রামুতে ৪২ ইট ভাটা গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি ও বনের কাঠ

0
6

 

হাসান তারেক মুকিম:

কক্সবাজারের রামুতে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ইটের ভাটা। ফসলি জমির মাটি ও বনাঞ্চলের গাছ উজাড় করে চলছে এসব ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজ। ভাটার নির্গত কালো ধোঁয়ায় ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে পরিবেশ। পাশাপাশি বিনষ্ট হচ্ছে সরকারি রাস্তা, উর্বরতা হারাচ্ছে কৃষি জমি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ থাকলেও রহস্যজনক কারণে নির্বিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রামু উপজেলায় গড়ে উঠেছে ৪২ ইটের ভাটা। এদের অধিকাংশরই নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। উপজেলার বেশিরভাগ ভাটায় স্থানীয় রাজনীতিক ও জন প্রতিনিধিদের। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বনাঞ্চল ও ফসলী জমিতে গড়ে তুলেছে নিয়মবহির্ভূত ইটভাটা। আর এসব ইটভাটা গিলে খাচ্ছে ফসলী জমির মাটি।

এদিকে জ্বালানী(কয়লা)’র দাম বেড়ে যাওয়ায় অর্থ সাশ্রয়ে বনের কাঠের দিকে ঝুঁকছেন ভাটা মালিকরা। ইট ভাটায় কাঠের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি সিন্ডিকেট বন উজাড় করে প্রতিদিন শতশত গাড়ি যোগে পাচার করছে বনের কাঠ।

সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, রামু উপজেলা ফতেখাঁরকুল,রাজারকুল, জোয়ারিয়ানালা, রশিদ নগর, মিঠাছড়ি, খুনিয়াপালং, চাকমারকুল ও কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে শতাধিক স্কেভেটার দিয়ে দিনে রাতে বিরামহীনভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে পিকআপ যোগে বিভিন্ন ইট ভাটায় সরবরাহ করছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দেদারছে গ্রাস করছে এসব ফসলি জমির মাটি।  

সচেতন মহলের অভিযোগ মাটি ব্যবসায়ীরা কৃষকদের অর্থের লোভে ফেলে ফসলি জমির মাটি বিক্রিতে উৎসাহিত করছেন। সেই সুযোগে মাটি ব্যবসায়ীরা ৫-৮ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিচ্ছে। যার ফলে অনেক জমিই ডোবায় পরিণত হয়েছে। এতে মাটির উর্বরতার পাশাপাশি দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলি জমির পরিমাণ। ফলে দিন দিন ফসল উৎপাদন কমছে। দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। 

মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ জানান, প্রতি বছর রামুতে হাজার হাজার একর ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। যার কারণে দিন দিন আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ও জীববৈচিত্র মারাত্মক হুমকিতে পড়ছে। বেপরোয়া মাটি খেকোদের লাগাম টানা না হলে কৃষি জমিগুলো অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন।

এদিকে প্রতিদিন শত শত মাটির ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ পাকা সড়কগুলোর ইট পাথর উঠে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। মাটির ট্রাক থেকে মাটি পড়ে রাস্তা ধুলায় একাকার হয়ে জনজীবন হয়ে পড়ছে বিপন্ন। প্রতিবাদে ভুক্তভোগী এলাকার মানুষ সোচ্চার থাকলেও কোন প্রকার প্রতিকার পাচ্ছে না।

রামু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু মাসুদ সিদ্দিকী জানান, ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। এব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহনে তাদের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নাই উল্লেখ করে তিনি প্রায় সময় উপজেলা পরিষদের সভায় এ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন বলে জানান। তিনি আরো জানান, জমির উপরিভাগের মাটি অত্যন্ত উর্বর। এই উর্বর মাটি বিক্রির কারণে অধিক হারে কমে গেছে উৎপাদন। প্রতি বছর এই কারণে অনেক আবাদযোগ্য জমি কমে যাচ্ছে। 

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)ফাহমিদা মুস্তফা জানান, যে পরিমান গর্ত করে ফসলি জমির মাটি অপসারণ করা হচ্ছে। তাতে মনে হয় না ঐ জমিতে আর চাষবাদ করা সম্ভব হবে। তিনি সরজমিনে পরিদর্শন করে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।

 

আগেকক্সবাজার পাসপোর্ট অফিস যেন ঘুসের হাট!
পরেকমানো হয়েছে সরকারি কলেজের ‘হীরকজয়ন্তী’ উৎসবের রেজিষ্ট্রেশন ফি