
কক্সবাজার খবর ডেস্কঃ
নিজেদের অপকর্ম ভুলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে উপকুলের জলদস্যু, অস্ত্র কারিগররা। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় দফায় আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া-পেকুয়ার দেড় শতাধিক জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগর। একই সাথে রয়েছে উখিয়া-টেকনাফের ৪৩ ইয়াবা কারবারি। এমনটাই জানিয়েছেন প্রশাসনের একাধিক সূত্র।
বর্তমানে এসব জলদস্যু, অস্ত্র কারিগর ও ইয়াবা কারবারিরা একটি বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে। আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কক্সবাজার পুলিশ লাইনস মাঠে এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
সূত্রে জানা যায়, মহেশখালী-কুতুবদিয়া, চকরিয়া-পেকুয়ার উপকূলবর্তী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চিহ্নিত জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। অনেকে এই জলদস্যুদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে চোখ, হাত, পা হারিয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছে। বিশেষ করে দস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীসহ সমগ্র বাংলাদেশে দেশীয় অবৈধ অস্ত্রের বড় একটি অংশ সরবরাহ করে যাচ্ছে মহেশখালীর অস্ত্র কারিগররা। এসব দস্যুদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তৎপর হয়ে উঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর মহেশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আত্মসমর্পণ করে মহেশখালী-কুতুবদিয়া উপকুলের ৪৩ জলদস্যু। ইতিমধ্যে ওই ৪৩ দস্যুকে সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে বর্তমানে কারামুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরে এসেছেন।
এদিকে গেল ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ পাইলট হাইস্কুল মাঠে আত্মসমর্পণ করে ১০২ ইয়াবা কারবারি। এরপর গুঞ্জন উঠে ইয়াবা কারবারিদের দ্বিতীয় দফা আত্মসমর্পণের। তাদের সাথে চলে আলোচনা। একে একে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে চলে আসে ৪৩ ইয়াবা কারবারি।
প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব ইয়াবা কারবারি ইতোপূর্বে হেফাজতে চলে এসেছে তাদেরকেই শুধু আত্মসমর্পণের সুযোগ দেয়া হবে। নতুন করে কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে না। দায়িত্বশীল সূত্রটি জানিয়ে, নভেম্বরের শুরুতে দ্বিতীয় দফার আত্মসমর্পন অনুষ্ঠনটি হতে যাচ্ছে।













