করোনা সংকটে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়ার অপরাধে সাংবাদিককে জরিমানাঃ ফেসবুকে নিন্দার ঝড়

0
9

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

করোনা সংকটে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়ার অপরাধে কক্সবাজারে সাংবাদিক হারুনুর রশিদকে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সাংবাদিক হারুনুর রশিদ তার ফেসবুক ওয়ালে  ৪ এপ্রিল ভারাক্রান্ত মনে ঘটনার বর্ণনা করেন। তার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করার পর কক্সবাজার সাংবাদিক মহলে শুরু হয় প্রতিবাদ। প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠে সুশীল সমাজের মাঝে।পাঠকের সুবিধার্থে নিম্নে ঘটনার বর্ণনা ও কয়েকটা মন্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

 

বিকালে বাসা থেকে বেরোলাম। এর কিছুক্ষণ পর হঠাৎ দেখি কাল বৈশাখীর তান্ডব। তখন কলাতলী এলাকায় ছিলাম। ঝড় বৃষ্টি শেষে কাল বৈশাখীর ক্ষয় ক্ষতির সংবাদ জানতে সন্ধ্যার সময় কলাতলী থেকে শহরের দিকে যাচ্ছিলাম। বাহারছড়া পাসপোর্ট অফিস পয়েন্টে পৌছা মাত্র জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রট দীপঙ্কর তন্চঞ্জা আমার গাড়ী থামানোর নির্দেশ দেয়, তাৎক্ষণিক গাড়ী থামিয়ে ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে যাই, অতঃপর তাকে সালাম দিয়ে নিজের পরিচয় দিই। সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘর থেকে বের হয়েছি বলে জানাই। তখন ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেব জানতে চায় ‘ আমার গাড়ীর কাগজ পত্র আছে কি না। উত্তরে বললাম, নতুন গাড়ী, কাগজ পত্র প্রসেসিং এ আছে। এর পরও তিনি নাছোড় বান্দা, আমার সাথে থাকা সাংবাদিক নোবেল ও আমার কাছ থেকে ১০০০ ( এক হাজার টাকা) করে জরিমানা দিতে হবে। আমি বললাম, আমার কাছে টাকা নেই। তারপরও দিতে হবে। কোন উপায় না দেখে এডিসি ( রাজস্ব)স্যার কে ফোনে বিষয়টি অবহিত করে ফোনটি ধরিয়ে দিলাম ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেবকে। পরে ম্যাজিষ্ট্রেট বলল, ” রেভিনিউ স্যার টাকাটা দিয়ে দেবে, আপনি জরিমানাটা দিয়ে দেন”। ওনি ওনার ক্ষমতা দেখালেন এই অসহায় বান্দার উপর। তখন আমার পকেটে ছিল মাত্র ২০০ ( দুইশত) টাকা। গাড়ীর তেল, বউ বাচ্চার রিজিক ছিল শুধু ওই দুইশত টাকা। করোনা সংকটে নিজের জীবন বাজি রেখে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিঃস্ব হলাম। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আমার ছোট মেয়েটি বলেছিল- ” আব্বু তরমুজ আনিও, আমি তরমুজ খাবো”। আল্লাহর অসীম রহমতে আজ বাচ্চার জন্য তরমুজ নেয়া হলনা, গাড়ীর তেলও হলনা। জন জীবনের এমন দুঃসময়ে এমন পরিণতি যেন আর কোন সংবাদকর্মীর কপালে না জুটে। আল্লাহ যেন তাদেরকে হেদায়েত করেন।

আগেকক্সবাজারে সিনিয়র এক সাংবাদিকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ
পরেকরোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯, আক্রান্ত আরও ১৮