রামুতে চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩

0
30

হাসান তারেক মুকিম,রামু

কক্সবাজারের রামু উপজেলার একটি চা বাগানের গহীন অরণ্যে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস অটোরিকশা চালক শামসুল আলম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালককে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উখিয়ার হলুদিয়াপালং ইউনিয়নের পাগলিরবিল এলাকার মৃত মো. আলীর ছেলে আব্দু শুক্কুর (৩৮), একই এলাকার ইদ্রিস ভান্ডারির ছেলে হোছন (১৯) এবং রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ছাদিরকাটা এলাকার ছৈয়দ আকবর মাছ ব্যবসায়ীর ছেলে গুরা মনিয়া (২২)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রামু থানার মামলা নং-৩১/১০৯, তারিখ ১২ মার্চ ২০২৬, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোডে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তভার পান এসআই (নিঃ) মো. শওকত জামিল। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিবিড় তদন্ত চালিয়ে তিনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

পরবর্তীতে ৮ থেকে ৯ মে পর্যন্ত রামু ও উখিয়া থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্যমতে, গত ১০ মার্চ আসামিরা পরিকল্পিতভাবে অটোরিকশা চালক শামসুল আলমকে কক্সবাজার সদর এলাকা থেকে মালামাল আনার কথা বলে ১ হাজার ২০০ টাকায় ভাড়া করে রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের একটি রাবার বাগান কারখানার পেছনের নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়।

সেখানে অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকের কাছে চাবি চাইলে তিনি বাধা দেন। একপর্যায়ে আসামিরা তার সঙ্গে থাকা গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নিহতের মুখে মাস্ক পরিয়ে রেখে যায়।

হত্যার পর আসামিরা অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে উখিয়ার মরিচ্যা এলাকার একটি ইটভাটার পাশে রেখে দেয়। পরদিন ১১ মার্চ কোটবাজার এলাকায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির কাছে সেটি ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় এবং প্রত্যেকে ১০ হাজার টাকা করে ভাগ করে নেয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শওকত জামিল জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়ভাবে তারা সংঘবদ্ধ পেশাদার চোর ও ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত। ঘটনার পর প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনায় ব্যবহৃত ও ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

আগেখাটের নিচেই মিনি গুদাম: রামুতে ইয়াবার বিশাল চালান উদ্ধার