
অন্তর দে বিশাল:
নয় উপজেলা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীরা ছুটে আসে কক্সবাজারের একমাত্র উন্নতমানের সরকারি হাসপাতাল কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে। জরুরি বিভাগের সেবার মান মোটামুটি সন্তোষজনক হলেও রোগী ভর্তি হওয়ার পর থেকে দেখা মিলে না তেমন কাংখিত সেবা। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে।
তবে হটাৎ করে খাওয়ার স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে সরকারি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ-ই হাসপাতালে। এতে বিপাকে পড়েছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা।
হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডে অনেকটা হৈচৈ পড়ে যায় এ-ই নিয়ে।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, প্যাকেটজাত স্যালাইন নেই, শেষ হয়েছে বলে রোগীদের বাহির হতেই স্যালাইন কিনিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে।
একাধিক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ও স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অল্প দামে এ-ই মহামূল্যবান স্যালাইন ও যদি বাহির হতে কিনে খেতে হয় তাহলে সরকারি ভাবে কি দিচ্ছে আমাদের?শরীরে দেওয়ার জন্য সস্তা দামে স্যালাইন ও সস্তা ঔষধ ছাড়া প্রায় সবকিছু কিনতে হয় হাসপাতালের বাহির থেকে।
সেখানে ৬ টাকা দামের স্যালাইনটিও এখন উধাও হাসপাতাল থেকে। এটা কিভাবে সম্ভব জানা নেই আমাদের। সরকারের চিকিৎসা খাতের এ-ই সব সমস্যা গুলা চিহ্ন করে কোন সিন্ডিকেট জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করাও জরুরি।
শুধু খাওয়ার স্যালাইনের অভিযোগ করে নয়, ডাইরিয়া আক্রান্ত ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় নার্স ছাড়া কতর্ব্যরত কোন ডাক্তার বসতেও দেখা মিলে না। যখন প্রয়োজন হয় তখন।
রোগী ও স্বজনরা আরো জানান, গতকাল রাত ১০ টায় হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়ে ছিলাম। কোন ডাক্তার ছিলো না, পরে ২ ঘন্টা পর ৫ তলা থেকে ডাক্তার এসে দেখেই শরীরে স্যালাইনের ব্যবস্থা করে নার্স’রা।
কর্তব্যরত নার্স জানান, এখানে ডাক্তার নাই ৫ তলা থেকে এসে ডাক্তার যা নির্দেশনা দিবে আমরা সেই অনুযায়ী সেবা প্রদান করতে পারব।
স্যালাইনও নাই আমাদের হাতে কোথায় থেকে দিবো আপনাদের। ঈদের আগে পাওয়ার সম্ভবনা দেখছে কি না জানতে চাইলে তারা জানান, জানা নাই। পাওয়ার সম্ভবনা দেখছি না।
সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের রুহুলার ডেইল গ্রামের হামিদ আক্তার বলেন, সকাল থেকে খাওয়ার স্যালাইন খাওয়াতে পারি নাই। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডাক্তার আপা বলছেন হাসপাতালে স্যালাইন নাই তাই সকাল থেকে খাওয়ার স্যালাইন দেওয়া হয়নি। সরকারি স্যালাইন বন্ধ হওয়ায় নিচে ফার্মেসিতেও পাইনি পরে বাহির থেকে স্যালাইন কিনে খাওয়াচ্ছি।
মহেশখালী উপজেলা শাপলাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নেজাম উদ্দিন বলেন, কাল থেকে ভর্তি হয়ছি সকালে ইন্টার্নি চিকিৎসক একজন দেখে গেছে। এরপর থেকে কেউ দেখলোও না। সাথে খাওয়ার স্যালাইনও দিচ্ছে না নার্স’রা।
মহেশখালী উপজেলা হাসপাতাল থেকে এখানে আসলাম উন্নতমানের চিকিৎসার জন্য কিন্তু এখানে সেই দেখলাম ওখানে অনেক ভালো ছিলাম।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো : আশিকুর রহমানের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ চেষ্টা করা হলে কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।













