৭টির মতো সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে : টিআইবি

0
11

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে (টেকনাফ ও উখিয়া) সন্ত্রাসী বাহিনীর তৎপরতা লক্ষণীয়। ক্যাম্পগুলোতে প্রায় সাতটির মতো সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মুক্তিপণ না পেলে হত্যা করে লাশ গুম করা, ইয়াবা ও মানবপাচারে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) উদ্যোগে ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের (রোহিঙ্গা) নাগরিকদের বাংলাদেশে অবস্থান: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’, শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। টিআইবি‘র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই কাজের গবেষণা উপদেষ্টা ছিলেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আগস্ট ২০১৯ পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে ৫৯ হাজার ১৭৬ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আটক করার সংখ্যা ছিল ৬৯০ জন। পুলিশ, পাসপোর্ট অফিস ও নির্বাচন কমিশনের কিছু অসাধু কর্মচারী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশে রোহিঙ্গাদের একাংশ জন্ম নিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরিসহ মোবাইল সিম কার্ড সংগ্রহ করছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের গবেষণার তথ্য উপাত্ত থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশজনিত ঝুঁকি বেড়েছে।’

গবেষণায় দেখা গেছে, কক্সবাজারের মোট জনসংখ্যার ৬৩.২ শতাংশ রোহিঙ্গা এবং ৩৪.৮ শতাংশ স্থানীয় বাংলাদেশি। যা সামাজিক ঝুঁকি বৃদ্ধির পেছনের মূল কারণ।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে। যাদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে নিজ মাতৃভূমি থেকে পালিয়ে এসেছে।

টিআইবি’র গবেষণার ফলাফলে আরও উল্লেখ করা হয়, রোহিঙ্গারা স্বল্প পারিশ্রমিকে কাজ করছে বলে স্থানীয় কর্মীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ কম পাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার হাসপাতালগুলোতে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবায় মোট সম্পদের ২৫ শতাংশেরও বেশি ব্যয় করা প্রয়োজন। যাতে স্থানীয় জনগণের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

টিআইবি’র গবেষণাটি আরও ইঙ্গিত দেয় যে, কক্সবাজারে সামাজিক অবক্ষয়ের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান, নারী পাচার, পতিতাবৃত্তি বাড়ছে।

আগেটঙ্গীর পর এবার ঢাকা ইপিজেড-এ আগুন
পরেঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কের ফের অপহরণ,  মুক্তিপণ দাবী