
সুনীল বড়ুয়া
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টে ভেসে আসা মরা তিমিটি ব্রাইড’স হোয়েল (Bryde’s whale) প্রজাতির এবং প্রাপ্ত বয়স্ক, জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফিসারিজ রিচার্স ইনস্টিটিউট-এর সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গবেষক মোহাম্মদ আশরাফুল হক।
তিনি বলেন, মরা তিমিটির শরীর থেকে হাড় বের হয়ে গেছে।
দেখে মনে হচ্ছে এটি দশ থেকে পনেরো দিন আগে মারা গেছে।
‘প্রাথমিকভাবে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছে বলে মনে হচ্ছে।
তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে’, যোগ করেন আশরাফুল।
এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, সুন্দরবনের দুবলার চর সংলগ্ন ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’-এ এই প্রজাতির তিমি বেশ দেখতে পাওয়া যায়।
হয়তো ওখান থেকে দলছুট হয়ে এটি এদিকে চলে আসতে পারে।
তিমি দেখতে সৈকতে মানুষের ভিড়
শুক্রবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে একটি মরা তিমি ভেসে আসার খবরে সেখানে হাজারো উৎসুক মানুষের ঢল নামে।
সকালে জোয়ারের কারণে এটি দেখা না গেলেও দুপুরে এটি দৃশ্যমান হয়।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বনবিভাগ, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা ছাড়াও বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
পরে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী মরা তিমিটির ময়নাতদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে আসেন। তবে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত মরা তিমিটিকে পৌরসভার ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে সৈকত থেকে টেনে তীরে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
কক্সবাজার শহরের দরিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা পরিবেশবিদ আহমদ গিয়াস বাংলানিউজকে জানান, এর আগে ৯০ সালের দিকে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে প্রায় ৬৫ ফুট লম্বা এরকম মরা একটি তিমি ভেসে আসে। প্রায় তিন দশক পর আবারও এতবড় কোনো মরা তিমি ভেসে এলো।
স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, ৪৪ ফুট লম্বা এই তিমির ওজন প্রায় আড়াই টন হতে পারে।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা বলেন, মৃত তিমিটি তোলার জন্য কাজ চলছে।













