
রামু প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের রামুতে বিএনপি নেতা ও ইয়াবা কারবারীর নেতৃত্বে জোরপূর্বকভাবে শিক্ষক পরিবারের স্বত্ব দখলীয় জমি দখলে নিতে একের পর এক হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ১৭ এপ্রিল বিকাল সাড়ে পাঁচটায় উপজেলার কাউয়ারখোপ উখিয়ারঘোনা সওদাগর পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে প্রানভয়ে বিগত দুই সপ্তাহ ধরে নিজ পরিবারেই অবরুদ্ধ হয়ে দিনাতিপাত করছে ভুক্তভোগী শিক্ষক পরিবারের সদস্যরা।
এব্যাপারে আহত শিক্ষক কলিম উল্লাহ বাদী হয়ে ৩জনকে বিবাদী কর রামু থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীসুত্রে জানা যায়, রাবার বাগানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদের স্বত্ব দখলীয় জমি দখলে নিতে দীর্ঘদিন থেকে নানাভাবে হয়রানি,হুমকি-ধমকি ও নির্যাতন চালিয়ে আসছিল স্থানীয় মৃত নুরুল হকের পুত্র বিএনপি নেতা সাইমুম ইসলাম প্রকাশ শাহিন (৪২), বিশিষ্ট ইয়াবা কারবারী কামরুন নেওয়াজ সোহাগ(৩৫) ও মৃত শহর মুল্লুকের পুত্র শাহাব উদ্দিন (৫০)। এরিই সুত্র ধরে ১৭এপ্রিল বিকালে কলিম উল্লাহ ও তার ভাই ছৈয়দ নূর তাদের সওদাগর পাড়াস্থ বাগান ভিটা জমিতে কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার প্রাক্কালে উল্লেখিত বিবাদীরা দা মাস্তুল ও লাটি দিয়ে মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত জখম ও প্রাননাশের হুমকি দিয়ে সটকে পড়ে। এদিকে ঘটনার কয়েকদিন যেতে না যেতেই বিবাদীরা পুনরাই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে পুনরাই কলিম উল্লাহ স্টেশনারী(কম্পিউটার)এর দোকানে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এসময় দোকানে রক্ষিত দেড় লক্ষ নগদ টাকা ও একটি লেপটপ লুট সহ ৫০ হাজার টাকার মত যন্ত্রাদি ভাংচুর করে নষ্ট কে দেয়। হামলায় মুখোমন্ডলে আঘাতের ফলে তাদের বয়োবৃদ্ধ পিতা হারুনুর রশিদের একটি দাঁত পড়ে যায়। বর্তমানে সিমাহীন জখম যন্ত্রনায় কঠিন সময় পার করছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
এদিকে তাদেরকে ক্রমাগত ভয়ভীতি ও প্রাননাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে, যার ফলে বাড়ির ভেতরেই অনেকটা অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন যাপন করতে হচ্ছে ভুক্তভোগী শিক্ষক পরিবারটিকে।
হামলার শিকার ছৈয়দনুর জানান,স্থানীয় মৃত নুরুল হকের পুত্র সাইমুম ইসলাম প্রকাশ শাহিন একজন সক্রিয় বিএনপি নেতা, আওয়ামীলীগের এ সময়েই একজন বিএনপি নেতার প্রভাব এলাকার সাধারন মানুষ ভয়ে তটস্থ। তার আরেক ভাই কামরুন নেওয়াজ সোহাগ একজন চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী ইতিপূর্বে বিশাল ইয়াবার চালান নিয়ে চট্টগ্রাম পুলিশের হাতে ধরে পড়েছিল। এখন জেল থেকে বের হয়ে দ্বীগুন উৎসাহে এলাকায় ইয়াবার কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
এব্যাপারে অভিযুক্ত সাইমুম ইসলাম শাহিন অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং এলাকায় গিয়ে তদন্ত করে সংবাদ প্রকাশের কথা বলেন।
কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের এমইউপি নুরুল ইসলাম জানান,এই ঘটনা সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম,উভয় পক্ষকে আমার বাড়িতে বৈঠক করে সমাধানের জন্য বলেছিলাম,উভয় পক্ষ সম্মতি দিলেও পরিবর্তীতে সাইমুম ইসলাম শাহিন বৈঠকে না করে দিয়ে ঘটনাস্থলে বৈঠক করার জন্য বলেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার সম্পর্কে অবগত থাকা একই ইউনিয়নের ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আনার কলি জানান, মুলত খাস জমি বন্দোবস্তীর কাগজের চেয়ে অতিরিক্ত জায়গা দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সুত্রপাত,তাদের দোকানে বিষয়ে যদি বলি ঘটনার কিছু সময় পরও দোকান খোলা ছিল গভীর রাত হয়ে যাওয়াতে আমি দোকানঘর তালাবন্ধ করে চাবি আমার হেফাজতে নিয়ে আসি।
এদিকে এ দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে ভূমিদস্যুতা ও সন্ত্রাসী আক্রোস থেকে পরিত্রান পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। যেকোন মুহুর্তে আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশংকা দেখছেন সচেতন মহল।













