
নিজস্ব প্রতিবেদক, রামু
‘মানবিক সৌন্দর্যের জন্য কবিতা’ প্রতিপাদ্যে ও ‘শান্তির পৃথিবীর চাই, শুদ্ধাচারি স্বদেশ চাই’ শ্লোগানে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন দিনব্যাপী দারিয়ানগর আন্তর্জাতিক কবিতামেলা। গতকাল রবিবার রামুর বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র ও একশ ফুট সিংহ শয্যা গৌতম বুদ্ধ মূর্তি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় দারিয়ানগর আন্তর্জাতিক কবিতামেলার তৃতীয় দিনের কর্মসূচি।
বাংলা একাডেমীর মহা পরিচালক জাতিস্বত্বার কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা ভারত, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের শতাধিক কবি-সাহিত্যিকসহ রবিবার দুপুরে রামুর উত্তর মিঠাছড়ি বিহারপ্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। এসময় কবি মুহাম্মদ নুরুল সহ দেশ-বিদেশের কবি-সাহিত্যিকদের পুষ্পস্তবক দিয়ে বরণ করেন, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল শামশুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স, কবি আসিফ নূর, কবি-সাংবাদিক খালেদ শহীদ, কবি সজল দে, প্রজন্ম ‘৯৫ রজতজয়ন্তী স্মারক ‘স্মৃতি পত্র’ সম্পাদক সুনীল বড়ুয়া, রামু প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক সোয়েব সাঈদ।
অনুষ্ঠানে কবিকন্ঠে ধ্বনিত হয়, কবিতায় মানবিকতার সৌন্দর্য। কবিতার মাধ্যমে শান্তির পৃথিবীর, শুদ্ধাচারি স্বদেশ গড়া হবে। দারিয়ানগর থেকেই শুরু হয়েছে শান্তিময় পৃথিবী বিনির্মাণের পদযাত্রা। দারিয়ানগর আন্তর্জাতিক কবিতামেলা থেকেই সেই যাত্রা শুরু করেছে কবিরা।
দারিয়ানগর আন্তর্জাতিক কবিতামেলার তৃতীয় দিনের কর্মসূচির কথামালা ও কবিতাপাঠ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাংলা একাডেমীর মহা পরিচালক জাতিস্বত্বার কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা, বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র ও একশ ফুট সিংহ শয্যা গৌতম বুদ্ধ মূর্তি’র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক করুণাশ্রী মহাথের, নেপালের কবি বিধান আচারিয়া, ইন্দোনেশিয়ার কবি মিলি মুলতাতুলিয়ানা, ভারতের কবি বিপ্লব মাঝি ও সুদীপ্ত চ্যাটার্জি, ঢাকার সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আসলাম সানী, কবি আমিনুর রহমান, কক্সবাজারের কবি দিলওয়ার চৌধুরী, কবি আসিফ নূর, কবি রিসাত হুদা, কবি খালেদ শহীদ।
অনুষ্ঠান শেষে কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা নিজের লেখা ‘শান্তি বাড়ি’ কবিতাটি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র ও একশ ফুট সিংহ শয্যা গৌতম বুদ্ধ মূর্তি’র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক করুণাশ্রী মহাথেরকে অর্পন করেন।
রবিবার বিকালে ঈদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা গ্রন্থাগার’ উদ্বোধন করেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা এবং ভারতের বরেণ্য কবি বিপ্লব যোশী। ঈদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে কবিতা পাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল। সভাপতিত্ব করেন, প্রধান শিক্ষক খুরশীদুল জন্নাত।
শুক্রবার ৩০ ডিসেম্বর সকালে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শান্তির শপথ ঘোষনার মাধ্যমে শুরু হয়, তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক দারিয়ানগর কবিতামেলা। ওই দিন দুপুরে দেশ-বিদেশের কবিরা ‘কবিতার সাম্পান যাত্রা’য় বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে মহেশখালীর আদীনাথ পাহাড় পাদদেশে কবিতাপাঠ ও কথামালা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। একই দিন সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরীর শহীদ সুভাষ হলে আলোচনা ও কবিতাপাঠে অংশ নেন।
শনিবার ৩১ ডিসেম্বর সকালে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে আন্তর্জাতিক লেখক দিবস উদযাপন করা হয়। পরে শহীদ সুভাষ হলে আলোচনা ও কবিতাপাঠ এবং বিকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কবিতা চত্ত্বরে কবিতা পাঠে অংশ নেন কবিরা। কবিরা এ সময় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে ‘শেখ হাসিনার শান্তির সৈকত’ ঘোষণা করেন। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার থেকে ২০ টি সাম্পান যোগে দেড় শতাধিক কবির বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। সাগর পাড়ি দিয়ে এই শান্তির বার্তা পৌঁছে যাবে বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায়।
সকালে অনুষ্ঠিত আলোচনা অনুষ্ঠানে কক্সবাজার সাহিত্যের নানা ক্ষেত্র বিবেচনায় কবি ও নাট্যকার মাষ্টার মো. শাহ আলম, কবি সুলতান আহমেদ, কবি খালেদ মাহবুব মোর্শেদ, কবি আসিফ নূর ও কবি মানিক বৈরাগীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।













