১০০ শয্যায় উন্নীত হবে মহেশখালী হাসপাতাল: আশেক উল্লাহ রফিক এমপি

0
9
মহেশখালী প্রতিনিধি:

মহেশখালী উপজেলার নাগরিকদের আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবায় যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন সেবা। এই উপজেলাটি দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় মানুষের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে সেইমত চিকিৎসা সেবা গুলো চালু করছি। বর্তমানে সেবার পরিমাণ যেহেতু বাড়ছে, সেই সাথে রোগীর সংখ্যাও দিন দিন বেড়ে চলছে। তাই খুব শীঘ্রই মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। খুব শীঘ্রই এটি বাস্তবায়ন হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক।

রবিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়মিত সভায়  এসব আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ওই সময় তিনি বলেন, ২০১২ সালে যখন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে হাসপাতাল পরিদর্শনে এসেছিলাম, তখন এখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও অনান্য  স্টাফ ছিল না। তখন থেকে চেষ্টা করেছি এখানকার মানুষের শতভাগ স্ব্যাস্থসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শূণ্য পদে চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ আনার জন্য। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে এই হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ২০ জন চিকিৎসক এবং ৩৫ জন নার্স ও মিডওয়াইফ রয়েছে। এছাড়াও অনান্য জনবল নিয়োগে হাইকোর্টের একটি মামলা ছিল। সেটি এখন সমাধানের পথে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে মাঠ পর্যায়ের শূন্যপদের জনবল নিয়োগের জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হবে।

অপরদিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের জনবল সংকট নিরসন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, রোগী পরিবহনে স্পীডবোটের ভাড়া নির্ধারণ ও হয়রানি বন্ধ করা, ঘাটের যানজট নিরসন, রোগী পরিবহন সহজলভ্য করাসহ সচেতন নাগরিকদের মতামত নিয়ে রোগীদের স্বার্থে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিয়মিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমএনসিএইচএন হেল্থ প্রজেক্টের টীম লিডার ডা. পুচনু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কক্সবাজারে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালনের সময় লক্ষ্য করেছি মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তেমন কোন চিকিৎসা পাওয়া যেতোনা। তখন মা ও শিশুদের আরো উন্নত স্বাস্থ্য সেবার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি। তাই এনজিও সংস্থা পিএইচডিতে যোগদানের পর এই দুটি হাসপাতালে মা ও শিশু স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছি।”

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুল হক বলেন, হাসপাতালে এইচজিএসপি থেকে জেনারেল সার্জন ১জন, গাইনেকোলজিস্ট ২জন, পেডিয়াট্রিশিয়ান ১জন, সনোলজিস্ট ১জন, মেডিকেল অফিসার ২জন, নার্স ১০জন, মিডওয়াইফ ৪জন এবং সাপোর্ট স্টাফ ৭জন দেয়া হয়েছে। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য মা ও শিশু স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে আধুনিক সেবা চালু করেছে তারা। এখন নরমাল ডেলিভারির পাশাপাশি সিজার হচ্ছে হাসপাতালে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রনব চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এম আজিজুর রহমান, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার পাশা চৌধুরী, কুতুবজোম ইউপি চেয়ারম্যান শেখ কামাল, এমএনসিএইচএন হেল্থ প্রজেক্টের সুপারভাইজার ডা. রাসেল আহমেদ, প্রোগ্রাম সাপোর্ট অফিসার নুরুল ইসলামসহ হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও কমিটির লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

আগেনাইক্ষ্যংছড়িতে যুবতীর আত্মহ*ত্যা
পরেশক্তিশালী বেলজিয়ামকেও হারিয়ে দিলো মরক্কো