কক্সবাজারে হিমছড়ি ঝর্ণায় পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ

0
19

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের নাম ব্যবহার করে রশিদ ছাপিয়ে হিমছড়ি ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে (হিমছড়ি ঝর্ণা) দর্শনার্থী পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ইজারাদার এনআর এন্টারপ্রাইজ। ঝর্ণার প্রবেশ ফি ২০ টাকা নেয়ার কথা থাকলেও রশিদ ছাপিয়ে প্রকাশ্যে আদায় করা হচ্ছে ৩০ টাকা। এমনকি অপ্রাপ্ত বয়স্কদের কাছ থেকেও ১০ টাকার পরিবর্তে নেয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। ঈদের পর দিন থেকে গত ৫ দিনে লক্ষাধিক পর্যটকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা। এভাবে গত ১০ ফেব্রুয়ারী থেকে আড়াই মাসে দর্শনার্থীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে অন্তত ২৫ লাখ টাকা। এতে পর্যটকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে পর্যটকদের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন বলে অভিযোগ ইজারাদারের বিরুদ্ধে। পর্যটকদের কাছ থেকে এভাবে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কক্সবাজার পিপলস ফোরামের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল মজিদ বলেন, ‘এমনিতেই কক্সবাজারে পর্যটকদের কাছ থেকে গলাকাটা দাম রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর উপর সরকারি একটি দপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন পর্যটন কেন্দ্রে এভাবে অবৈধভাবে টাকা আদায় করলে পর্যটকদের মাঝে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন হিমছড়ি ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রটি দরপত্রে অংশ নিয়ে কার্যাদেশ পেয়ে গত ১০ ফ্রেব্রুয়ারী থেকে পরিচালনা শুরু করে ইজারাদার এনআর এন্টারপ্রাইজ। উক্ত সময়ের মধ্যে কক্সবাজারে লক্ষ লক্ষ পর্যটকের আগমনকে পুঁজি করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে রশিদ ছাপিয়ে প্রতিজন দর্শনার্থীর কাছ থেকে ৩০ টাকা হারে প্রবেশ ফি আদায় করেন। এমনকি অপ্রাপ্ত বয়স্কদের কাছ থেকেও আদায় করেন ৩০ টাকা হারে। অথচ প্রবেশ ফি প্রাপ্ত বয়স্ক ২০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১০ টাকা হারে নেয়ার নিয়ম রয়েছে। এভাবে ঈদের ছুটিতে লক্ষাধিক পর্যটকের কাছ থেকে গত ৫ দিনে অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ইজারাদার। ঈদের ছুটিতে ঢাকার সাভার থেকে পারিবারিক ভ্রমণে আসা আবু জাফর খসরু জানান, ‘তাঁর পরিবারের ৯ জন সদস্য নিয়ে গত বুধবার তিনি হিমছড়ি ঝর্ণা দেখতে যান। সেখানে জনপ্রতি ৩০ টাকা হারে প্রবেশ ফি আদায় করা হয়। ৩ জন শিশুর প্রবেশ ফিও ৩০ টাকা করে নেয়া হয়।’
গত বুধবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাজার হাজার পর্যটক দর্শনার্থীতে ভরপুর হিমছড়ি ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র এলাকা। ঝর্ণার প্রবেশ পথে কাউন্টার বসিয়ে রশিদ ছাপিয়ে ৩০ টাকা হারে নিচ্ছেন ইজারাদারের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজন। কাউন্টারের কোথাও বন বিভাগের নির্দেশনামূলক তথ্য বা প্রবেশ ফি কতো টাকা তার কোন তথ্য লেখা নেই। অনেক পর্যটক ভীড় ঠেলে প্রবেশ ফি’র তথ্য জানতে চাচ্ছেন। কিন্তু দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড়ে কথা বলারও সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। বন বিভাগের তত্বাবধানে কাউন্টারের দৃশ্যমান স্থানে প্রবেশ ফি’র তথ্য উল্লেখ না থাকায় অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ তৈরী হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয় লোকজন।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, হিমছড়ি ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রটি ৫৯টি শর্ত মেনে ইজারা নিয়েছেন এনআর এন্টারপ্রাইজ। ইজারা দরপত্রের ২৭ (ক) নম্বর শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হিমছড়ি ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে আগত দর্শনার্থীদের নিকট থেকে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নিম্নোক্ত হারে প্রবেশ ফি টিকিট প্রদানের মাধ্যমে আদায় করতে হবে : (টিকেট ফি এর অতিরিক্ত ভ্যাট/আয়কর বাবদ আদায় করা যাবেনা) প্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ ফি ২০ (বিশ) টাকা, অপ্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ ফি ১০ (দশ) টাকা, দলগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ ফি ১০ টাকা। শর্তের ২৮ নম্বরে উল্লেখ করা হয়েছে ‘নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ চুক্তিপত্র বাতিল পূর্বক যে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, প্রবেশ ফি সংক্রান্ত ছাপানো রশিদ বই বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অনুমোদন নেয়া, দর্শনার্থীদের সাপ্তাহিক পরিসংখ্যান রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ, কেন্দ্রের অভ্যন্তরে দোকানপাঠ, স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ, ভ্রাম্যমাণ দোকান পরিচালনা, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হতে পারে এমন কর্মকান্ড, দর্শনার্থীদের সাথে দূর্ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয় সহ ৫৯টি শর্ত উল্লেখ থাকলেও এর অধিকাংশই মানছেন না ইজারাদার। কক্সবাজার পিপলস ফোরামের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল মজিদ বলেন, ‘গত ১০ ফেব্রুয়ারী থেকে ১৫ দিন দর্শনার্থীর কাছ থেকে ৪০ টাকা হারে প্রবেশ ফি নিয়ে অর্ধলক্ষাধিক পর্যটকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল ইজারাদার। তখন বন বিভাগের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়েছিল।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদার এনআর এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী নুরুল আমিন সিকদার ভুট্টো বলেন, ‘বন বিভাগের মৌখিক অনুমতি নিয়েই ৩০ টাকা করে প্রবেশ ফি আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া সব বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে তদারকি করা হয়।’
বন বিভাগের পক্ষ থেকে হিমছড়ি ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র তদারক কর্মকর্তা ও কক্সবাজার সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা জানান, ‘দর্শনার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।


দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা মুস্তফা বলেন, বনবিভাগের নির্ধারিত টোলের বেশি নেয়া আইনগত অপরাধ। এতে পর্যটক হয়রানীর শিকার হচ্ছে। বিষয়টি বনবিভাগের সাথে আলাপ করে জেলা প্রশাসককে জানানো হবে। এরপরই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আগেরামুতে কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিল যুবলীগের সেক্রেটারি প্রার্থী রাশেদ আলী 
পরেএসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু আজ: রামুর ৩১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৯৩৪ জন পরীক্ষার্থী