কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তা তালিকায় স্বজনপ্রীতির মহাযজ্ঞ

0
5


এম. বেদারুল আলম :

কালা মিয়ার ১ ছেলে সৌদিয়া থাকেন। জবিউর রহমানের ২ ছেলেও সৌদিয়া প্রবাসি। মিফতাহুল আলম তিনিও প্রবাসি। মাস্টার রুহুল আমিন। ২ ছেলে আরব আমিরাতে থাকেন। আবুল কাশেমের ২ ছেলে ওমান প্রবাসি। উপরোক্ত সকলে এলাকায় স্বচ্ছল এবং অর্থনৈতিকভাবে চলনসই, অনেকে উচ্চবিত্ত ও বটে। সদরের পিএমখালীর ৮ নং ওয়ার্ড ধাওনখালীর মেম্বার আব্বাছ উদ্দিনের প্রণীত তালিকায় এরা সকলে নিম্নবিত্ত। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ করোনা সহায়তা তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। এ তালিকা নিয়ে এলাকায় চলছে নানা জল্পনা কল্পনা । কেউ বলছেন সকলে মেম্বারের পরিবারের লোক। কেউ বলছেন আসল দরিদ্রদের প্রধানমন্ত্রীর ২৫০০ টাকা করে দেওয়া তালিকা তেকে বঞ্চিত করে নির্বাচনে যারা মেম্বারকে ভোট দিয়েছেন তাদের নাম দেওয়া হয়েছে তালিকায়। উক্ত ওয়ার্ডের প্রণীত তালিকায় ৮৬ জনের মধ্যে বেশির ভাগই মেম্বারের আত্মীয়-স্বজনের নাম অভিযোগ উক্ত ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি ডাঃ হারুনুর রশিদের। পিএমখালীতে ১১৬৮ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে যেখানে অন্তত ৫/৬ টি ওয়ার্ডে এ ধরনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা। তবে কয়েকটি ওয়ার্ডের মেম্বাররা যে এ অনিয়ম করেছেন তা স্বিকার করে পরিষদের সচিব মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেছেন আমরা অনিয়মের বিষয়টি পূণঃতদন্ত করে যাচ্ছি।
চেয়ারম্যান মাস্টার আবদুর রহিম বলেছেন- মেম্বারদের স্পষ্ট বলে দেওয়ার পরও কেন অনিয়ম করেছে তা ট্যাগ অফিসার ও তদন্তে নিয়োজিত শিক্ষকদের মাধ্যমে তদন্ত করে বের করব এবং তালিকা সংশোধন করা হবে।
ডাঃ হারুনুর রশিদের অভিযোগ- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসহায় দরিদ্রদের জন্য বিশেষ করে করোনায় চরম অর্থকষ্টে থাকা নিম্নবিত্ত পরিবারে হাসি ফুটাতে এ সহায়তা প্রদান করলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কাউকে না জানিয়ে শুধুমাত্র নিজস্ব লোকদের তালিকাভুক্ত করেছে যা তদন্তের দাবি রাখে। এমন চিত্র পুরো জেলা জুড়ে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মাধ্যমে তালিকা করার কারনে বেশির ভাগ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা তাদের তালিকায় নিজের লোকদের অর্ন্তভুক্ত করেছে বলে তৃনমূলের আওয়ামীগ নেতাদের অভিযোগ। অনেক এলাকায় মেম্বাররা উপকারভোগিদের আইডি কার্ড জমা রেখেছে যা টাকা পাওয়ার পর তাদের প্রতিশ্রুত টাকা দিয়ে ফেরত নেওয়ার অঙ্গিকার করে।
পিএমখালীর আওয়ামীলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন, স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতাকারি দেলোয়ার হোসেন জনি, আওয়ামীল নেতা আবুল কালাম, যুবলীগ নেতা ছৈয়দ মিয়াসহ সরকার দলীয় অনেক নেতার অভিযোগ- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তা প্রকল্পটি মেম্বাররা গোপনে আমাদের না জানিয়ে সম্পন্ন করেছে যদিও নির্দেশনায় তৃনমূলের নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয়  করে চুড়ান্ত করার নিদের্শনা ছিল। এটি আগামি স্থানীয় নির্বাচনের জন্য জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ প্রচারনার সুযোগ হিসাবে কাজে লাগাচ্ছেন বলে অভিযোগ আওয়ামীলীগ নেতাদের।
সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদ উল্লাহ মারুফ জানান,করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির সৃষ্ট দূর্যোগে বিশেষ মানবিক সহায়তা প্রকল্পেরন আওতায় সদরের ১০টি ইউনিয়ন এবং কক্সবাজার পৌরসভার জন্য ১৭ হাজার ৯৯ জনের তালিকা করা হয়েছে যে তালিকা স্থানীয় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাধ্যমে যাছাই-বাছাই করা হচ্ছে। অনেক স্থানে বিতরণ ও শুরু হয়েছে। তালিকায় অর্ন্তভুক্ত পরিবারকে দেওয়া হবে ২৫০০ টাকা করে এবং পরবর্তীতে ২০ কেজি করে চাল। উপকারভোগিদের এনআইডি, মোবাইল নং, জন্মতারিখ,পেশা ইত্যাদি নির্দিষ্ট ফরমে লিখে তা প্রস্তুত করে পুনরায় ক্্রস চেক করা হচ্ছে। কোন অনিয়মের অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে দেখার প্রতিশ্রুতি ও দেন তিনি।

 

এ দিকে নির্দেশিকা অনুযায়ি এ তালিকায় যারা স্থান পাবেন তারা হলেন সমাজের ভাসমান , বয়স্ক, বেকার, ফেরিওয়ালা, ভুমিহীন, বেদে,পথশিশু, চা বিক্রেতা, হোটেল শ্রমিক,কর্মহীন নিম্ন আয়ের মানুষ। যারা সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বিশেষ করে সরকারি কোন ভাতাভোগি এ তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হতে পারবেনা। কিন্তু প্রণীত তালিকায় জনপ্রতিনিধিরা তাদের নিজস্ব লোক, পরিবারের ৩/৪ জন করে লোক কৌশলে তালিকাভুক্ত করেছেন।

 

এদিকে জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তার কার্যালয়সূত্রে জানা যায়, জেলার ৭৫ হাজার পরিবারে ঈদ উপহার প্রদানের তালিকা প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। এখন চলছে সংশোধনী। ঈদের আগে মোবাইলের ম্ধ্যামে উপকারভোগিদের মাঝে ২৫০০ টাকা করে নগদ টাকা এবং পরবর্তীতে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এটি প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসাবে বলা হচ্ছে। জেলার ৭১টি ইউনিয়ন, ৪টি পৌরসভায় এ টাকা বিতরণ করা হবে। এরমধ্যে কক্সবাজার সদরে ৯৫৫০ জন, রামুতে৮৭৩২ জন,উখিয়ায় ৫৭৮১ জন, টেকনাফে ৬৮২৬ জন, কুতুবদিয়ায় ৪০৯৬ জন, মহেশখালীতে ৯৬১০ জন, চকরিয়ায় ১৩১৫৯ জন, পেকুয়ায় ৫৬০৯ জন ছাড়াও কক্সবাজার পৌরসভায় ৭৫৪৯ জন, চকরিয়া পৌরসভায় ২৩৭৬ জন, মহেশখালী পৌরসভায় ৮৯৩ জন এবং টেকনাফ পৌরসভায় ৮১৩ জনসহ সর্বমোট ৭৫ হাজার পরিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ করোনা উপহার পাবেন ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনায় চরম অর্থকষ্টে থাকা নিম্নবিত্ত মানুষের মুখে ঈদে হাঁসি ফোটানোর জন্য নগদ অর্থ সহায়তার এ প্রকল্প গ্রহন করলেও কিছু দূর্নীতিবাজ জনপ্রতিনিধি এবং তাদের নিয়োজিত দালালদের কারনে প্রকৃত দরিদ্ররা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগের সাথে সমন্বয় করে প্রকৃত উপকারভোগিদের বের করে তালিকা চূড়ান্ত পূর্বক বিতরণ করলে তা যথাযত হবে বলে মনে করেন সচেতনমহল। উক্ত টাকা চেয়ারম্যান-মেম্বারদের আগামি নির্বাচনে প্রচারনার তহবিল হিসাবে না দিয়ে প্রকৃত উপকারভোগিদের তালিকা জরুরি। ফলে সফল হবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ এ সহায়তা প্রকল্পটি। ঘটবে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন।-দৈনিক কক্সবাজার

আগেটেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা নিহত, অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার
পরেদেশে একদিনে রেকর্ড ১২৭৩ করোনা রোগী শনাক্ত, মৃত্যু ১৪