন্তানদের জন্মনিবন্ধন সনদ। জন্ম নিবন্ধন সনদ পত্র ইস্যু না করার কারনে তার সন্তানদের পারছেনা স্কুল-মাদ্রাসায় ভর্তি করতে। ফলে তার সন্তানদের ভবিষ্যত পড়ালেখা অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়ার উপক্রম বলে দীর্ঘস্বাস ফেলেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান শুধু তার সন্তান নয় আরো অন্ত্যত দুই শতাদিক শিশুর জন্মনিবন্ধন সনদ ছাড়ছেনা চেয়ারম্যান ফিরোজ। এদিকে ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও তিনি কোন প্রকার প্রদক্ষেপ না নেওয়ায় আশাহত ভুক্তভোগী আবুল কাশেম। পশ্চিম হাসনাকাটা এলাকার ফজলুল করিম, আমিনুল ইসলাম ও পূর্ব হাসনাকাটার সেলিম বাহাদুরেরও একই অভিযোগ।

ঈদগড়ের ব্যবসায়ী নুরুল আলম জানান, ইউপি নির্বাচনে আনারস মার্কার প্রার্থী ফিরোজ আহমদ ভূট্টোর প্রতিদ্বন্ধি নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ায় প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে ও ওয়ারিশ সনদে মোটা অংকের টাকা দাবী করছে। দাবীকৃত টাকা না পেলে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান জব্দ সহ ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার নানা হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

এব্যাপারে ঈদগড় ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। একটি স্বার্থনেষী মহল এসব মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তবে তারা সফল হবে না বলে জানান।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)ফাহমিদা মুস্তফা জানান, অভিযোগের ব্যাপারে আমি গত সপ্তাহে চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো সাহেবের সাথে কথা বলেছি, ওনি অস্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগী কর্তৃক ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।

আগেউন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল-মেয়র মুজিবুর রহমান
পরেরামুর ডাকভাঙ্গা ও মৈষকুম ওসমান সরওয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন