
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যেতে হবে
এম.এ আজিজ রাসেল
গৌরব ও ত্যাগের অনুপম বীরত্বগাথা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। আমরা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জনকারী জাতি। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে দাঁড়িয়ে আমরা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সুবর্ণ আলো দেখতে পাই। তাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ২৬ মার্চ (শুক্রবার) বিকালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে পাবলিক লাইব্রেরীর শহীদ দৌলত ময়দানে কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নজিবুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কর এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান। বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি অধ্যাপিকা এথিন রাখাইন, সহ সভাপতি রেজাউল করিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক মুকুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. রনজিত দাশসহ পৌর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের, গর্বের ও সম্মানের। কারণ ১৯৭১ সালে মার্চের এই দিনের প্রথম প্রহরেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু এই স্বাধীনতা একদিনে বা হঠাৎ করে আসেনি। অনেক ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তাই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে অর্থাৎ স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সকলকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বক্তারা বলেন, পঞ্চাশ বছরের এক গর্বিত পরিক্রমার নাম বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধ এই পরিক্রমার রক্তাক্ত ভিত্তিভূমি, বঙ্গবন্ধু এর মহান কান্ডারী। মুক্তিযুদ্ধ কোনো আকস্মিকতার ফল নয় বরং ইতিহাসের এক অনিবার্য ধারাবাহিকতার নাম। হাজার বছরের বিদ্রোহী ও সংগ্রামী পরম্পরায় আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিজয় অর্জন করেছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর লগ্নে স্বাভাবিকভাবে আমাদের দৃষ্টিসীমায় ভেসে ওঠে পঞ্চাশ বছরের পথ-পরিক্রমণ।
বক্তারা আরও বলেন, আমরা যারা ইতিহাসের সাক্ষী, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে রক্তরঞ্জিত বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রত্যক্ষদর্শী, তারা পঞ্চাশ বছরের পরিক্রমণের সঙ্গে দেখতে পাই রক্তসমুদ্র পেরিয়ে নতুন অভিযাত্রার সূচনা। ফলে কেবল পথরেখা নয়, রক্তরেখাও আমরা দেখি। এই রক্তদাগের সঙ্গে মেশে, স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের উপান্তে সপরিবার বঙ্গবন্ধু হত্যা, জাতির জনকের রক্ত মিশে যায় একাত্তরের রক্তধারার সঙ্গে। ফলে স্বাধীনতা লাভের জন্য যেমন আমাদের বিপুল মূল্য দিতে হয়েছিল তেমনি স্বাধীনতা-পরবর্তীকালেও অর্জনগুলো বারবার আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, রক্তাক্ত ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে জাতির শরীর।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে অগ্রযাত্রা সূচিত হয় তার ধারাবাহিকতাতেই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি ধনী-গরিব বৈষম্য, দুর্নীতি দূর করা সম্ভব হলে আমরা অচিরেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী এনামুল হক, আসিফুল মাওলা, ডা. পরিমল কান্তি দাশ, জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি আনিসুল হক চৌধুরী, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম নেওয়াজ, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, আতিক উল্লাহ কোম্পানি, জাফর আলম, জহির কাদের ভুট্টু, রাশেদুল ইসলাম ডালিম, বেলাল উদ্দিন, শুভ দত্ত বড়ুয়া ও ওয়াহিদ মুরাদ সুমন।
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।













