একটি কুড়ানো কাগজ থেকেই ইসলামী ছাত্রসমাজের সাথে পরিচিত হওয়ার গল্প

0
48

 হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর

আমি তখন রামু জামেয়াতুল উলুম মাদ্রাসার ছাত্র। সবেমাত্র হেফজ বিভাগ থেকে ফারেগ হয়ে কিতাব বিভাগে ভর্তি হয়েছি ( ১৯৯৮-৯৯ সাল)। প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাত্রাবস্থা থেকেই বাংলা রিডিং ভাল পড়তাম। তাই পত্রিকা, বই পড়ার প্রতি ঝোঁক ছিল তখন থেকে। সেই সাথে সামনে কোন কাগজের টুকরো দেখলেই ( সম্মানার্থে) কুড়িয়ে নেয়ার একটি অভ্যাস তো আছেই।কুড়ানো কাগজে কিছু লেখা থাকলে তা তাৎক্ষণিক পড়ে নিতাম। একদিন মাদ্রাসা থেকে মধ্যম মেরংলোয়া লজিং এ যাচ্ছিলাম। বৃষ্টির দিন। এসময় রামু চৌমুহনী স্টেশনে আমার দৃষ্টি পড়ল টুপি, পাঞ্জাবী পরিহিত বেশ কিছু মানুষের ছবি সম্বলিত এক টুকরো কাগজের ওপর। কুড়িয়ে নিলাম সেটি। কিন্তু বৃষ্টিভেজা হওয়ায় তাতে কি লেখা ছিল তা স্পষ্টভাবে পড়া সম্ভব হচ্ছিল না। তারপরও কাগজটি অতি যত্নে নিয়ে গেলাম লজিং বাড়িতে। লজিং এর খালাম্মা যিনি মায়ের মতই আমাকে আদর- যত্ন করতেন ( এখন মরহুমা, আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন) কাগজটি তার হাতে দিয়ে বললাম খালাম্মা কাগজটি একটু শুকিয়ে দিতে হবে। তিনিও পরম যত্নে কাগজের টুকরোটি চুলার ঘরে রেখে শুকিয়ে দিলেন। খানা শেষ হওয়া মাত্রই আমার হাতে তুলে দিলেন সেই কাগজ। আমি হাতে নিয়ে পড়তে পড়তেই রওয়ানা করলাম মাদ্রাসা অভিমুখে। সে কাগজে ছিল একটি মিছিলের ছবি। নিচে দু’লাইনের ছোট্ট লেখা। লেখা ছিল ” কুদরতে খোদা শিক্ষা কমিশন বাতিল ও ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবীতে চট্রগ্রামে ইসলামী ছাত্রসমাজের মিছিল”। তখন থেকেই ইসলামী ছাত্রসমাজ নামটি আমার হৃদয়ে গেঁথে যায়। কাগজের সেই টুকরোটি আমি স্বযত্নে সংরক্ষণ করি (এখনো আমার নিউজ কাটিং ফাইলে সেটি সুরক্ষিত।) এই টুকরো কাগজই ইসলামী ছাত্রসমাজের সাথে আমার পরিচিিতর যোগসূত্র। তখন থেকেই ভাবনা জাগে কিভাবে সংগঠনটির কর্মী হবো, কারা এ সংগঠনের নেতৃত্বে আছেন, কিভাবে তাদের সাথে পরিচিত হওয়া যায়? কিন্তু অল্প বয়স ও বোধ, সচেতনতার সীমাবদ্ধতার কারণে তখনই নাগাল পাইনি কাঙ্ক্ষিত সংগঠনের। যখন আমি মাদ্রাসা ছাত্র জীবনের কয়েক বছর পার করলাম ৷ ২০০০ সাল। তখন রামু রাজারকুল আজিজুল উলুম মাদ্রাসায় পড়ি। একদিন রামু চৌমুহনী থেকে মাদ্রাসায় ফেরার পথে জামেয়াতুল উলুম মাদ্রাসার তখনকার শিক্ষক, আমার মুহতারাম উস্তায মাওলানা আব্দুল গফফার নাছের আমার হাতে একটি চিঠি দিয়ে বললেন ” চিঠিখানা তোমাদের মাদ্রাসার সিনিয়র ছাত্র জুবাইরকে দিও”। আমি সেই চিঠি বরাবরই প্রাপকের হাতে তুলে দিলাম। তবে সে চিঠি কি বিষয়ে তা জানা ছিলোনা। প্রাপক সম্পর্কে আমার চাচা হওয়ায় কৌতুহল বশতঃ জানতে চাইলাম ” চাচা আপনাকে কি বিষয়ে চিঠি দিলেন আমার হুজুর? তিনি একনজর পড়েই বললেন, “চিঠিখানা ইসলামী ছাত্রসমাজের। আগামী জুমাবার রামুর মিটিং আছে। চিঠির অপর পৃষ্ঠায় লেখা আছে তোমাকে আমার সাথেই যেতে হবে”। স্বাচ্ছন্দ্যে সম্মত হলাম ” যাব ইনশাআল্লাহ “। কারণ অনেকদিন পর আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার সেই ঠিকানার সন্ধান পেয়ে গেলাম। গেলাম চাচার হাত ধরে রামু চৌমুহনী। বাদে আছর স্টেশন জামে মসজিদে বসা আমার দু’জন উস্তায মাওলানা ছাবের আহমদ সাইফু ও মাওলানা আব্দুল গফফার নাছেরসহ আরো বেশ ক’জন। সেদিন ৮ সেপ্টেম্বর’২০০০ ইং, জুমাবার উল্লিখিত দু’জন উস্তাযের কাছ থেকে ইসলামী ছাত্রসমাজ সম্পর্কে উদ্দীপনামূলক আলোচনা শুনি এবং কর্মী ফরম পূরণ করে ঐতিহ্যাবাহী এ সংগঠনের ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় শামিল হই। তখন থেকে বিভিন্ন জনপদ চষে বেড়িয়েছি ইসলামী ছাত্রসমাজ নামক ঐতিহ্যবাহী ঈমানী কাফেলার দাওয়াত নিয়ে। দেয়াল লিখন, পোস্টারিং, ব্যানার সাটানো, মাইকিং থেকে শুরু করে মঞ্চ পরিচালনা, বক্তৃতা, কর্মী সংগ্রহ, কর্মী সংযোগ, সংবাদপত্র অফিসে গিয়ে নিউজ প্রদান,সভা-সমাবেশ, ইসলামী সম্মেলন, শানে রেসালত সম্মেলন আয়োজন, রাজপথে মিছিলে স্লোগান ধারণ, বিক্ষোভ -প্রতিবাদসহ অসংখ্য কর্মসূচীতে সরব, সক্রিয় ও সচেতনভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।মহলের সকলেরই জানা। এখনো সেই প্রচেষ্টায় নিমগ্ন আছি। অনেক সময় একজনের খাবার কয়েকজনে মিলে খেয়েছি, কখনো উপোস দিন কাটিয়েছি, কতরাত নির্ঘুম পার করেছি , কখনো পাহাড়সম বাধার প্রাচীর পথ আগলে দাঁড়িয়েছে, কখনোবা হয়রানী -নির্যাতন হয়েছে আমাদের ওপর, শিকার হয়েছি প্রতিহিংসা ও পরশ্রীকাতরতার। কিন্তু কোন বাধা, সংকট, -সমস্যা, অভাব-অভিযোগ আমাদের সেই অগ্রযাত্রা রোধ করতে পারেনি। আমরা সকল প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে মহান আল্লাহর রহমতে অবিরাম পথচলেছি। এখনো আমাদের যাত্রা অবিরাম। ২০০০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আমি উপমহাদেশের বিদগ্ধ ওলামা-মশায়েখের হাতে গড়া, প্রাচীনতম ইসলামী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজের পতাকাতলে এসে দৃপ্ত শপথগ্রহন করেছিলাম পবিত্র কুরআন-সুন্নাহর আলোয় আপন চরিত্র, পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রকে ঢেলে সাজানোর। সেই ঐতিহাসিক শপথ বাস্তবায়নে পথচলছি অবিরাম। তাওফিক চাই আল্লাহর কাছে। দু’আ চাই ইসলাম অনুরাগীদের।

লেখক – সহ-সভাপতি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজ।

 

আগেটেকনাফে যাত্রীবাহী বাস তল্লাশী করে ইয়াবাসহ দুই পাচারকারী আটক
পরেকক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার- ১০