
হাসান তারেক মুকিম:
পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারের তোড়ে কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের পশ্চিম নোনাছড়ি এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে প্রায় ৪শত একর কৃষি জমি। এদিকে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় পুরো এলাকা যেন দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যোগযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে অবরুদ্ধ হয়ে আছে বেশ কিছু পরিবার।
বেড়িবাঁধ ভাঙ্গার খবর পেয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) ফাহমিদা মুস্তফা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় কৃষক জহির উদ্দিন জানান, বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোনা পানি ঢুকে তার জমির ধানের চারাগুলো পচে নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টের বেড়িবাঁধগুলো রয়েছে অতি ঝুঁকিতে। এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে প্রায়ই বাঁধ মেরামতের কাজ করে থাকলেও জোয়ারে চাপে তা আর টিকিয়ে রাখা যায় না। দ্রুত বাঁধ মেরামত না করলে এই মৌসুমে গোটা এলাকার কৃষিচাষ ব্যাহত হবে।
এলাকার জনসাধারন জানান, বাঁধগুলো যথাসময়ে স্থায়ীভাবে মেরামত না করার কারণে বারবার ভেঙে যায়। এতে চাষাবাদ সহ বিস্তর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এলাকার মানুষ। তারা সরকারের কাছে স্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামত করার দাবি জানান।
জোয়ারিয়ানালার পশ্চিম নোনাছড়ি(৪ নং ওয়ার্ড) এর ইউপি সদস্য মোঃ আবু তালেব জানান, বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পশ্চিম নোনাছড়ির প্রায় ৪শত একর ধানি জমি লবনাক্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারনে জমিতে রোপিত সমস্ত চারা পচে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এদিকে জোয়ারের চাপে অব্যাহত ভাঙ্গনে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামতে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

জোয়ারিয়ানালা ইউপি চেয়ারম্যান কামাল শামশুদ্দিন প্রিন্স জানান, পূর্ণিমার জোয়ারে বাঁধটি ভেঙ্গে গেছে। স্থানীয় জনসাধারন আপ্রান চেষ্টা করেছিল বাঁধটি রক্ষা করতে,কিন্তু সফল হয় নাই। তিনি জানান, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের পশ্চিম নোনাছড়ি ও নন্দাখালী বিচ্ছিন্ন একটি কৃষি জমি এলাকা। এখানে প্রায় ৭ কি:মি: বেড়িবাঁধ রয়েছে, যেটি প্রায় চল্লিশ বছর আগে করা হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু স্থানীয় উদ্যোগে মেরামত করা হয়েছে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টিআকর্ষণ করেছেন যাতে দ্রুত বেড়িবাঁধটি পুনঃসংস্কারের মাধ্যমে এই এলাকার কয়েক হাজার একর কৃষি জমি যাতে রক্ষা করা হয়।
রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) ফাহমিদা মুস্তফা জানান, বেড়িবাঁধ ও গ্রামীণ অবকাঠামোর সড়কটি ভেঙ্গে লবনাক্ত পানি ঢুকে এলাকার চাষাবাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত এটি মেরামতে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে জানান।













