
মাহাবুবুর রহমান :
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সহ আইসিইউ স্থাপনের কাজ দ্রæত এগিয়ে চলছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামি ২০ জুন উক্ত আইসিইউ উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাহীন আবদুর রহমান।
তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতিকে সবাইকে ধৈর্য্য এবং সহনশীলতার সাথে মোকাবেলা করতে হবে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ২০১৬ সালে যে আইসিইউ উদ্বোধন হয়েছিল সেটা কার্যকর আছে সেখানে সাধারণ মুমুর্ষ রোগিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তবে করোনা রোগিদের নয়। বর্তমানে করোনা রোগিদের জন্য ইউএনএইচসিআরের অর্থায়নে ২০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিআই চালু হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ শয্যা ভেন্টিলেটর সহ আইসিইউ যেখানে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন অক্সিজেন সুবিধা থাকবে বাকি ১০ শয্যা সিসিইউ সুবিধা থাকবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যেই কাজের প্রায় ৬০% শেষ হয়েছে বাকি কাজও আশা করি যথাসময়ে শেষ হবে।
এদিকে করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে ব্যাপক ভাবে আলোচনায় আসে কক্সবাজারের স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ে বিশেষ করে অক্সিজেনের অভাবে বেশ কয়েকজন পরিচিত মানুষের মৃত্যুতে বেশ সমালোচিত হয়েছে জেলার সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র সদর হাসপাতাল।
এবিষয়ে কক্সবাজার বারের সাবেক সহ সম্পাদক এড. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন,স্বাস্থ্য বিভাগকে শতভাগ দোষারোপ করার কিছু নেই। তবে কিছু জিনিস আছে সেটা মানুষের মৌলিক অধিকার সেটা যখন মানুষ পায়না তখন প্রতিবাদ হয়। যেমন বর্তমানে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট ১০ দিনেও পাওয়া যাচ্ছেনা এতে জেলার সংক্রামনের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। আর হাসপাতালে কোন মুমুর্ষ রোগি গেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম রেফার করা হয় তাহলে এখানে কি ব্যবস্থা আছে সেটা নিয়ে জনগন সন্দিহান তবে বর্তমানে উন্নতমানের আইসিইউ হচ্ছে এতে আমরা খুব খুশি।
এব্যাপারে আরেক আইনজীবি এড.হারুন অর রশিদ বলেন, আমি নিজে পেটের ব্যাথা নিয়ে মে মাসের শুরুর দিকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলার নিজে দেখেছি সেখানে কি চিকিৎসা হচ্ছে কোন সিনিয়র ডাক্তার নাই শুধুমাত্র ইন্টার্ণ চিকিৎসক দিয়েই চলছে চিকিৎসা সেবা। তাও নির্দিস্ট সময় ছাড়া ডাক্তার পাওয়া যায় না। নার্সদের ভাব যেন এমন রোগির কাছেই আসেনা হাত দিয়েও ধরে না ওয়ার্ড বয়দের দিয়ে ধরে তবে বর্তমানে যে ভালোমানের আইসিইউ বসছে সেজন্য আমরা কক্সবাজারের মানুষ খুবই আনন্দিত। উপজেলা সংলগ্ন ডিককুল এলাকার নুর হোসেন বলেন, আমার মা (৭৫) উনাকে নিয়ে হাসপাতালে গেলে জরুরি বিভাগে ঘন্টাখানেক বসে থাকার পর ডাক্তার এসেছে তাও অনেক দূর থেকে দেখছে গায়ে জ্বর বলাতে কেউ হাত দেয়নি। করোনা টেস্ট রিপোর্ট ছাড়া কোন চিকিৎসা হবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছে পরে আমি বাসায় এনে ফার্মেসী থেকে ঔষধ খাইয়েছি এখন আলহামদুলিল্লাহ মা সুস্থ আছেন। তিনি বলেন, আমি পুরু হাসপাতাল ঘুরে দেখেছি ১০০ রোগি নেই তারপরও সেখানে ডাক্তার পাওয়া যায় না। আর কোন সিনিয়র ডাক্তারতো আসেই না আসলেও গøাসের ফাঁক দিয়ে কথা বলে ঔষধ লিখে দেন।
এ ব্যাপারে জেলা সদর হাসপাতালে তত্বাবধায়ক ডাঃ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যে হাসপাতালের ১২ জন ডাক্তার, ২৫ জন নার্স এবং অসংখ্য কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা প্রত্যেকে এখানে সেবা দিতে গিয়ে করোনা পজিটিভ হয়েছেন। আর করোনা পজিটিভ হলে তাদের ছুটি দিয়ে আইসোলেশনে পাঠাতে হয় তাই অনেকটা ডাক্তার সংকট আছে। আর যে আধুনিক আইসিইউ বসছে সেটার পূর্ণ সুবিধা পাবে স্থানীয় মানুষ। ইতোমধ্যে বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বাকি কাজও আশা করি যথা সময়ে শেষ হলে ২০ জুন সেই প্রত্যাশিত আইসিইউ চালু করা হবে।













