
খালেদ শহীদ:
সমুদ্র রক্ষার আহবানে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্টে উদ্বোধন হয়েছে ‘সমুদ্র বই উৎসব’। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ‘সমুদ্র বই উৎসব’ উদ্বোধন করেন, কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আমিন আল পারভেজ। পরে তিনি উৎসব প্রাঙ্গণে বই স্টল ও চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মো. আমিন আল পারভেজ বলেন, জ্ঞান ভিত্তিক সমাজের জন্য বইয়ের কোন বিকল্প নেই। আমাদের লেখাপড়া করা খুবই প্রয়োজন। জ্ঞানের পথে, প্রগতির পথে আন্দোলনের জন্য সমুদ্র বই উৎসব এত গুলো মানুষ সমবেত করতে পেরেছে। আমরা যদি উপলব্ধি করি, যদি ধারণ করি, সমাজের অন্য মানুষের মাঝে সঞ্চারিত করি। তাহলে একটা আলোকিত দেশ এবং আলোকিত পৃথীবি পেতে পারি।
বই কেনা, বই পড়া আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমুদ্র বই উৎসবের তরুন উদ্যোক্তা তরুন প্রজন্মকে, সমাজ বদলে দেবার স্বপ্ন দেখেন। তাকে উৎসাহিত করা, আমাদের দায়িত্ব।
কক্সবাজার সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মো. নজিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও কবি মানিক বৈরাগীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ‘সমুদ্র বই উৎসব’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহ, দ্যা ডেইলি স্টারের নিজস্ব প্রতিবেদক মুহাম্মদ আলী জিন্নাত, কবি আলম তৌহিদ প্রমুখ। শুরুতে সূচনা বক্তৃতা করেন, সমুদ্র বই উৎসবের উদ্যোক্তা ‘ইস্টিশন’ এর স্বত্বাধিকারী অনুরণন সিফাত।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, সব ধরণের মেলাকে ছাপিয়ে, বই মেলা একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। একমাত্র বইয়েরই সম্মোহনী শক্তি রয়েছে। যে শক্তি দিয়ে মানুষকে প্রকৃত পক্ষে মহিমান্বিত করা যায়।
অনুষ্ঠানে বইমেলার বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন, সংস্কৃতজন জেষ্ঠ্য সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী জিন্নাত। তিনি বলেন, মনের খোরাক পাওয়া যায় ইস্টিশনে। মনের এ খোরাক জোগান দিচ্ছেন তরুন উদ্যোক্তা অনুরণন সিফাত। এ ধরণের মানসিকতার মানুষ, আমাদের সমাজে, ঘরে ঘরে জন্মনিক।
তিনি কক্সবাজারের মতো প্রান্তিক জনপদে পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া যায় না উল্লেখ করে বলেন, মনের তাগিদে মানুষকে সংস্কৃতবান করতে, রুচি পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে অনুরণন সিফাত। প্রশাসন এবং বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এখানে বিত্ত আছে, যথাযথ চিত্তের অভাব রয়েছে। চিত্তটাকে খোলা জানালা দিয়ে দেখতে হবে।
অনুষ্ঠানে কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশকসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি পায়রা উড়িয়ে সমুদ্র বই উৎসব উদ্বোধন করেন। সমুদ্র বই উৎসবে নয়টি বই স্টলেই বইপ্রেমীরা ভিড় করে বিকাল থেকে।
রাতে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘সূর্যাস্তের গান’। এতে আরিফ আবদুল্লাহ, প্রীতম শুভ, রথীন পাল, ঈপসীতা চক্রবর্তী সংগীত পরিবেশন করেন।
ইস্টিশন মাস্টার ও সমুদ্র বই উৎসবে উদ্যোক্তা অনুরণন সিফাত জানান, সমুদ্র রক্ষার আহবান জানিয়ে সাগর সৈকতে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে ৫ দিন ব্যাপী সমুদ্র বই উৎসব। ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রচেষ্টায় ইস্টিশনের যে অগ্রযাত্রা, তারই ধারাবাহিকতায় বইপ্রেমী মানুষের জন্য ইস্টিশনের এ ধরনের আয়োজন। সমুদ্র বই উৎসবে’ অংশ নিয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ৯ টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। ইস্টিশনের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এবার সমুদ্র বিষয়ক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সমুদ্রের কাছেই ইস্টিশন আয়োজন করেছে ‘সমুদ্র বই উৎসব’। এটিই হবে সমুদ্রতীরে আয়োজিত দেশের প্রথম বই উৎসব।
তিনি বলেন, ইস্টিশন কক্সবাজারের একটি সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান, যেটি শিল্প সাহিত্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে সংস্কৃতি বিকাশে ভূমিকা রাখছে। লেখক আড্ডা, পাঠচক্র, বসন্ত আয়োজন, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি আমরা।













